মারটা কার গায়ে পড়ছে আসলে?
শাইখ বালীর জবাবটা রাকীদের জন্য যতটা, রোগীর পরিবারের জন্যও ঠিক ততটা — প্রয়োজন ছাড়া মারধরের আশ্রয় নেওয়াই উচিত নয়।
প্রশ্নটা যেভাবে আসে
চেম্বারে রোগী শোয়ানো, তিলাওয়াত চলছে। হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে, আর তখনই কেউ বলে ওঠে — মারুন, ওটা জিন, ব্যথা ওরই লাগছে।
রোগী গোঙাতে থাকেন। পরিবার ভাবে চিকিৎসা হচ্ছে। ঘরে ফিরে দেখা যায় শরীরে দাগ, আর মনে নতুন একটা ভয়।
তারপর একজনের পর একজন বলতে থাকে — তোমার জিন আছে, তোমার আসর আছে। কথাগুলো জমতে জমতে মানুষটা আরও ভেঙে পড়ে।
প্রশ্নটা তাই সোজা — রাকী বুঝবে কী করে, মারটা জিনের গায়ে পড়ছে, নাকি রোগীর?
শাইখের জবাব
রোগী যদি মারটা টের পায়, তাহলে বুঝতে হবে ওটা মানুষটাই — জিন নয়।
শাইখ বলেন, প্রয়োজন ছাড়া মারধরের আশ্রয় নেওয়াই উচিত নয়। কুরআন তিলাওয়াত জিনের উপর মারের চেয়েও কঠিন হতে পারে — বিশেষত আজাব, আগুন, জুলুম ও জালিমদের পরিণতির আয়াতগুলো।
দলিল — কোমলতা যেখানে থাকে
إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ
নিশ্চয় কোমলতা যে জিনিসেই থাকে, তাকে সুন্দর করে দেয়; আর যে জিনিস থেকে কোমলতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তাকে কুৎসিত করে দেয়। (সহীহ মুসলিম ২৫৯৪)
শাইখের সবচেয়ে বড় সতর্কতা — একজনের পর একজন গিয়ে “তোমার জিন আছে” বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত মানুষটার মানসিক অবস্থাই খারাপ হয়ে যায়। ওই কথাগুলোই তাকে আরও অসুস্থ করে তোলে।
করণীয়
- প্রয়োজন ছাড়া মারধর নয়; একান্ত দরকার হলেও হাত-পায়ে হালকা।
- রোগী পূর্ণ অচেতন, কিছুই টের পাচ্ছে না — ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম আহমাদ রহ. এমন অবস্থাতেই করতেন।
- কেউ “আমি জিন” বললেই জিন নয় — অবচেতন মনও কথা বলে; পার্থক্য করতে অভিজ্ঞতা লাগে।
- কাউকে “তোমার আসর আছে” বলে বেড়াবেন না — ওই কথাটাই কষ্ট বাড়ায়।
মাসিক রুকইয়াহ কোর্স
★ ১২টি লাইভ রুকইয়াহ সেশন ★ প্রতিটি সেশনের রেকর্ডেড ভিডিও ★ প্রতিটি সেশনের আলাদা সেশন নোট ★ ৫০০ টাকার ডায়াগনোসিস প্যাকেজ মাত্র ১৫০ টাকায় ★ রাকীর সাথে গ্রুপে কনসাল্ট করার সুযোগ ★ আলাদা টেলিগ্রাম গ্রুপ ★ ভাই ও বোনদের জন্য ভিন্ন ডিসকাশন গ্রুপ ★ আলাদা আলাদা সমস্যার জন্য আলাদা সেশন ★ প্রতিটি সেশনে গাইডলাইন ও প্রশ্নোত্তর পর্ব
কোর্সের হাদিয়া মাত্র ৪৯০ টাকা। জয়েন করতে মেসেজে লিখুন Session — ফর্মের লিংক পাঠিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।
সূত্র: শাইখ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম বালী-এর আলোচনা অবলম্বনে
অনুবাদ ও সংকলন: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত — আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
আরও পড়ুন
২৭ জুলাই ২০২৬ · ২ মিনিট
সিহর ভাঙা এত কঠিন কিছু নয়
শাইখ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম বালীর কাছে প্রশ্নটা এসেছিল একজন ক্লান্ত স্বামীর কাছ থেকে। জবাবটা এত সহজ যে অনেকে প্রথমে বিশ্বাসই করতে চান না।
২৭ জুলাই ২০২৬ · ২ মিনিট
নজর লাগলে নিজে যা করবেন
শাইখ বালী এখানে দুটো ধাপ আলাদা করে দেখিয়েছেন — একটা চিকিৎসা, আরেকটা সুরক্ষা। এই দুটো গুলিয়ে ফেলেই মানুষ বছরের পর বছর ক্লান্ত হয়।
২৭ জুলাই ২০২৬ · ২ মিনিট
শাইখ নিজেই যা ছেড়ে দিয়েছেন
রুকইয়াহর তিনটি চেনা প্র্যাকটিস থেকে শাইখ বালী নিজে ফিরে এসেছেন — অথচ যারা করে তাদের দোষারোপও করেননি। আদবটা এখানেই।