← সব লেখা

তাবিজ

তাবিজ — জায়েজ কি না, আর বিকল্প কী

তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ, কোন তাবিজ স্পষ্ট শিরক, আলিমদের মতভেদ কোথায়, আর তাবিজের শরীয়তসম্মত বিকল্প কী।

তাবিজশিরকরুকইয়াহআকীদা
এই লেখায় যা আছে
  1. যে তাবিজ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই
  2. যেখানে মতভেদ আছে
  3. শরীয়তসম্মত বিকল্প — যা নবীজি ﷺ নিজে করেছেন
  4. গলায় তাবিজ থাকলে কী করবেন
  5. এই বিষয়ে সব লেখা (২টি)

রোগ, বিপদ বা বদনজর থেকে বাঁচতে গলায় বা হাতে তাবিজ বাঁধার চল আমাদের সমাজে ব্যাপক। প্রশ্নটা সহজ নয় — কারণ সব তাবিজ এক নয়, আর সব ধরনের ব্যাপারে আলিমদের অবস্থানও এক নয়।

যে তাবিজ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই

কুরআন-সুন্নাহর বাইরের জিনিস দিয়ে তৈরি তাবিজ — অস্পষ্ট শব্দ, সংখ্যার ছক, প্রতীক, জিনের নাম, অচেনা ভাষার লেখা — এসব ব্যবহার নিয়ে আলিমদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই; এগুলো নিষিদ্ধ, এবং অনেক ক্ষেত্রে শিরক।

কারণ এখানে ক্ষতি দূর করার ক্ষমতা আরোপ করা হচ্ছে এমন কিছুর উপর, যা আল্লাহ সে ক্ষমতা দেননি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — "যে তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল।" (মুসনাদে আহমাদ)

আর যে তাবিজে জিনের সাহায্য চাওয়া হয়, বা জাদুকরের কাছ থেকে নেওয়া হয়, সেটি আরও গুরুতর।

যেখানে মতভেদ আছে

কেবল কুরআনের আয়াত লিখে ঝুলানো তাবিজ নিয়ে সাহাবী ও পরবর্তী আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ একে অনুমোদন করেছেন; তবে ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ অনেকে এবং সমকালীন বহু আলিম এটিকেও নিষেধ করেছেন — মূলত তিনটি কারণে:

  1. নিষেধাজ্ঞার হাদীসগুলো ব্যাপক, কোনো ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়নি
  2. অনুমতি দিলে দরজা খুলে যায় — সাধারণ মানুষ কুরআনি আর অকুরআনি তাবিজের পার্থক্য করতে পারে না, আর জাদুকররা ঠিক এই ফাঁকটাই ব্যবহার করে
  3. কুরআনের সম্মান রক্ষা — তাবিজ অপবিত্র জায়গাতেও সাথে যায়

তাই সতর্কতার দাবি হলো তাবিজ এড়িয়ে যাওয়া, বিশেষত যখন সহজ ও নিরাপদ বিকল্প হাতের কাছেই আছে।

শরীয়তসম্মত বিকল্প — যা নবীজি ﷺ নিজে করেছেন

তাবিজের বদলে যা করবেন:

  • পড়া — নিজের উপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, শেষ তিন সূরা পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানো
  • পড়া পানি — আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা ও গোসল করা
  • সকাল-সন্ধ্যার আযকার নিয়মিত ধরে রাখা
  • ঘরে সূরা বাকারা পড়া বা শোনানো

পার্থক্যটা মৌলিক: তাবিজ একটি বস্তুর উপর ভরসা, আর রুকইয়াহ সরাসরি আল্লাহর কাছে চাওয়া। প্রথমটিতে ভরসার জায়গা সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, দ্বিতীয়টিতে থাকে না।

গলায় তাবিজ থাকলে কী করবেন

খুলে ফেলুন এবং নষ্ট করে দিন। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই — ক্ষতি ও শিফা দুটোই আল্লাহর হাতে, কোনো বস্তুর হাতে নয়। এরপর নিয়মিত রুকইয়াহ শুরু করুন।

মাসআলাগত বিস্তারিত জানতে নির্ভরযোগ্য আলিমের শরণাপন্ন হোন। এই লেখাটি সাধারণ দিকনির্দেশনা, ব্যক্তিগত ফতোয়া নয়।

এই বিষয়ে সব লেখা (২টি)

রুকইয়াহ কীভাবে করবেন — এই বিষয়ে আরও

গাইড ও প্রোটোকল

অডিও

PDF গাইড

ব্লগ

রুকইয়াহ কীভাবে করবেন — সব গাইড, অডিও, PDF ও লেখা →

আরও পড়ুন