بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
রুকইয়াহ প্রোটোকল
মারিদ জিন
মারিদ শয়তান-জিনের বিরুদ্ধে আয়াত ও পদ্ধতি — কঠিন, প্রতিরোধী ও দীর্ঘস্থায়ী আসরের রুকইয়াহ
✦ ✦ ✦
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center
ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল
মারিদ শব্দটি কুরআনেই এসেছে — "শাইতানুম মারিদ" (অবাধ্য/উদ্ধত শয়তান) — সূরা নিসা ১১৭, সূরা হাজ্জ ৩ এবং সূরা সাফফাত ৭ নং আয়াতে। এটি এমন এক ধরনের জিন/শয়তানকে বোঝায় যে সাধারণ ওয়াসওয়াসা বা স্বল্পমেয়াদী আসরের চেয়ে বেশি একগুঁয়ে ও প্রতিরোধী — নিয়মিত রুকইয়াহতেও সহজে সাড়া দেয় না, উপসর্গ প্রথমদিকে আরও তীব্র মনে হয়, বা সাময়িক উপশমের পর বারবার ফিরে আসে। তবে কুরআন নিজেই আমাদের আশ্বস্ত করে — আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এই মারিদেরও কোনো প্রকৃত ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই (সূরা মুজাদালাহ ১০)। একটি সতর্কতা: রুকইয়াহর সময় জিনের সাথে কথোপকথনে জড়াবেন না, তার পরিচয় বা কারণ জানতে চাইবেন না — শুধু কুরআন পড়া চালিয়ে যান, ধৈর্য ধরুন, প্রয়োজনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
যেসব লক্ষণ থাকলে এই প্রোটোকল কাজে আসবে
- নিয়মিত রুকইয়াহ চালিয়েও উপসর্গ না কমা, বরং কুরআন শুনলে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হওয়া
- রুকইয়াহর সময় প্রচণ্ড শক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করার চেষ্টা করা
- স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তি খরচ করেও শরীর নিয়ন্ত্রণে না আসা — কয়েকজন মিলেও ধরে রাখা কঠিন হওয়া
- একই সমস্যা বারবার ফিরে আসা, সাময়িক উপশমের পর আবার পুরোনো তীব্রতায় ফিরে যাওয়া
- রাতের নির্দিষ্ট সময়ে প্রচণ্ড আতঙ্ক, দমবন্ধ ভাব বা শ্বাসরোধের অনুভূতি
- ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন, আঁচড়ের দাগ বা ব্যাখ্যাতীত জখম নিয়ে জেগে ওঠা
- আজান বা কুরআন তিলাওয়াত শুনলেই তীব্র রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ প্রকাশ পাওয়া
- দীর্ঘদিনেও কোনো চিকিৎসায় কারণ খুঁজে না পাওয়া, উপসর্গ বারবার ওঠানামা করা
জরুরি নোট: উপরের লক্ষণগুলোর অধিকাংশেরই সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে।
তাই আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। রুকইয়াহ চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে,
বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুরু করার দোয়া
অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছেই আরোগ্য চাইছি।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া পাঠকারীকে কোনো কিছু আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে না। (তিরমিযী ৩৩৮৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পাঠসংখ্যা: ১৯ বার
রুকইয়াহ শুরুর আগে মনোযোগ ও নিয়ত স্থির করে পড়ুন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
(মুসলিম ২৭০৮)
মারিদ শয়তানের বিরুদ্ধে মূল আয়াত
উচ্চস্বরে, স্পষ্ট উচ্চারণে পড়ুন। মারিদের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেরিতে আসতে পারে বা প্রথমদিকে আরও তীব্র মনে হতে পারে — থামবেন না।
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطٰنٍ مَّارِدٍ ۷
এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: আল্লাহর কাছে প্রত্যেক মারিদ শয়তান থেকে সুরক্ষা চাওয়া
إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ إِلَّا إِنٰثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطٰنًا مَّرِيدًا ۱۱۷
তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মারিদ শয়তানের অসার উপাসনার প্রকৃত রূপ স্মরণ করা
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجٰدِلُ فِى اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطٰنٍ مَّرِيدٍ ۳
কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে। (তাইসীরুল কুরআন)
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: অজ্ঞানতাবশত মারিদ শয়তানের অনুসরণ থেকে হৃদয়কে মুক্ত করা
মারিদের প্রকৃত ক্ষমতাহীনতা প্রমাণকারী আয়াত
এই আয়াতগুলোই মারিদের আসল অবস্থান মনে করিয়ে দেয় — যত শক্তিশালী মনে হোক, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তার কিছুই করার নেই।
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى الْأَمْوٰلِ وَالْأَوْلٰدِ وَعِدْهُمْ ۚ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطٰنُ إِلَّا غُرُورًا ۶۴
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মারিদের প্ররোচনা ও প্রতিশ্রুতি প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়
