بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
আয়াত সংকলন — বাংলা অর্থসহ

আয়াতুল মালাইকাহ

ফেরেশতা-সংক্রান্ত আয়াতসমূহ

✦ ✦ ✦
শাইখ খালিদ আল-হাবাশি — alroqya.com
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center

ভূমিকা — কখন এই আয়াতগুলো পড়বেন

শাইখ খালিদ আল-হাবাশির মূল আরবি ভূমিকার বাংলা অনুবাদ।
মুসলিম ও কাফির — উভয় শ্রেণির জিন ও শয়তানের উপর এই আয়াতগুলো অত্যন্ত কঠোর। এগুলোর প্রভাব আয়াতুল আযাব, আয়াতুল ক্বাহর ও খুরুজের আয়াতের মতোই। বরং পড়ার সময় 'মালাইকা' শব্দটির পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত কঠোর এবং শয়তানের কষ্ট ও আধিপত্য যখন তীব্র হয়, তখন এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়।
এই সংকলনে: ৫৭ টি অংশ ১৪৯ টি আয়াত
আয়াতগুলো মূল সংকলনের ক্রম অনুসারেই সাজানো হয়েছে, কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। আরবি পাঠ ইন্দো-পাক (নূরানী) রীতিতে দেওয়া হয়েছে। বাংলা অনুবাদ: তাইসীরুল কুরআন — তাওহীদ পাবলিকেশন।
জরুরি নোট: রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি — প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে, বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর, বদনজর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আয়াতুল মালাইকাহ

মোট ১৪৯ টি আয়াত, ৫৭ টি অংশে।
সূরা আল-বাকারা : ৩০-৩১
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌ فِى الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّى أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝۳۰ وَعَلَّمَ ءَادَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلٰئِكَةِ فَقَالَ أَنبِـُٔونِى بِأَسْمَاءِ هٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صٰدِقِينَ ۝۳۱
স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’। এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
সূরা আল-বাকারা : ৯৭-৯৮
قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ۝۹۷ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلَّهِ وَمَلٰئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِّلْكٰفِرِينَ ۝۹۸
বল, ‘যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়েছে, (সে রাগে মরে যাক) কেননা সে তো আল্লাহর হুকুমে তোমার অন্তরে কুরআন পৌঁছিয়ে দিয়েছে, যা এর পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যাতে ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ রয়েছে’। যে ব্যক্তি আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের ও তাঁর রসূলগণের এবং জিবরাঈলের ও মীকাইলের শত্রু সাজবে, নিশ্চয়ই আল্লাহও (এসব) কাফিরদের শত্রু।
সূরা আলে ইমরান : ১৮
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُۥ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلٰئِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ۝۱۸
আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিচ্ছে যে,) তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী।
সূরা আলে ইমরান : ৪২
وَإِذْ قَالَتِ الْمَلٰئِكَةُ يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَىٰكِ عَلَىٰ نِسَاءِ الْعٰلَمِينَ ۝۴۲
স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলেছিল, ‘হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে বেছে নিয়েছেন এবং তোমাকে পবিত্র করেছেন, আর তামাম দুনিয়ার নারীদের উপর তোমাকে মনোনীত করেছেন’।
সূরা আলে ইমরান : ৮০
وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُوا الْمَلٰئِكَةَ وَالنَّبِيِّۦنَ أَرْبَابًا ۗ أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ ۝۸۰
সে ব্যক্তি তোমাদেরকে বলবে না যে, তোমরা ফেরেশতাদেরকে এবং নাবীদেরকে মা’বূদরূপে গ্রহণ কর, তোমরা মুসলিম হওয়ার পরও কি সে তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিতে পারে?
