← শাইখ হিবশী সিরিজ

সন্তানের ছবি আর নজরের দরজা

রুকইয়াহবদনজরসন্তানসোশ্যাল মিডিয়া

ছেলেটা রুকইয়াহর পর ভালো হয়ে গিয়েছিল। মা আবার ছবি দিলেন। বললেন — কী করব, ইচ্ছে করে যে। শাইখের উত্তরটা কাউকে দোষারোপ নয়।

যে দৃশ্যটা শাইখ বলেছেন

আলবেনিয়ার এক দাঈ শাইখকে জিজ্ঞেস করলেন — আমাদের এখানে মানুষ ফেসবুকে বাচ্চাদের ছবি দেয়, তারপর বাচ্চাগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন কেন হয়?

এক মা তার ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন। রুকইয়াহর পর ছেলেটা ভালো হলো। তাকে বারবার বলা হলো — আর ছবি দেবেন না। কিছুদিন পর আবার দিলেন।

শাইখ বললেন, এটা শুধু ওখানকার ব্যাপার না। আরব দেশেও একই — বাচ্চা, ঘরের সাজ, নিজের হাতে রাঁধা খাবার। ব্যবসার জন্য না; শুধু দেখো আমি কী বানিয়েছি দেখানোর জন্য।

আসল কথাটা

সমস্যাটা ছবি তোলা নয় — সমস্যাটা তাবাহি, অর্থাৎ দেখানোর মানসিকতা। ওটাই নজরের দরজা খুলে দেয়।

কেউ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা তার অপরাধ নয় — দোষারোপের জায়গা এটা না। তবু শাইখ নরম গলায় বলেন, এই পথ যারা ছাড়ে না, তাদের কারো কারো আফসোস পরে আর কাজে আসে না।

কুরআন যা বলছে

قَالَ يَٰبُنَىَّ لَا تَقْصُصْ رُءْيَاكَ عَلَىٰٓ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا۟ لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لِلْإِنسَٰنِ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌۭ

তিনি বললেন: বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা ইউসুফ, আয়াত ৫)

ইয়াকুব আ. স্বপ্নটা গোপন রাখতে বলেছিলেন — নিজের ভাইদের থেকেই। নিয়ামত লুকিয়ে রাখা নবীদের আদব; এটা কাউকে সন্দেহ করা নয়, সতর্ক থাকা।

আজ যা করবেন

  1. বাচ্চার ছবি পাবলিক পোস্টে রাখবেন না — আজ থেকেই।
  2. পুরোনো ছবি-অ্যালবামগুলো মুছে দিন বা প্রাইভেট করে নিন।
  3. নিজের বা সন্তানের নিয়ামত চোখে পড়লেই বলুন — মাশাআল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ
  4. সন্তানের জন্য সকাল-সন্ধ্যার আশ্রয়-দোয়াগুলো নিয়ম করে পড়ুন।

সূত্র: শাইখ খালিদ বিন ইবরাহীম আল-হিবশী (রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ)-এর আলোচনা অবলম্বনে

অনুবাদ ও সংকলন: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত — আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার

আরও পড়ুন