وَلَقَدْ صَدَّقَ عَلَيْهِمْ إِبْلِيسُ ظَنَّهُۥ فَاتَّبَعُوهُ إِلَّا فَرِيقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ ۲۰
আর তাদের উপর ইবলীস তার অনুমান সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। ফলে তাদের মধ্যে মুমিনদের একটি দল ব্যতীত সকলেই তার পথ অনুসরণ করল।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: ইবলিসের অনুমান শুধু পরীক্ষা ছিল, প্রকৃত মুমিনরা তার পথে যায়নি
إِنَّمَا النَّجْوَىٰ مِنَ الشَّيْطٰنِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْـًٔا إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ۱۰
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারিদ কোনো প্রকৃত ক্ষতি করতে পারে না — তাওয়াক্কুল রাখা
وَحَفِظْنٰهَا مِن كُلِّ شَيْطٰنٍ رَّجِيمٍ ۱۷
আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: আল্লাহ প্রত্যেক বিতাড়িত মারিদ শয়তান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন
দৈনিক আশ্রয় ও হিফাজত
মারিদ কেস দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে এই দৈনিক আশ্রয়-আমল অন্তত ৪০ দিন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যান।
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ۳۶
যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: সামান্যতম কুমন্ত্রণা টের পেলেই সাথে সাথে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْءَانَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطٰنِ الرَّجِيمِ ۹۸
অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: কুরআন পড়ার আগে আউযুবিল্লাহ পড়ে শুরু করা
إِنَّ الشَّيْطٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا ۚ إِنَّمَا يَدْعُوا حِزْبَهُۥ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحٰبِ السَّعِيرِ ۶
শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: শয়তান/মারিদকে সবসময় শত্রু জ্ঞান করে সতর্ক থাকা
বিশেষ দোয়া — মারিদ জিন
এই দোয়াগুলো এই সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো। আয়াত পাঠ শেষে পড়ুন।
اللَّهُمَّ احْرِقْ كُلَّ جِنٍّ مَارِدٍ عَلَى جَسَدِي وَبَيْتِي
হে আল্লাহ! আমার শরীরে ও ঘরে থাকা সমস্ত মারিদ জিন জ্বালিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ كُلُّ تَسَلُّطٍ عَلَى جَسَدِي وَبَيْتِي
আল্লাহর নামে — আমার শরীরে ও ঘরে সমস্ত আধিপত্য বাতিল করা হলো।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ بِقُوَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ عُقِدَتْ عَلَى جَسَدِي وَبَيْتِي
হে আল্লাহ! আপনার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমার শরীরে ও ঘরে বাঁধা প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ إِنَّ كُلَّ مَارِدٍ عَاتٍ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِكَ، لَا حَوْلَ لَهُ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِإِذْنِكَ، فَاكْسِرْ شَوْكَتَهُ وَأَذِلَّ كِبْرِيَاءَهُ عَنِّي
হে আল্লাহ, প্রত্যেক উদ্ধত মারিদই আপনার সৃষ্টির একজন গোলাম মাত্র, আপনার অনুমতি ছাড়া তার কোনো শক্তি-সামর্থ্য নেই। আপনি তার দম্ভ ভেঙে দিন এবং আমার থেকে তার অহংকার দূর করে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ يَا قَوِيُّ يَا عَزِيزُ أَذِلَّ كُلَّ مَارِدٍ عَنِيدٍ وَاكْفِنِي شَرَّهُ بِمَا شِئْتَ
হে আল্লাহ, হে পরাক্রমশালী, হে পরাক্রান্ত! প্রত্যেক অবাধ্য মারিদকে হেয় করে দিন এবং আপনার ইচ্ছামতো তার অনিষ্ট থেকে আমাকে যথেষ্ট রক্ষা করুন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
সমাপ্তির সূরা ও দোয়া
প্রতিটি সেশন এভাবে শেষ করুন। শেষে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۱ اللَّهُ الصَّمَدُ ۲ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۳ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ ۴
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে হৃদয় দৃঢ় করা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۱ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۲ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۳ وَمِن شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الْعُقَدِ ۴ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ۵
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জাদু, হাসাদ ও রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۱ مَلِكِ النَّاسِ ۲ إِلٰهِ النَّاسِ ۳ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۴ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۶
