← শাইখ হিবশী সিরিজ

বাসায় কাঁদেন, মলে কাঁদেন না কেন?

রুকইয়াহসবররাকীর ডায়েরিরুকইয়াহ পদ্ধতি

একই কাটা, একই ব্যথা — শুধু জায়গাটা আলাদা। শাইখ এই একটা দৃশ্য দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

যে দৃশ্যটা শাইখ বলেছেন

রুকইয়াহ চলছিল। এক বোন প্রচণ্ড চিৎকার করছিলেন। থামার পর বললেন — আমি নিজেকে ধরে রাখতেই পারি না।

শাইখ বললেন, ধরুন বাসায় আপনার পা কেটে গেল। আপনি কাঁদবেন, চিৎকার করবেন, পা তুলে ধরবেন, বরফ চাইবেন — সবাই ছুটে আসবে।

এখন ঠিক ওই একই কাটা যদি শপিং মলে হয়? তখন বলবেন, “কিছু হয়নি, আমি ঠিক আছি।” মানুষের সামনে লজ্জাটাই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ শিখিয়ে দেয়।

শাইখ যা স্পষ্ট করে বলেছেন

আমি বলছি না সমস্যাটা মানসিক — বলছি, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মানুষের সামনে যদি সম্ভব হয়, শয়তানের সামনেও সম্ভব।

আর চিৎকার করলে তারা কষ্ট আর ভয় আরও বাড়িয়ে দেয় — কারণ সেটাই তাদের চাওয়া। আপনি যত শান্ত থাকবেন, তাদের হাতিয়ারটা তত ভোঁতা হবে।

দলিলটা — সবরের হিসাব হয় না

إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍۢ

যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত। (সূরা যুমার, আয়াত ১০)

রুকইয়াহর যে মুহূর্তটা সবচেয়ে অসহ্য, ঠিক সেই মুহূর্তে দাঁত চেপে টিকে থাকাটাই এই আয়াতের সবর — আর তার পুরস্কারের কোনো হিসাব নেই

আজ যা করবেন

  1. চিৎকার আসতে চাইলে দাঁত চেপে যিকিরটা চালিয়ে যান
  2. শ্বাস ধীর করুন — নাক দিয়ে টানুন, মুখ দিয়ে আস্তে ছাড়ুন।
  3. কষ্ট বাড়লেই রুকইয়াহ থামাবেন না; দরকার হলে আওয়াজটা কমান।
  4. কষ্ট বাড়া মানে কাজ হচ্ছে — এটা ভয়ের প্রমাণ নয়।

সূত্র: শাইখ খালিদ বিন ইবরাহীম আল-হিবশী (রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞ)-এর আলোচনা অবলম্বনে

অনুবাদ ও সংকলন: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত — আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার

আরও পড়ুন