← শাইখ হিবশী সিরিজ

নামাজে দাঁড়ালেই যা ঘটে যায়

রুকইয়াহনামাজগুনাহসুরক্ষা

বান্দা নামাজে দাঁড়ালে তার গুনাহগুলো এনে মাথা ও কাঁধের উপর রাখা হয় — তারপর প্রতিটা রুকু-সিজদায় সেগুলো ঝরে পড়তে থাকে।

যে দৃশ্যটা শাইখ বলেছেন

ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত একটা কথা শাইখ রোগীদের বারবার শোনান। দৃশ্যটা একবার কল্পনা করুন।

বান্দা নামাজে দাঁড়াল। তখন তার সব গুনাহ এনে তার মাথা ও দুই কাঁধের উপর রেখে দেওয়া হয়। সে যতবার রুকু করে, যতবার সিজদায় যায় — ততবার সেগুলো ঝরে পড়ে।

নামাজ শেষে সে উঠে দাঁড়ায় — কাঁধটা হালকা। (বর্ণনাটি সহীহ ইবনে হিব্বান ও বাইহাকীতে এসেছে; আলবানী রহ. একে সহীহ বলেছেন।)

আমরা প্রতিদিন পাঁচবার এই দৃশ্যের ভেতর দিয়ে যাই — শুধু খেয়াল করি না

শাইখের প্রশ্নটা

প্রতিটা ফরজেই কেন সব গুনাহ আবার এনে হাজির করা হয়? কারণ দুই নামাজের মাঝখানে আমরা কত কিছু জমিয়ে ফেলি।

গাফলতির ওই ফাঁকটায় চোখ, কান, মুখ — সব চলতেই থাকে। একটা বেপরোয়া কথাই মানুষকে জাহান্নামে ফেলে দিতে পারে। তাই নামাজ হালকাভাবে নেবেন না — ফরজও না, নফলও না।

নবীজি ﷺ-এর উপমা

أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا، هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ؟ قَالُوا: لَا يَبْقَى. قَالَ: فَذَٰلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا

তোমরা কি মনে করো, তোমাদের কারো দরজায় যদি একটি নদী থাকে আর সে প্রতিদিন তাতে পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকবে? তারা বলল: কিছুই থাকবে না। তিনি বললেন: এটাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উপমা — আল্লাহ এর মাধ্যমে গুনাহ মুছে দেন। (সহীহ বুখারী ৫২৮, সহীহ মুসলিম ৬৬৭)

রুকইয়াহর রোগীর জন্য এটা সরাসরি কাজের কথা। গুনাহ কমা মানে শয়তানের দরজা বন্ধ হওয়া — নামাজ প্রতিদিন পাঁচবার সেই দরজাটা ধুয়ে দেয়।

আজ যা করবেন

  1. পাঁচ ওয়াক্ত সময়মতো — পুরুষ হলে যথাসাধ্য জামাতে।
  2. রুকু-সিজদায় তাড়াহুড়ো বন্ধ; তাসবিহটা অন্তত তিনবার শেষ করুন।
  3. নামাজ শেষে বসে কয়েকবার ইস্তিগফার — মাঝখানে জমা ধুলোটার জন্য।
  4. মুখের কথায় সতর্ক থাকুন — যা বলছি, তারও হিসাব দিতে হবে।

সূত্র: শাইখ খালিদ বিন ইবরাহীম আল-হিবশী (রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ)-এর আলোচনা অবলম্বনে

অনুবাদ ও সংকলন: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত — আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার

আরও পড়ুন