সূরা আল-আন'আম : ৮-৯
وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ۖ وَلَوْ أَنزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِىَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنظَرُونَ ۝۸ وَلَوْ جَعَلْنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنٰهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُونَ ۝۹
আর তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় না কেন? আমি যদি ফেরেশতা পাঠাতাম তাহলে (যাবতীয় ব্যাপারে) চূড়ান্ত ফায়সালাই তো হয়ে যেত, অতঃপর তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হত না। আর আমি যদি তাকে ফেরেশতা করতাম তবে তাকে মানুষের আকৃতি বিশিষ্টই করতাম, আর তাদেরকে অবশ্যই গোলকধাঁধায় ফেলে দিতাম যেমন ধাঁধাঁয় তারা এখন পড়েছে।
সূরা আল-আন'আম : ৬১-৬২
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِۦ ۖ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ۝۶۱ ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَىٰهُمُ الْحَقِّ ۚ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحٰسِبِينَ ۝۶۲
তিনি তাঁর বান্দাহদের উপর পূর্ণ কর্তৃত্বশীল, আর তিনি তোমাদের উপর রক্ষক নিযুক্ত করেন। অতঃপর তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে আমার প্রেরিতগণ (ফেরেশতারা) তার মৃত্যু ঘটায়। নিজেদের কর্তব্য পালনে তারা বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রকৃত প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। সাবধান! কর্তৃত্ব তাঁরই, আর তিনি হিসাব গ্রহণে সর্বাপেক্ষা ত্বরিতগতি।
সূরা আর-রা'দ : ১৩
وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِۦ وَالْمَلٰئِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِۦ وَيُرْسِلُ الصَّوٰعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجٰدِلُونَ فِى اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ ۝۱۳
বজ্রনাদ তাঁরই ভয়ে তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করে আর ফেরেশতারাও। তিনি গর্জনকারী বজ্র প্রেরণ করেন আর তা দিয়ে যাকে ইচ্ছে আঘাত করেন, আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। অথচ তিনি বড়ই শক্তিশালী।
সূরা আর-রা'দ : ২৩-২৪
جَنّٰتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَائِهِمْ وَأَزْوٰجِهِمْ وَذُرِّيّٰتِهِمْ ۖ وَالْمَلٰئِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ ۝۲۳ سَلٰمٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ ۝۲۴
তা হল স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে। আর তাদের পিতৃ পুরুষ, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানাদির মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও। আর ফেরেশতারা সকল দরজা দিয়ে তাদের কাছে হাজির হয়ে সংবর্ধনা জানাবে (এই বলে যে)- ‘‘তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছিলে। কতই না উত্তম পরকালের এই ঘর!’’
১০
সূরা আল-হিজর : ৬-৮
وَقَالُوا يٰأَيُّهَا الَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ ۝۶ لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلٰئِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ الصّٰدِقِينَ ۝۷ مَا نُنَزِّلُ الْمَلٰئِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُّنظَرِينَ ۝۸
তারা বলে, ‘ওহে ঐ ব্যক্তি যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো অবশ্যই পাগল। তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের নিকট ফেরেশতাদের হাজির করছ না কেন?’ যথাযথ কারণ ছাড়া আমি ফেরেশতা পাঠাই না, পাঠালে কাফিরদেরকে আর কোন অবকাশ দেয়া হবে না।
১১
সূরা আন-নাহল : ২৮-২৯
الَّذِينَ تَتَوَفَّىٰهُمُ الْمَلٰئِكَةُ ظَالِمِى أَنفُسِهِمْ ۖ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِن سُوءٍ ۚ بَلَىٰ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ۝۲۸ فَادْخُلُوا أَبْوٰبَ جَهَنَّمَ خٰلِدِينَ فِيهَا ۖ فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ ۝۲۹
ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলম করা অবস্থায়।’ অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ ক’রে বলবে, ‘আমরা তো কোন খারাপ কাজ করতাম না।’ (ফেরেশতারা জবাব দিবে) ‘বরং, তোমরা যা করছিলে আল্লাহ সে বিষয়ে খুব ভালভাবেই অবগত। কাজেই জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ কর, সেখানে তোমাদেরকে চিরকাল থাকতে হবে, দাম্ভিকদের অবাসস্থল কতই না মন্দ!’
১২
সূরা আন-নাহল : ৩৩-৩৪
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلٰئِكَةُ أَوْ يَأْتِىَ أَمْرُ رَبِّكَ ۚ كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ۝۳۳ فَأَصَابَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ۝۳۴
তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালকের ফায়সালা এসে পড়বে? তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলম করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত। কাজেই তাদের ‘আমালের মন্দ পরিণতি তাদের উপর আপতিত হল আর যে বিষয়কে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।
১৩
সূরা আল-ইসরা : ৯৪-৯৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَىٰ إِلَّا أَن قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَّسُولًا ۝۹۴ قُل لَّوْ كَانَ فِى الْأَرْضِ مَلٰئِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَّسُولًا ۝۹۵
