নজর লাগা সত্য — কিন্তু সব বিপদের নাম নজর নয়
নজর লাগা সত্য — এ ব্যাপারে কুরআন ও সহীহ হাদীস দুই জায়গাতেই স্পষ্ট কথা আছে। সূরা ফালাকে আল্লাহ নিজেই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে শিখিয়েছেন।
হাসাদ হলো অন্তরের অবস্থা: কারও নিয়ামত দেখে তা নষ্ট হওয়ার কামনা করা। নজর হলো তার প্রকাশ — দৃষ্টির মাধ্যমে সেই ক্ষতি পৌঁছে যাওয়া। একজন মানুষ হিংসা না করেও নজর লাগাতে পারে, নিছক মুগ্ধ হয়ে; আবার হিংসা পুষে রেখেও কিছু না বলে চুপ থাকতে পারে।
এ কারণেই সুন্নাহর প্রতিকারও দুই রকম। নিজের অন্তরকে হিংসা থেকে পরিষ্কার রাখা এক জিনিস, আর অন্যের নজর থেকে হিফাজত চাওয়া আরেক জিনিস। বেশিরভাগ মানুষ কেবল দ্বিতীয়টা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
হঠাৎ ক্লান্তি, ঘন ঘন হাই ওঠা, শরীর ভার লাগা, নতুন কিছু পাওয়ার পরপরই বিপদ — এগুলো নজরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বলা হয়। কিন্তু ‘সম্ভাব্য’ শব্দটা জরুরি। এই প্রতিটি লক্ষণের সাধারণ শারীরিক কারণও থাকতে পারে — রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড, ঘুমের অভাব, বিষণ্নতা।
একজন রাকীর কাছে যত রোগী আসেন, তাঁদের একটা বড় অংশের সমস্যা আসলে চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যা। রুকইয়াহ শুরু করার আগে ডাক্তারি পরীক্ষা বাদ দেওয়া উচিত নয় — বরং দুটো পাশাপাশি চলবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজরের জন্য রুকইয়াহ করতে বলেছেন, এবং নিজেও করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ অবশ্য প্রতিকারের আগেই — সুন্দর কিছু দেখলে বরকতের দোয়া করা।
‘মাশাআল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ’ বলা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি স্বীকৃতি যে নিয়ামত আল্লাহর দেওয়া, আর সেই স্বীকৃতিই হিংসার দরজা বন্ধ করে দেয়।
নিজের নিয়ামত প্রকাশের ব্যাপারেও সংযম রাখা সুন্নাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সন্তানের ছবি, নতুন ঘর, ব্যবসার অগ্রগতি — সবকিছু সবার সামনে না আনাটা অবিশ্বাস নয়, সতর্কতা।
নজর সন্দেহ হলে অনেকে নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ শুরু করেন — প্রতিবেশী, আত্মীয়, সহকর্মী। এটি ভয়ানক ভুল। কে নজর দিয়েছে তা গায়েবের বিষয়, আর গায়েব কেবল আল্লাহ জানেন। সন্দেহের বশে কাউকে অভিযুক্ত করা অপবাদ, আর অপবাদ নিজেই একটি বড় গুনাহ।
দ্বিতীয় ভুল হলো ‘কে করেছে বলে দিন’ এমন কারও কাছে যাওয়া। যিনি গায়েবের খবর দেওয়ার দাবি করেন, তাঁর কাছে যাওয়াই নিষিদ্ধ — তাঁর কথা বিশ্বাস করা তো আরও গুরুতর। রুকইয়াহ মানে আল্লাহর কালাম দিয়ে চিকিৎসা, গোয়েন্দাগিরি নয়।