← সব লেখা

বদনজর — লক্ষণ, বাঁচার দোয়া ও কাটানোর আমল

বদনজরনজরহাসাদদোয়া

বদনজর নিয়ে দুই রকম ভুল আমাদের সমাজে চলে। কেউ একে পুরোপুরি অস্বীকার করেন, আবার কেউ প্রতিটি অসুস্থতা ও বিপদকেই নজরের ফল ভাবেন। এই পাতায় বদনজরের লক্ষণ, বাঁচার দোয়া ও আমল — সবটা এক জায়গায় সাজানো আছে।

বদনজর কি সত্যিই আছে?

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الْعَيْنُ حَقٌّ

বদনজর সত্য। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ এটি কুসংস্কার নয়, বাস্তবতা — তবে তা প্রভাব ফেলে কেবল আল্লাহর অনুমতিক্রমেই। ক্ষতি ও শিফা দুটোই তাঁরই হাতে।

বদনজরের লক্ষণ

লক্ষণগুলো এককভাবে নিশ্চিত প্রমাণ নয় — একসাথে অনেকগুলো থাকলে তখন সন্দেহ করা যায়:

  • হঠাৎ শরীর ভারী লাগা, অকারণ ক্লান্তি, কাজে মন না বসা
  • ঘন ঘন হাই ওঠা বা চোখে পানি আসা, বিশেষত কুরআন শোনার সময়
  • হঠাৎ অসুস্থতা যার কোনো চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা মিলছে না
  • ঘরে অকারণ ঝগড়া, অস্থিরতা, বরকত কমে যাওয়া
  • প্রশংসা বা কারও দৃষ্টি পড়ার পরপরই সমস্যা শুরু হওয়া

সব অসুস্থতা বদনজর নয়। জ্বর, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যার পেছনে সাধারণ শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে। আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, রুকইয়াহ তার পাশাপাশি চলুক।

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া

সকাল-সন্ধ্যার নিয়মিত আমল

  • আয়াতুল কুরসী — একবার
  • সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস — তিনবার করে

তিন সূরা পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলানোর অভ্যাস রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি রাতে করতেন।

আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় চাই তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। (সহীহ মুসলিম)

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী)

নিজের নজর যেন কারও না লাগে

কারও সন্তান, সম্পদ, চেহারা বা সাফল্য দেখে ভালো লাগলে বরকতের দোয়া করা সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন একজনকে বলেছিলেন — "তুমি বরকতের দোয়া করলে না কেন?"

  • মুগ্ধ হলে বলুন: "মাশাআল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ"
  • অন্যের জন্য দোয়া করুন: "বারাকাল্লাহু লাক"

নজর লেগে গেলে করণীয়

  1. আতঙ্কিত না হওয়া — ভয় ও অস্থিরতা কষ্ট বাড়ায়, আল্লাহর উপর ভরসাই প্রথম চিকিৎসা।
  2. নিজে নিজে রুকইয়াহ করা — সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও শেষ তিন সূরা পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করা ও গোসল করা।
  3. নিয়মিত ও ধৈর্যের সাথে চালিয়ে যাওয়া — একদিনে ফল না পেলে হতাশ না হওয়া।
  4. প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাকীর পরামর্শ নেওয়া।

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৮২)

এই বিষয়ে সব লেখা (২৫টি)

আরও পড়ুন