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মানুষ ও জিনের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয়
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি — প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নবীজি ﷺ হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে এই দোয়া পড়ে ঝাড়তেন। (বুখারী ৩৩৭১)
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি — এমন প্রতিটি জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণ ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি ﷺ-কে এভাবে রুকইয়াহ করেছিলেন। (মুসলিম ২১৮৬)
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই — এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
(বুখারী ৫৭৪৩)
📌 সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন
ধারাবাহিকতাই মূল কথা। প্রতিদিন অল্প, কিন্তু নিয়মিত।
পদ্ধতি — ধাপে ধাপে
- অযু করে কিবলামুখী হয়ে নিরিবিলি বসুন। মোবাইল দূরে রাখুন।
- নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইছি, কালামের নিজের কোনো শক্তি নেই, শক্তি আল্লাহর।
- শুরুর দোয়াগুলো পড়ুন (অধ্যায় ১)।
- এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। পড়ার সময় দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্যার জায়গায় হাত বুলান।
- প্রতিটি আয়াতের নিচে দেওয়া নির্দেশনা বক্সে যতবার বলা আছে ততবার পড়ুন — কম-বেশি করার দরকার নেই।
- মাঝে বাংলায় নিজের ভাষায় ১৫ মিনিট মন খুলে দোয়া করুন। কান্না আসলে আটকাবেন না।
- শেষে সমাপ্তির সূরা ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ দিন চালিয়ে যান। মাঝে বাদ পড়লে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।
দৈনিক সময়সূচি
| সকাল | ফজরের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| সন্ধ্যা | মাগরিবের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| রাত | ঘুমানোর আগে — সমাপ্তির সূরা ও দোয়া, পড়া পানি পান |
| সাপ্তাহিক | সপ্তাহে একদিন রুকইয়াহ গোসল |
বাংলায় নিজের দোয়া (১৫ মিনিট)
আয়াত পাঠের মাঝে বা শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চান। নিচেরটি একটি নমুনা —
হুবহু এটাই পড়তে হবে এমন নয়, নিজের কথায় বলুন।
হে আল্লাহ, আপনার সৃষ্টির মধ্যে যত শক্তিশালী মারিদই থাকুক না কেন, আপনার অনুমতি ছাড়া তার কোনো ক্ষমতা নেই। হে আল্লাহ, তার দম্ভ চূর্ণ করে দিন, তার আধিপত্য ভেঙে দিন, আর আমার শরীর ও ঘর থেকে তাকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দিন। আমাকে ধৈর্য দিন, আমার ঈমান মজবুত করুন, আর প্রতিদিনের এই আমল আপনি কবুল করে নিন।
পড়া তেল ম্যাসাজের স্থান
মারিদ জিন-এর ক্ষেত্রে ফোকাস: মাথার তালু, কপাল, ঘাড়, মেরুদণ্ড ও বুক
সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল
| পড়া পানি | এক বোতল পানিতে রুকইয়াহর আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। দিনে ৩ বার — সকালে খালি পেটে, দুপুরে, রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। |
| পড়া মধু | খাঁটি মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন সকালে এক চামচ। সূরা নাহল ৬৯ নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে ভালো। |
| পড়া অলিভ অয়েল | জয়তুন তেলে আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সবচেয়ে ভালো। |
| কালোজিরা | প্রতিদিন সকালে ৭টি কালোজিরা পড়া মধুর সাথে। নবীজি ﷺ বলেছেন কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় আছে। (বুখারী ৫৬৮৮) |
| রুকইয়াহ গোসল | বালতি পানিতে আয়াত পড়ে ফুঁ দিন, সাথে সাত পাতা বরই পাতা বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন। মাথা থেকে ঢেলে গোসল করুন — সপ্তাহে একদিন। |
| ঘরে স্প্রে | পড়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে ঘরের কোণা, দরজা-জানালা, বিছানার নিচে ছিটিয়ে দিন। |
দৈনিক আমল
রুকইয়াহর পাশাপাশি এই আমলগুলোই দীর্ঘমেয়াদি হিফাজত দেয়।
| ফজরের পর | সূরা ইয়াসীন ১ বার |
| সকাল-সন্ধ্যা | হিসনুল মুসলিমের সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত |
| আসরের পর | সূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার |
| রাতে | সূরা ক্বফ ৩ বার, সূরা মুলক ১ বার |
| ঘুমানোর আগে | আয়াতুল কুরসী ১ বার, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল ৩ বার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলানো |
| প্রতিদিন | সাধ্যমতো সাদাকাহ — অল্প হলেও প্রতিদিন। সাদাকাহ বালা দূর করে। |
| প্রতিদিন | ফরজ নামাজ জামাতে, ইস্তিগফার ১০০ বার, দরূদ ১০০ বার |
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।