কৌশল যত ভালোই হোক, তাওফিক ছাড়া কিছুই হয় না
গত চৌদ্দ দিন ধরে আমরা কৌশলের কথা বলেছি। Encoding, PACER, GRIND, মনোযোগ, নোট।
আজ একটু থামি।
কারণ একটা কথা আছে যেটা এই পুরো সিরিজের ভিত্তি — আর আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।
কৌশল যত ভালোই হোক, আল্লাহর তাওফিক ছাড়া কিছুই পূর্ণতা পায় না।
ইলম আল্লাহর দান। আমাদের কাজ চেষ্টা করা, আর চাওয়া। এই দুটোর একটাও বাদ দিলে হিসাব মেলে না।
তাই আজ বইয়ের দ্বিতীয় পর্ব থেকে কিছু কথা।
সবচেয়ে ছোট, অথচ সবচেয়ে বড় দোয়া
কুরআনে আল্লাহ তাঁর নবীকে যে দোয়াটি শিখিয়েছেন —
وَقُل رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًۭا
"আর বলুন — হে আমার রব, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।" (সূরা ত্ব-হা, ২০:১১৪)
মাত্র কয়েকটি শব্দ। কিন্তু লক্ষ করুন — গোটা কুরআনে "আমাকে বাড়িয়ে দিন" বলে চাওয়ার নির্দেশ এসেছে কেবল ইলমের ক্ষেত্রেই।
পড়তে বসার আগে, বই খোলার আগে — এই একটি বাক্য যেন বাদ না পড়ে।
জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির আয়াত
سَلَٰمٌۭ قَوْلًۭا مِّن رَّبٍّۢ رَّحِيمٍۢ
(সূরা ইয়াসীন, ৩৬:৫৮)
যে ব্যক্তি কুরআনের এই আয়াতটি অধিক পরিমাণে পাঠ করবে, আল্লাহ তার জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেবেন।
আয়াতুল কুরসীর আমল — জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য
যে ব্যক্তি চায় আল্লাহ তাআলা তার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন, সে যেন দ্বীনি ও দুনিয়াবী জ্ঞানে উন্নতি লাভ করে এবং জ্ঞান অর্জনে কোনো বাধা না আসে —
তার উচিত ওযু অবস্থায় সাত দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ৭০ বার আয়াতুল কুরসী মনোযোগের সাথে পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করা।
আল্লাহ তাআলা তাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভান্ডার দান করবেন এবং তার অন্তরকে জ্ঞানের আলো দ্বারা আলোকিত করবেন।
আল্লাহর নামের কয়েকটি যিকির
বইয়ে ২১টি আমল বিস্তারিত সাজানো আছে। এখান থেকে কয়েকটি —
- 'ইয়া আলীম' (হে সর্বজ্ঞ) — প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করলে আল্লাহ জ্ঞান ও মারেফাতের দরজা খুলে দেবেন।
- 'ইয়া ফাত্তাহু ইয়া রাজ্জাক্ব' (হে উন্মোচনকারী, হে রিজিকদাতা) — এই যিকিরে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় ও শক্তিশালী হয়।
- 'ইয়া সামী'উ ইয়া আলীম' (হে সর্বশ্রোতা, হে সর্বজ্ঞ) — স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দূর হয়, মেধা প্রখর হয়।
- 'ইয়া আলীমু ইয়া হাকীম' (হে সর্বজ্ঞ, হে পরম প্রজ্ঞাময়) — জ্ঞান, বুদ্ধি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পায়।
- 'ইয়া মুন'ইমু ইয়া ওয়াসি'' (হে নেয়ামত দানকারী, হে প্রশস্তকারী) — কুরআন মুখস্থ করা সহজ হয়।
একটা জরুরি কথা
যেকোনো আমল শুরু করার আগে তার সঠিক নিয়ম-কানুন জেনে নেওয়া উচিত, আর পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সাথে পালন করা উচিত।
আর এটাও মনে রাখবেন — আমল পরিশ্রমের বিকল্প নয়, পরিপূরক। পড়াশোনায় যথাযথ পরিশ্রম করার পাশাপাশি এই আমলগুলো আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সাফল্যের জন্য করা যেতে পারে।
যে হাত কাজ করে না, সে হাত তুলে দোয়া করলেই হয়ে যায় — ইসলাম এমনটা শেখায় না। উট বেঁধে তারপর তাওয়াক্কুল করার কথাই বলা হয়েছে।
তাই দুটোই একসাথে —
দিনের বেলা encoding, retrieval, deep work, মাইন্ড ম্যাপ। আর সেই সাথে ওযু, দোয়া, যিকির আর অন্তরের প্রশান্তি।
এই দুটো মিলেই একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণ প্রস্তুতি। জাগতিক প্রস্তুতি আর আত্মিক সুরক্ষা — এক মলাটে। ঠিক এই জিনিসটাই আমি নিজে খুঁজেছিলাম, পাইনি। তাই বইটা লিখেছি।
আগামীকাল দিন ১৬ — মনোযোগের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনার উপায়।
আজ পড়তে বসার আগে "রব্বি যিদনী ইলমা" বলে শুরু করুন। ছোট অভ্যাস, বড় বরকত।
আল্লাহ আমাদের উপকারী ইলম দান করুন, আর যা শিখি তা আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।
লেখাটি "শেখার শিল্প" বইয়ের একটি অংশ নিয়ে। পুরো কাঠামো, বাকি অধ্যায় এবং ইলম, দোয়া ও রুকইয়াহ পর্বটি বইটিতে রয়েছে — বইটি দেখুন
আরও পড়ুন
২৭ জুলাই ২০২৬ · ৩ মিনিট
১০ ঘণ্টা পড়লেন। শেখা হলো ১ ঘণ্টার।
যে হিসাবটা কেউ আপনাকে শেখায়নি — অথচ এটাই সব ঠিক করে দেয়।
২৭ জুলাই ২০২৬ · ৩ মিনিট
আপনার আসল বাধাটা ঠিক কোথায়?
সবাই কৌশল খোঁজে। কিন্তু ভুল জায়গায় কৌশল লাগালে কিছুই বদলায় না।
২৭ জুলাই ২০২৬ · ৩ মিনিট
সব ঠিক করছেন। তবু রেজাল্ট নড়ছে না কেন?
Anki চালাচ্ছেন, active recall করছেন, spaced repetition মানছেন — তবু আটকে আছেন।