মানুষের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন তাদেরকে ঈমান আনতে তাদের এ কথা ছাড়া অন্য কিছুই বিরত রাখে না যে, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?’ বল, ‘দুনিয়াতে যদি ফেরেশতাগণের বসবাস হত যারা নিশ্চিন্তে নিরাপদে চলাফেরা করত, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের কাছে ফেরেশতা রসূল পাঠাতাম।’
১৪
সূরা মারইয়াম : ৬৪
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ ۖ لَهُۥ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذٰلِكَ ۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا ۝۶۴
(ফেরেশতাগণ বলে) ‘আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা তাঁরই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না।
১৫
সূরা আল-আম্বিয়া : ১০৩
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّىٰهُمُ الْمَلٰئِكَةُ هٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ ۝۱۰۳
মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে না, আর ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে (এই কথা বলে যে), ‘এটাই তোমাদের দিন যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।
১৬
সূরা আল-হাজ্জ : ৭৫
اللَّهُ يَصْطَفِى مِنَ الْمَلٰئِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ۝۷۵
আল্লাহ ফেরেশতাগণের মধ্য হতে বাণীবাহক মনোনীত করেন আর মানুষদের মধ্য হতেও, আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
১৭
সূরা আল-ফুরকান : ২১-২২
۞ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلٰئِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِى أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْ عُتُوًّا كَبِيرًا ۝۲۱ يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلٰئِكَةَ لَا بُشْرَىٰ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًا مَّحْجُورًا ۝۲۲
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে আর তারা মেতে উঠেছে গুরুতর অবাধ্যতায়। যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে, অপরাধীদের জন্য সেদিন কোন সুখবর থাকবে না, আর (ফেরেশতাগণ বলবে তোমাদের সুখ-শান্তির পথে আছে) দুর্লঙ্ঘ বাধা।
১৮
সূরা আল-ফুরকান : ২৫-২৬
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمٰمِ وَنُزِّلَ الْمَلٰئِكَةُ تَنزِيلًا ۝۲۵ الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمٰنِ ۚ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى الْكٰفِرِينَ عَسِيرًا ۝۲۶
সেদিন মেঘমালা সহ আকাশ বিদীর্ণ হবে আর ফেরেশতাদেরকে ধীরে ধীরে নীচে নামিয়ে দেয়া হবে। সেদিন সত্যিকারের কর্তৃত্ব হবে দয়াময় (আল্লাহ)’র এবং কাফিরদের জন্য দিনটি হবে কঠিন।
১৯
সূরা আশ-শু'আরা : ১৯২-১৯৪
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعٰلَمِينَ ۝۱۹۲ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ ۝۱۹۳ عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ ۝۱۹۴
অবশ্যই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) একে নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার অন্তরে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
২০
সূরা আস-সাজদাহ : ১১
۞ قُلْ يَتَوَفَّىٰكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ ۝۱۱
বল, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
২১
সূরা সাবা : ২৩
وَلَا تَنفَعُ الشَّفٰعَةُ عِندَهُۥ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُۥ ۚ حَتَّىٰ إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ۖ قَالُوا الْحَقَّ ۖ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْكَبِيرُ ۝۲۳
তাঁর কাছে সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, তবে তাদের ব্যতীত যাদেরকে তিনি অনুমতি দেবেন। অতঃপর তাদের (অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী ফেরেশতার কিংবা অন্যের জন্য সুপারিশ করার অনুমতিপ্রাপ্তদের) অন্তর থেকে যখন ভয় দূর হবে তখন তারা পরস্পর জিজ্ঞেস করবে- তোমাদের পালনকর্তা কী নির্দেশ দিলেন? তারা বলবে- যা সত্য ও ন্যায় (তার নির্দেশই তিনি দিয়েছেন), তিনি সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
২২
সূরা সাবা : ৪০-৪২
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلٰئِكَةِ أَهٰؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ ۝۴۰ قَالُوا سُبْحٰنَكَ أَنتَ وَلِيُّنَا مِن دُونِهِم ۖ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ ۖ أَكْثَرُهُم بِهِم مُّؤْمِنُونَ ۝۴۱ فَالْيَوْمَ لَا يَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَلَا ضَرًّا وَنَقُولُ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّتِى كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ۝۴۲
যেদিন তিনি তাদের সববাইকে একত্রিত করবেন, অতঃপর ফেরেশতাদেরকে বলবে-ওরা কি একমাত্র তোমাদেরই পূজা করত? ফেরেশতারা বলবে- পবিত্র মহান তুমি, তুমিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়। বরং তারা জ্বিনদের পূজা করত; ওদের অধিকাংশই ওদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল। আজ তোমাদের একে অন্যের কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারবে না। যারা যুলম করেছিল তাদেরকে আমি বলব- তোমরা জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন কর যা তোমরা মিথ্যে বলে অস্বীকার করতে।
২৩
সূরা সাবা : ৫২-৫৪
وَقَالُوا ءَامَنَّا بِهِۦ وَأَنَّىٰ لَهُمُ التَّنَاوُشُ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ ۝۵۲ وَقَدْ كَفَرُوا بِهِۦ مِن قَبْلُ ۖ وَيَقْذِفُونَ بِالْغَيْبِ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ ۝۵۳ وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ كَمَا فُعِلَ بِأَشْيَاعِهِم مِّن قَبْلُ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا فِى شَكٍّ مُّرِيبٍ ۝۵۴
