← শেখার শিল্প — ৩০ দিন

আপনার সময়ের ২০% ৮০% ফল দেয়

শেখারশিল্পপ্রোডাক্টিভিটিশিক্ষার্থীবই
আপনার সময়ের ২০% ৮০% ফল দেয়

একটা হিসাব দিয়ে শুরু করি, যেটা প্রথমবার শুনলে অস্বস্তি লাগে।

আপনার সময়ের ২০ শতাংশ ৮০ শতাংশ ফল দেয়।

মানে দাঁড়াচ্ছে — আপনার দিনের বেশিরভাগ সময়টা তুলনামূলক কম ফল দিচ্ছে।

এটা অলসতার অভিযোগ নয়। এটা কাঠামোর কথা। এবং এটা জানা থাকলে অনেক কিছু বদলে যায়।

আজ তিনটে স্তম্ভের কথা বলব।

স্তম্ভ ১ — Pareto principle (৮০/২০)

প্রথম কাজ: আগে থেকে সময় নিয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করুন।

পড়তে বসে ঠিক করবেন না কী পড়বেন — আগেই ঠিক করে রাখুন। কারণ বসার পর সিদ্ধান্ত নিতে গেলে মস্তিষ্ক সবচেয়ে সহজ কাজটাই বেছে নেয়, সবচেয়ে জরুরিটা নয়।

দ্বিতীয় কাজ, আর এটা কঠিন: বাকি ৮০ শতাংশ কম-ফলদায়ক কাজ কাটুন — খারাপ লাগলেও।

সব নোট সুন্দর করে লেখা, সব অধ্যায় সমানভাবে পড়া, প্রতিটা খুঁটিনাটি মুখস্থ করা — এগুলো কাটতে কষ্ট হয়, কারণ মনে হয় "যদি এটাই আসে?" কিন্তু সব ধরে রাখতে গেলে কিছুই ঠিকমতো হয় না।

তৃতীয় কাজ, আর এটা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত: বিশ্রাম, ঘুম আর শখকেও উৎপাদনশীলতার অংশ ধরুন। এগুলো সময় নষ্ট নয়; এগুলো ইঞ্জিনের জ্বালানি।

Pareto squared — আসল জাদুটা এখানে

এবার একধাপ এগোই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা বেছে নিলেন (সেটা আপনার ২০%)। এবার সেই কাজটাকেও ভেঙে তার ভেতরের ২০ শতাংশ ধাপ খুঁজুন।

হিসাবটা দেখুন: ২০% এর ২০% = ৪% সময়। আর ৮০% এর ৮০% = ৬৪% ফল

মাত্র ৪ শতাংশ সময়ে ৬৪ শতাংশ ফল।

এর তিনটে সুফল আছে: ফল আসে অনেক দ্রুত, procrastination কমে (কারণ কাজটা ছোট মনে হয়), আর সাফল্যের হার বেড়ে যায়।

স্তম্ভ ২ — Zeigarnik effect

মনোবিজ্ঞানের একটা চমৎকার আবিষ্কার: অসমাপ্ত কাজ মস্তিষ্কে টান তৈরি করে। শেষ করা কাজ মস্তিষ্ক ছেড়ে দেয়, অসমাপ্ত কাজ ঘুরতে থাকে।

এর মানে কী?

কাজ "শেষ করা" নয়, "শুরু করে অসমাপ্ত রেখে দেওয়া"-ই আপনার জয়ের শর্ত।

শুধু শুরু করে ফেলুন। প্রথম প্যারাগ্রাফটা পড়ুন, প্রথম অঙ্কটা ধরুন। বাকিটা নিজে থেকেই টানবে।

আর এই কারণেই "আজ পুরো অধ্যায় শেষ করব" — এই লক্ষ্যটা কাজ করে না, কিন্তু "আজ শুধু শুরু করব" — এটা করে।

Zeigarnik squared ও reverse

Squared: "শুরু করার আগে শুরু" করুন। ডেস্ক গুছিয়ে রাখুন, বই খুলে রাখুন, do-not-disturb দিয়ে রাখুন — আগের রাতে। তাহলে সকালে বসাটাই আর কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

Reverse: এই নীতিটা উল্টো দিকেও কাজ করে। খারাপ অভ্যাস শুরু করাকে কঠিন করুন। ফোনটা অন্য ঘরে, চার্জারসহ। অ্যাপগুলো লগ আউট করা। প্রতিটা বাড়তি ধাপ আপনার পক্ষে কাজ করবে।

আর ChatGPT, রিমাইন্ডার আর automation দিয়ে ভালো কাজগুলোর শুরুটা আরও সহজ করে ফেলুন।

স্তম্ভ ৩ — Championship mentality

এটা মানসিক স্তম্ভ, আর দীর্ঘমেয়াদে এটাই সবচেয়ে জরুরি।

চূড়ান্ত লক্ষ্যে জিততে পথের প্রতিটা ছোট খেলা জেতা জরুরি নয়।

একটা ক্লাস টেস্টে খারাপ করলেন? একদিন রুটিন ভাঙল? একটা অধ্যায় বুঝলেন না?

চ্যাম্পিয়ন দল সব ম্যাচ জেতে না। তারা চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে।

কখনো একটা খেলা হেরে মূল্যবান তথ্য নিন — কোথায় দুর্বলতা, কোন প্রস্তুতিটা কাজ করেনি। তারপর আরও ভালো পরিকল্পনা করুন।

কিন্তু এর জন্য দুটো জিনিস স্পষ্ট থাকতে হবে:

  • আপনার "চ্যাম্পিয়নশিপ" আসলে কী? (বোর্ড পরীক্ষা? ভর্তি পরীক্ষা? দক্ষতা অর্জন?)
  • আর একটা খেলা হারার আসল পরিণতি কী? (সাধারণত আমরা যা ভাবি, তার চেয়ে অনেক কম।)

আর সবশেষে — সময় নয়, কাজ

এটাই সবচেয়ে জরুরি কথা।

নিশ্চয়তা আসে কাজ থেকে, নিছক সময় পার করা থেকে নয়।

"আরেকটু প্রস্তুত হয়ে নিই, তারপর শুরু করব" — এই ভাবনাটা সবচেয়ে বেশি সময় খায়। কারণ প্রস্তুতি কখনো "যথেষ্ট" মনে হয় না।

"পরে করব" না ভেবে আজই একটা ছোট পরীক্ষা চালান। কাল যাচাই করুন কেমন হলো। প্রতিদিন একটু করে iterate করুন।

নাহলে যেটা হয় — সেই শেখার সময়টা পরে ব্যর্থতা এসে আদায় করে নেয়। আর তখন খরচটা অনেক বেশি।

আগামীকাল দিন ২৩ — ক্লান্তি কাটিয়ে সত্যিকারের বিশ্রাম নেওয়ার উপায়

আজ শুধু একটা কাজ — আগামীকাল সকালে যা পড়বেন, বইটা খুলে টেবিলে রেখে ঘুমাতে যান। Zeigarnik squared.

আল্লাহ আমাদের সময়ে বরকত দিন। আমিন।

লেখাটি "শেখার শিল্প" বইয়ের একটি অংশ নিয়ে। পুরো কাঠামো, বাকি অধ্যায় এবং ইলম, দোয়া ও রুকইয়াহ পর্বটি বইটিতে রয়েছে — বইটি দেখুন

আরও পড়ুন