← সব লেখা

বদনজর

বদনজর থেকে বাঁচার দৈনন্দিন আমল

বদনজর সত্য — কুরআন ও সহীহ সুন্নাহভিত্তিক যে আমলগুলো প্রতিদিন করলে আল্লাহর ইচ্ছায় সুরক্ষা পাওয়া যায়।

বদনজরআমলসুরক্ষা
এই লেখায় যা আছে
  1. বদনজর কি সত্যিই আছে?
  2. প্রতিদিনের সুরক্ষার আমল
  3. ১. সকাল-সন্ধ্যার যিকির
  4. ২. আশ্রয় প্রার্থনার দুআ
  5. ৩. ঘর থেকে বের হওয়ার আগে
  6. নিজে যেন কারও নজর না লাগে
  7. নজর লেগে গেলে করণীয়

বদনজর বা "নজর লাগা" আমাদের সমাজে বহুল আলোচিত, কিন্তু এর ব্যাপারে ভুল ধারণাও কম নয়। কেউ একে পুরোপুরি অস্বীকার করেন, আবার কেউ প্রতিটি অসুস্থতা ও বিপদকেই নজরের ফল ভাবেন। ইসলাম এ দুই প্রান্তিকতার মাঝামাঝি একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান শেখায়।

বদনজর কি সত্যিই আছে?

রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন:

الْعَيْنُ حَقٌّ

বদনজর সত্য। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ এটি কোনো কুসংস্কার নয়, বরং একটি বাস্তবতা যা আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমেই কেবল প্রভাব ফেলতে পারে। একই সাথে মনে রাখতে হবে — ক্ষতি ও শিফা উভয়ই আল্লাহর হাতে। কোনো মানুষ, তাবিজ বা আমল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু ঘটাতে পারে না।

সব অসুস্থতা বদনজর নয়। জ্বর, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যার পেছনে সাধারণ শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে। আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, রুকইয়াহ তার পাশাপাশি চলুক।

প্রতিদিনের সুরক্ষার আমল

১. সকাল-সন্ধ্যার যিকির

সকালে ফজরের পর ও সন্ধ্যায় আসরের পর নিয়মিত পড়ুন:

  • আয়াতুল কুরসী — একবার
  • সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস — তিনবার করে

এই তিন সূরা পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলানোর অভ্যাস রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি রাতে করতেন।

২. আশ্রয় প্রার্থনার দুআ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় চাই তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। (সহীহ মুসলিম)

সন্ধ্যায় তিনবার পড়লে সে রাতে কোনো কিছুর ক্ষতি স্পর্শ করবে না — হাদীসে এমন সুসংবাদ এসেছে।

৩. ঘর থেকে বের হওয়ার আগে

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী)

সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার পড়া সুন্নাহ।

নিজে যেন কারও নজর না লাগে

বদনজর থেকে বাঁচার আলোচনায় এই দিকটি প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। কারও সন্তান, সম্পদ, চেহারা বা সাফল্য দেখে ভালো লাগলে বরকতের দুআ করা সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন একজনকে বলেছিলেন — "তুমি বরকতের দুআ করলে না কেন?"

  • মুগ্ধ হলে বলুন: "মাশাআল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ"
  • অন্যের জন্য দুআ করুন: "বারাকাল্লাহু লাক"

এতে নিজের অন্তরও হাসাদ থেকে পরিচ্ছন্ন থাকে, অন্যের জন্যও কল্যাণ হয়।

নজর লেগে গেলে করণীয়

  1. আতঙ্কিত না হওয়া — ভয় ও অস্থিরতা কষ্ট বাড়ায়, আল্লাহর উপর ভরসাই প্রথম চিকিৎসা।
  2. নিজে নিজে রুকইয়াহ করা — সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, শেষ তিন সূরা পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করা ও গোসল করা।
  3. নিয়মিত ও ধৈর্যের সাথে চালিয়ে যাওয়া — একদিনে ফল না পেলে হতাশ না হওয়া।
  4. প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাকীর পরামর্শ নেওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৮২)

শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমাদের দায়িত্ব কেবল আমল করে যাওয়া আর ধৈর্য ধরা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আমীন।

বদনজর ও হাসাদ — এই বিষয়ে আরও

গাইড ও প্রোটোকল

অডিও

PDF গাইড

ব্লগ

বদনজর ও হাসাদ — সব গাইড, অডিও, PDF ও লেখা →

সুরক্ষা ও দৈনিক আমল — এই বিষয়ে আরও

গাইড ও প্রোটোকল

অডিও

PDF গাইড

ব্লগ

সুরক্ষা ও দৈনিক আমল — সব গাইড, অডিও, PDF ও লেখা →

আরও পড়ুন