আর তারা বলবে- (এখন) আমরা ঈমান আনলাম। কিন্তু (ঈমান যেখানে আনতে হত সে স্থান থেকে তারা তো বহু দূরে এসে পড়েছে) এত দূরের জায়গা থেকে তারা ঈমানের নাগাল পাবে কীভাবে? তারা তো আগেই তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে বহু দূর থেকে (আন্দাজ অনুমানে) কথা ছুঁড়ে দিত। তাদের এবং তাদের কামনা-বাসনার মাঝে রেখে দেয়া হয়েছে এক প্রাচীর। তাদের মতের ও পথের লোকেদের ক্ষেত্রে পূর্বেও এমনটিই করা হয়েছিল। তারা ছিল সংশয়পূর্ণ সন্দেহে পতিত।
২৪
সূরা আস-সাফফাত : ১-১০
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ وَالصّٰفّٰتِ صَفًّا ۝۱ فَالزّٰجِرٰتِ زَجْرًا ۝۲ فَالتّٰلِيٰتِ ذِكْرًا ۝۳ إِنَّ إِلٰهَكُمْ لَوٰحِدٌ ۝۴ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشٰرِقِ ۝۵ إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ ۝۶ وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطٰنٍ مَّارِدٍ ۝۷ لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ ۝۸ دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ ۝۹ إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ ۝۱۰
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, অতঃপর যারা ধমক দিয়ে তিরস্কার করে তাদের শপথ, আর যারা (আল্লাহর) যিকর আবৃত্তিতে লিপ্ত, তোমাদের প্রকৃত ইলাহ অবশ্য একজন। যিনি আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে এবং সকল উদয় স্থলের মালিক। আমি নিকটবর্তী আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত করেছি, আর (এটা করেছি) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়ত্বান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে। যার ফলে তারা উচ্চতর জগতের কিছু শুনতে পারে না, চতুর্দিক থেকে তাদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড) (তাদেরকে) তাড়ানোর জন্য। তাদের জন্য আছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পিছু নেয়।
২৫
সূরা আস-সাফফাত : ১৬৪-১৬৬
وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ ۝۱۶۴ وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ ۝۱۶۵ وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ ۝۱۶۶
আমাদের (ফেরেশতাদের) প্রত্যেকের জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থান আছে। আমরা সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান (খেদমত দেয়ার জন্য)। আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী।
২৬
সূরা সোয়াদ : ৭১-৭৩
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰئِكَةِ إِنِّى خٰلِقٌ بَشَرًا مِّن طِينٍ ۝۷۱ فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُوا لَهُۥ سٰجِدِينَ ۝۷۲ فَسَجَدَ الْمَلٰئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ ۝۷۳
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন- আমি কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। আমি যখন তাকে সঠিকভাবে বানিয়ে ফেলব আর তার ভিতরে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সাজদাহয় পড়ে যাবে। তখন ফেরেশতারা সবাই সেজদা করল।
২৭
সূরা আয-যুমার : ৭১-৭৪
وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ ءَايٰتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هٰذَا ۚ قَالُوا بَلَىٰ وَلٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكٰفِرِينَ ۝۷۱ قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوٰبَ جَهَنَّمَ خٰلِدِينَ فِيهَا ۖ فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ ۝۷۲ وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلٰمٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خٰلِدِينَ ۝۷۳ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ ۖ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعٰمِلِينَ ۝۷۴
কাফিরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শেষে যখন তারা সেখানে পোঁছবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। তখন জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে- তোমাদের কাছে তোমাদেরই ভিতর থেকে কি রসূলগণ আসেননি যারা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত পড়ে শোনাতেন আর তোমাদেরকে যে এ দিনের সাক্ষাৎ করতে হবে এ সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করতেন? তারা বলবে- হাঁ, এসেছিল। কিন্তু (এ স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও) কাফিরদের প্রতি শাস্তির ফয়সালা অবধারিত হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হবে- জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, তোমাদেরকে চিরকাল এখানে থাকতে হবে। অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট! যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে এসে পৌঁছবে, জান্নাতের দরজাগুলো (পূর্ব থেকেই) উন্মুক্ত (দেখতে পাবে)। জান্নাতের দ্বার রক্ষীরা বলবে- তোমাদের উপর শান্তি (বর্ষিত হোক), চমৎকার কাজ করেছ তোমরা, কাজেই চিরকালের জন্য এতে প্রবেশ কর। (জান্নাতে প্রবেশ করে) তারা বলবে- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর ও‘য়াদাকে সত্যিকারভাবে পূর্ণ করেছেন, আর আমাদেরকে (জান্নাতের) যমীনের অধিকারী বানিয়ে দিয়েছেন। আমরা জান্নাতের যেথায় ইচ্ছে বসবাসের জায়গা ক’রে নিতে পারি। সৎকর্মশীলদের প্রতিফল কতই না উত্তম!
২৮
সূরা আয-যুমার : ৭৩-৭৫
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلٰمٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خٰلِدِينَ ۝۷۳ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ ۖ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعٰمِلِينَ ۝۷۴ وَتَرَى الْمَلٰئِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ ۖ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعٰلَمِينَ ۝۷۵
যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে এসে পৌঁছবে, জান্নাতের দরজাগুলো (পূর্ব থেকেই) উন্মুক্ত (দেখতে পাবে)। জান্নাতের দ্বার রক্ষীরা বলবে- তোমাদের উপর শান্তি (বর্ষিত হোক), চমৎকার কাজ করেছ তোমরা, কাজেই চিরকালের জন্য এতে প্রবেশ কর। (জান্নাতে প্রবেশ করে) তারা বলবে- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর ও‘য়াদাকে সত্যিকারভাবে পূর্ণ করেছেন, আর আমাদেরকে (জান্নাতের) যমীনের অধিকারী বানিয়ে দিয়েছেন। আমরা জান্নাতের যেথায় ইচ্ছে বসবাসের জায়গা ক’রে নিতে পারি। সৎকর্মশীলদের প্রতিফল কতই না উত্তম! তুমি ফেরেশতাদেরকে ‘আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের মাহাত্ম্য ঘোষণা ও প্রশংসা করতে দেখতে পাবে। মানুষের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার-ফয়সালা করা হবে। আর ঘোষণা দেয়া হবে যে, যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য।
২৯
সূরা গাফির : ৭-৯
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُۥ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِۦ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَىْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ۝۷ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنٍ الَّتِى وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَائِهِمْ وَأَزْوٰجِهِمْ وَذُرِّيّٰتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ۝۸ وَقِهِمُ السَّيِّـَٔاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّـَٔاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُۥ ۚ وَذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ۝۹
যারা ‘আরশ বহন করে আছে, আর যারা আছে তার চারপাশে, তারা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে আর তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ করে আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ক’রে বলে- হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তোমার রহমত ও জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছ, কাজেই যারা তাওবাহ করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে তাদেরকে ক্ষমা কর, আর জাহান্নামের ‘আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদেরকে আর তাদের পিতৃপুরুষ, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানাদির মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান যার ওয়া‘দা তুমি তাদেরকে দিয়েছ; তুমি মহা পরাক্রমশালী, মহা বিজ্ঞ। সমস্ত খারাবী থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে সমস্ত খারাবী থেকে রক্ষা করলে, তার উপর তো দয়াই করলে। ওটাই হল বিরাট সাফল্য।
৩০
সূরা গাফির : ১৫
رَفِيعُ الدَّرَجٰتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِى الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِۦ لِيُنذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ ۝۱۵
তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছে ওয়াহী প্রেরণ করেন যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করে।
৩১
সূরা গাফির : ৪৯-৫০
وَقَالَ الَّذِينَ فِى النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ ۝۴۹ قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُم بِالْبَيِّنٰتِ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۚ قَالُوا فَادْعُوا ۗ وَمَا دُعٰؤُا الْكٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلٰلٍ ۝۵۰
আগুনের বাসিন্দারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে- তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দু‘আ কর, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের শাস্তি কমিয়ে দেন। রক্ষীগণ বলবে- রসূলগণ কি স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে আসেনি? তারা (উত্তরে) বলবে, হাঁ (এসেছিল)। জাহান্নামের রক্ষীরা বলবে- তাহলে তোমরাই দু‘আ কর, কাফিরদের দু‘আ নিষ্ফলই হয়।
৩২
সূরা ফুসসিলাত : ৩০
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقٰمُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلٰئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ ۝۳۰
যারা বলে- আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না, আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে।
৩৩
সূরা আশ-শূরা : ৫
تَكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ ۚ وَالْمَلٰئِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَن فِى الْأَرْضِ ۗ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ۝۵
আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় (সুমহান আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ভীতিতে) আর ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং যারা পৃথিবীতে আছে তাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করে। জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
৩৪
সূরা আয-যুখরুফ : ১৯
وَجَعَلُوا الْمَلٰئِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبٰدُ الرَّحْمٰنِ إِنٰثًا ۚ أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ ۚ سَتُكْتَبُ شَهٰدَتُهُمْ وَيُسْـَٔلُونَ ۝۱۹
তারা দয়াময়ের বান্দাহ্ ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করে। তারা কি ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি সরাসরি দেখেছে? তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে।
৩৫
সূরা আয-যুখরুফ : ৫৩
فَلَوْلَا أُلْقِىَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِّن ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلٰئِكَةُ مُقْتَرِنِينَ ۝۵۳
(সে যদি আল্লাহর রসূলই হয়ে থাকে) তাহলে তাঁকে কেন স্বর্ণ কঙ্কন দেয়া হল না? অথবা সারিবদ্ধভাবে ফেরেশতারা কেন তার সাথে আসল না?
৩৬
সূরা আয-যুখরুফ : ৭৪-৭৮
إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِى عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُونَ ۝۷۴ لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ ۝۷۵ وَمَا ظَلَمْنٰهُمْ وَلٰكِن كَانُوا هُمُ الظّٰلِمِينَ ۝۷۶ وَنَادَوْا يٰمٰلِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مّٰكِثُونَ ۝۷۷ لَقَدْ جِئْنٰكُم بِالْحَقِّ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُونَ ۝۷۸
(আর অন্যদিকে) অপরাধীরা জাহান্নামের ‘আযাবে চিরকাল থাকবে। তাদের শাস্তি কমানো হবে না, আর তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজেরাই যালিম ছিল। তারা চীৎকার ক’রে বলবে- হে ‘মালেক (জাহান্নামের দাড়োয়ান)! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের দফারফা ক’রে দেন। সে জওয়াব দিবে- ‘তোমরা (এ অবস্থাতেই পড়ে) থাকবে’। আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী।
৩৭
সূরা মুহাম্মাদ : ২৭-২৮
فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلٰئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبٰرَهُمْ ۝۲۷ ذٰلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوٰنَهُۥ فَأَحْبَطَ أَعْمٰلَهُمْ ۝۲۸
তখন কেমন দশা হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে আর পিঠে মারতে মারতে তাদের জান বের করবে। এর কারণ এই যে, তারা তারই অনুসরণ করে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আর তারা তাঁর সন্তোষকে অপছন্দ করে, ফলে তিনি তাদের সমস্ত ‘আমাল নষ্ট করে দিয়েছেন।
৩৮
সূরা আয-যারিয়াত : ৩১-৩৪
۞ قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ ۝۳۱ قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ ۝۳۲ لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ ۝۳۳ مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ ۝۳۴
ইবরাহীম বলল- ‘ওহে আল্লাহর দূতগণ (ফেরেশতারা)! তোমাদের কাজ কী (এখন)?’ তারা বলল- ‘আমাদেরকে এক অপরাধী জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে'। যেন তাদের উপর মাটির পাথর বর্ষণ করি যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত হয়ে আছে সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য।
৩৯
সূরা আন-নাজম : ১-১৮
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ ۝۱ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ ۝۲ وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ ۝۳ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌ يُوحَىٰ ۝۴ عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ الْقُوَىٰ ۝۵ ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَىٰ ۝۶ وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَىٰ ۝۷ ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ ۝۸ فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ ۝۹ فَأَوْحَىٰ إِلَىٰ عَبْدِهِۦ مَا أَوْحَىٰ ۝۱۰ مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَىٰ ۝۱۱ أَفَتُمٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ ۝۱۲ وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ ۝۱۳ عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ ۝۱۴ عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ ۝۱۵ إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ ۝۱۶ مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ ۝۱۷ لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ ءَايٰتِ رَبِّهِ الْكُبْرَىٰ ۝۱۸
শপথ তারকার যখন তা অস্ত যায়, তোমাদের (মাঝে ছোট থেকে বড় হয়েছে সেই) সঙ্গী গুমরাহও নয় আর ভুলপথে পরিচালিতও নয়, আর সে মনগড়া কথাও বলে না। তাতো ওয়াহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়, তাকে শিক্ষা দেয় শক্তিশালী, প্রজ্ঞার অধিকারী (জিবরাঈল) সে নিজ আকৃতিতে স্থির হয়ে ছিল, আর সে ছিল ঊর্ধ্ব দিগন্তে, অতঃপর সে (নবীর) নিকটবর্তী হল, অতঃপর আসলো আরো নিকটে, ফলে [নবী (সাঃ) ও জিবরাঈলের মাঝে] দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা আরো কম। তখন (আল্লাহ) তাঁর বান্দাহর প্রতি ওয়াহী করলেন যা ওয়াহী করার ছিল। (নবীর) অন্তঃকরণ মিথ্যে মনে করেনি যা সে দেখে ছিল। সে যা দেখেছে সে বিষয়ে তোমরা কি তার সঙ্গে বিতর্ক করবে? অবশ্যই সে [অর্থাৎ নবী (সা.)] তাকে [অর্থাৎ জিবরাঈল (আঃ)-কে] আরেকবার দেখেছিল শেষসীমার বরই গাছের কাছে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন গাছটি যা দিয়ে ঢেকে থাকার তা দিয়ে ঢাকা ছিল, (যার বর্ণনা মানুষের বোধগম্য নয়) (নবীর) দৃষ্টি ভ্রমও ঘটেনি, সীমা ছাড়িয়েও যায়নি। সে তার প্রতিপালকের বড় বড় নিদর্শন দেখেছিল।
৪০
সূরা আন-নাজম : ২৬-২৭
۞ وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِى السَّمٰوٰتِ لَا تُغْنِى شَفٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ ۝۲۶ إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْءَاخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلٰئِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَىٰ ۝۲۷
আকাশে কতই না ফেরেশতা আছে তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না, তবে (কাজে আসবে) যদি তিনি অনুমতি দেন যার জন্য আল্লাহ ইচ্ছে করবেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারাই ফেরেশতাদের স্ত্রীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।
৪১
সূরা আত-তাহরীম : ২-৩
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمٰنِكُمْ ۚ وَاللَّهُ مَوْلَىٰكُمْ ۖ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ۝۲ وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِىُّ إِلَىٰ بَعْضِ أَزْوٰجِهِۦ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِۦ وَأَظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُۥ وَأَعْرَضَ عَن بَعْضٍ ۖ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِۦ قَالَتْ مَنْ أَنبَأَكَ هٰذَا ۖ قَالَ نَبَّأَنِىَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ ۝۳
আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, আল্লাহ তোমাদের মালিক-মনিব-রক্ষক, আর তিনি সর্বজ্ঞাতা, মহা প্রজ্ঞার অধিকারী। স্মরণ কর- যখন নবী তার স্ত্রীদের কোন একজনকে গোপনে একটি কথা বলেছিল। অতঃপর সে স্ত্রী যখন তা (অন্য একজনকে) জানিয়ে দিল, তখন আল্লাহ এ ব্যাপারটি নবীকে জানিয়ে দিলেন। তখন নবী (তার স্ত্রীর কাছে) কিছু কথার উল্লেখ করল আর কিছু কথা ছেড়ে দিল। নবী যখন তা তার স্ত্রীকে জানাল তখন সে বলল, ‘আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিল?’’ নবী বলল, ‘‘আমাকে জানিয়ে দিলেন যিনি সর্বজ্ঞাতা, ওয়াকিফহাল।’’
৪২
সূরা আত-তাহরীম : ৬
يٰأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلٰئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ۝۶
হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে মোতায়েন আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতা। আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না, আর তারা তাই করে, তাদেরকে যা করার জন্য আদেশ দেয়া হয়।
৪৩
সূরা আল-মা'আরিজ : ৪
تَعْرُجُ الْمَلٰئِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُۥ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ۝۴
ফেরেশতা এবং রূহ (অর্থাৎ জিবরীল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
৪৪
সূরা আল-হাক্কাহ : ১৭
وَالْمَلَكُ عَلَىٰ أَرْجَائِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمٰنِيَةٌ ۝۱۷
ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের ‘আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।
৪৫
সূরা আল-হাক্কাহ : ৩০-৩২
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ ۝۳۰ ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ ۝۳۱ ثُمَّ فِى سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ ۝۳۲
(তখন নির্দেশ আসবে) ধর ওকে, ওর গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও, তারপর ছুড়ে ফেল ওকে জাহান্নামে, তারপর ওকে শিকল দিয়ে বাঁধ- সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে,
৪৬
সূরা আল-মুদ্দাসসির : ২৬-৩১
سَأُصْلِيهِ سَقَرَ ۝۲۶ وَمَا أَدْرَىٰكَ مَا سَقَرُ ۝۲۷ لَا تُبْقِى وَلَا تَذَرُ ۝۲۸ لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ ۝۲۹ عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ ۝۳۰ وَمَا جَعَلْنَا أَصْحٰبَ النَّارِ إِلَّا مَلٰئِكَةً ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتٰبَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ ءَامَنُوا إِيمٰنًا ۙ وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتٰبَ وَالْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكٰفِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهٰذَا مَثَلًا ۚ كَذٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِى مَن يَشَاءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ ۝۳۱
শীঘ্রই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। তুমি কি জান জাহান্নামের আগুন কী? তা কাউকে জীবিতও রাখবে না, আর মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না। চামড়া ঝলসে দেবে। সেখানে নিয়োজিত আছে ঊনিশ জন ফেরেশতা। আমিই কেবল ফেরেশতাদেরকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক করেছি। আর তাদের (এই) সংখ্যাকে কাফিরদের জন্য একটা পরীক্ষা বানিয়ে দিয়েছি (কেননা তারা এ কথা বিশ্বাসই করতে পারবে না যে মাত্র ঊনিশ জন ফেরেশতা বিশাল জাহান্নামের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে) আর যেন কিতাবধারীগণ তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আর ঈমানদারদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবধারীগণ ও ঈমানদারগণ যেন কোন রকম সন্দেহের মধ্যে না থাকে। যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর কাফিররা যাতে বলে উঠে, ‘‘ এ ধরণের কথা দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?’’ এভাবে আল্লাহ যাকে চান গুমরাহ করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী (কারা এবং এর স্যখ্যা কত সে) সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। (জাহান্নামের) এ (বর্ণনা দেয়া হল) কেবল মানুষের নসীহত লাভের জন্য।
৪৭
সূরা আল-ইনসান : ২৯-৩০
إِنَّ هٰذِهِۦ تَذْكِرَةٌ ۖ فَمَن شَاءَ اتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًا ۝۲۹ وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ۝۳۰
এটা এক উপদেশ, কাজেই যার ইচ্ছে সে (এ উপদেশ মান্য ক’রে) তার প্রতিপালকের পথ ধরুক। তোমরা ইচ্ছে কর না আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। (অর্থাৎ আল্লাহ কোন কিছু কার্যকর করতে চাইলে তোমাদের মাঝে ইচ্ছে ও শক্তি সঞ্চার করতঃ তোমাদের মাধ্যমে তা কার্যকর করেন)। আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা মহাবিজ্ঞানী।
৪৮
সূরা আন-নাবা : ৩২-৩৬
حَدَائِقَ وَأَعْنٰبًا ۝۳۲ وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا ۝۳۳ وَكَأْسًا دِهَاقًا ۝۳۴ لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذّٰبًا ۝۳۵ جَزَاءً مِّن رَّبِّكَ عَطَاءً حِسَابًا ۝۳۶
বাগান, আঙ্গুর, আর সমবয়স্কা নব্য যুবতী এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র। সেখানে তারা শুনবে না অসার অর্থহীন আর মিথ্যে কথা, এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দান।
৪৯
সূরা আন-নাবা : ৩৮-৪০
يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلٰئِكَةُ صَفًّا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَقَالَ صَوَابًا ۝۳۸ ذٰلِكَ الْيَوْمُ الْحَقُّ ۖ فَمَن شَاءَ اتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا ۝۳۹ إِنَّا أَنذَرْنٰكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرٰبًا ۝۴۰
সেদিন রূহ (জিবরাঈল) আর ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, কেউ কোন কথা বলতে পারবে না, সে ব্যতীত যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দিবেন, আর সে যথার্থ কথাই বলবে। এ দিনটি সত্য, সুনিশ্চিত, অতএব যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করুক। আমি তোমাদেরকে নিকটবর্তী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কী (‘আমাল) পাঠিয়েছে আর কাফির বলবে- ‘হায়! আমি যদি মাটি হতাম (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না)।
৫০
সূরা আন-নাযিআত : ৩
وَالسّٰبِحٰتِ سَبْحًا ۝۳
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটে,
৫১
সূরা আন-নাযিআত : ২
وَالنّٰشِطٰتِ نَشْطًا ۝۲
আর যারা (নেককারদের আত্মা) খুবই সহজভাবে বের করে,
৫২
সূরা আন-নাযিআত : ১
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ وَالنّٰزِعٰتِ غَرْقًا ۝۱
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা (পাপীদের আত্মা) নির্মমভাবে টেনে বের করে,
৫৩
সূরা আন-নাবা : ৪০
إِنَّا أَنذَرْنٰكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرٰبًا ۝۴۰
আমি তোমাদেরকে নিকটবর্তী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কী (‘আমাল) পাঠিয়েছে আর কাফির বলবে- ‘হায়! আমি যদি মাটি হতাম (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না)।
৫৪
সূরা আন-নাযিআত : ৩-৭
وَالسّٰبِحٰتِ سَبْحًا ۝۳ فَالسّٰبِقٰتِ سَبْقًا ۝۴ فَالْمُدَبِّرٰتِ أَمْرًا ۝۵ يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ ۝۶ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ ۝۷
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটে, আর (আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য) ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যায়, অতঃপর সব কাজের ব্যবস্থা করে। সেদিন ভূকম্পন প্রকম্পিত করবে, তারপর আসবে আরেকটি ভূকম্পন।
৫৫
সূরা আত-তাকভীর : ১৯-২১
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ ۝۱۹ ذِى قُوَّةٍ عِندَ ذِى الْعَرْشِ مَكِينٍ ۝۲۰ مُّطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ ۝۲۱
এ কুরআন নিশ্চয়ই সম্মানিত রসূলের (অর্থাৎ জিবরাঈলের) আনীত বাণী। যে শক্তিশালী, ‘আরশের মালিক (আল্লাহ)’র নিকট মর্যাদাশীল। সেখানে মান্য ও বিশ্বস্ত।
৫৬
সূরা আল-ফাজর : ২১-২৩
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا ۝۲۱ وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا ۝۲۲ وَجِاىءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنسٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ الذِّكْرَىٰ ۝۲۳
এটা মোটেই ঠিক নয়, যখন পৃথিবীকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে বালি বানিয়ে দেয়া হবে, আর যখন তোমার প্রতিপালক আসবেন আর ফেরেশতারা আসবে সারিবদ্ধ হয়ে, আর জাহান্নামকে সেদিন (সামনাসামনি) আনা হবে। সেদিন মানুষ উপলব্ধি করবে, কিন্তু তখন এ উপলব্ধি তার কী কাজে আসবে?
৫৭
সূরা আল-কদর : ১-৫
بِّسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ إِنَّا أَنزَلْنٰهُ فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ ۝۱ وَمَا أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ۝۲ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ۝۳ تَنَزَّلُ الْمَلٰئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ۝۴ سَلٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ۝۵
আমি কুরআনকে কাদরের রাতে নাযিল করেছি, তুমি কি জান ক্বাদরের রাত কী? ক্বাদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম, এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।
সূত্র ও স্বীকৃতি:
মূল আরবি সংকলন: শাইখ খালিদ আল-হাবাশি (alroqya.com)। বাংলা অনুবাদ, বিন্যাস ও উপস্থাপনা: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত।
মূল ফাইল: malyka_print.pdf। বাংলা অনুবাদ: তাইসীরুল কুরআন — তাওহীদ পাবলিকেশন। আরবি পাঠ কুরআনের যাচাইকৃত ডেটাসেট থেকে সূরা ও আয়াত নম্বর অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।
সেবা ও হাদিয়া:
নিজের সমস্যা কী — বদনজর, হাসাদ, সিহর নাকি অন্য কিছু — বুঝতে না পারলে মেসেজে লিখুন Diagnosis। নিতে চাইলে মেসেজ করুন।
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।