بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
রুকইয়াহ প্রোটোকল

রগ-শিরা ও রক্তে জাদু

শরীরের রগ, শিরা ও রক্তে ছড়িয়ে থাকা পুরনো, নবায়িত (রিনিউ) ও ছিটানো জাদু নষ্টের রুকইয়াহ

✦ ✦ ✦
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center

সূচিপত্র

  1. ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল
  2. শুরু করার দোয়া
  3. নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের আয়াত
  4. রগ-শিরা, স্নায়ু ও রক্তে ছড়িয়ে থাকা জাদু বাতিলের আয়াত
  5. নবায়ন হওয়া (রিনিউ) ও দীর্ঘস্থায়ী জাদু বাতিলের আয়াত
  6. পায়ের নিচের, কাপড়ের ও ছিটানো জাদু বাতিলের আয়াত
  7. জাদুকরের ওপর আযাব, দেয়াল-ঘরের জাদু ও শরীর পবিত্রকরণের আয়াত
  8. বিশেষ দোয়া — রগ-শিরা ও রক্তে জাদু
  9. সমাপ্তির সূরা ও দোয়া
  10. সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন
  11. সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল
  12. দৈনিক আমল

ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল

রগ-শিরা ও রক্তে ছড়িয়ে থাকা জাদু বলতে এমন এক ধরনের পুরনো জাদুকে বোঝানো হয় যা শরীরের ভেতরে ধমনী, স্নায়ু ও রক্তনালী বরাবর ছড়িয়ে থাকে, এবং জাদুকর তা বারবার নবায়ন (রিনিউ) করতে থাকে বলে সাধারণ রুকইয়াহতেও সহজে পুরোপুরি সারতে চায় না। একই প্রোটোকলে পায়ের নিচে করা জাদু, কাপড় বা ঘরে ছিটানো জাদু এবং পরিবারে যৌথভাবে করা জাদুর জন্যও আলাদা আয়াত ও দোয়া রয়েছে। এটি তুলনামূলক দীর্ঘ ও নিবিড় একটি প্রোটোকল — তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি অংশ ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

যেসব লক্ষণ থাকলে এই প্রোটোকল কাজে আসবে

জরুরি নোট: উপরের লক্ষণগুলোর অধিকাংশেরই সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে। তাই আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। রুকইয়াহ চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে, বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

শুরু করার দোয়া

অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছেই আরোগ্য চাইছি।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া পাঠকারীকে কোনো কিছু আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে না। (তিরমিযী ৩৩৮৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পাঠসংখ্যা: ১৯ বার রুকইয়াহ শুরুর আগে মনোযোগ ও নিয়ত স্থির করে পড়ুন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার (মুসলিম ২৭০৮)

নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের আয়াত

শুরুতে এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে আল্লাহর আশ্রয় ও নিরাপত্তা কামনা করুন।
১
সূরা আল-বাকারা : ১২৫
وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرٰهِۦمَ مُصَلًّى ۖ وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرٰهِۦمَ وَإِسْمٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعٰكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ۝۱۲۵
যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।
পাঠসংখ্যা: ১ বার নিয়ত: মাকামে ইবরাহীম ও কাবার নিরাপত্তার আয়াত — নিরাপদ আশ্রয় কামনা
২
সূরা আলে ইমরান : ৯৭
فِيهِ ءَايٰتٌ بَيِّنٰتٌ مَّقَامُ إِبْرٰهِيمَ ۖ وَمَن دَخَلَهُۥ كَانَ ءَامِنًا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِىٌّ عَنِ الْعٰلَمِينَ ۝۹۷
তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে (যেমন) মাক্বামে ইবরাহীম(ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গা)। যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে নিরাপদ হবে। আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন। (তাইসীরুল কুরআন)
পাঠসংখ্যা: ১ বার নিয়ত: মাকামে ইবরাহীমের নিরাপত্তার আয়াত — জাদুর প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকার আশ্রয় কামনা

রগ-শিরা, স্নায়ু ও রক্তে ছড়িয়ে থাকা জাদু বাতিলের আয়াত

উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করুন। শরীরে টান, ব্যথা বা কাঁপুনি অনুভব করলে থামবেন না — বরং একই আয়াত বারবার পড়া চালিয়ে যান।
৩
সূরা ইউনুস : ৮১
فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُۥ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ ۝۸۱
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার, বিশেষত লাল চিহ্নিত অংশে জোর দিয়ে নিয়ত: জাদু বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘোষণা — শরীরে ছড়িয়ে থাকা জাদু ভাঙতে সাহায্য করে

নবায়ন হওয়া (রিনিউ) ও দীর্ঘস্থায়ী জাদু বাতিলের আয়াত

যাদের জাদু চিকিৎসার পরও বারবার নতুন উপসর্গ নিয়ে ফিরে আসে, তাদের জন্য এই অংশটি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া বিশেষ জরুরি।
৪
সূরা আত-তূর : ১৫
أَفَسِحْرٌ هٰذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ ۝۱۵
এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না?
পাঠসংখ্যা: ১০ বারের বেশি নিয়ত: 'এটা কি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না' — জাদুর বাস্তবতা অস্বীকারকারীদের জবাব
৫
সূরা আল-কামার : ১-২
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ ۝۱ وَإِن يَرَوْا ءَايَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ ۝۲
কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু।
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ('سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ') একাধিকবার নিয়ত: 'অবিরাম/চিরাচরিত জাদু' বলে অস্বীকারের জবাব — টানা চলতে থাকা জাদু ভাঙার আয়াত
৬
সূরা আল-মুদ্দাসসির : ২১-২৪
ثُمَّ نَظَرَ ۝۲۱ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ۝۲۲ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ ۝۲۳ فَقَالَ إِنْ هٰذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ ۝۲۴
সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে, অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে, অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে। এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়,
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ('سِحْرٌ يُؤْثَرُ') একাধিকবার নিয়ত: 'লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত পুরনো জাদু' বলে অস্বীকারের জবাব — নবায়িত জাদুর বিরুদ্ধে

পায়ের নিচের, কাপড়ের ও ছিটানো জাদু বাতিলের আয়াত

পায়ের ছাপ, ব্যবহৃত কাপড় বা ছিটানো বস্তুর মাধ্যমে করা জাদুর জন্য।
৭
সূরা আল-মুদ্দাসসির : ১-৪
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ يٰأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ۝۱ قُمْ فَأَنذِرْ ۝۲ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ۝۳ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ۝۴
হে চাদরাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন, আপন পোশাক পবিত্র করুন
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ('وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ') ১২ বারের বেশি নিয়ত: পোশাক পবিত্র করার নির্দেশ — কাপড়ে করা জাদুর জন্য
৮
সূরা সোয়াদ : ৪২
ارْكُضْ بِرِجْلِكَ ۖ هٰذَا مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَشَرَابٌ ۝۴۲
তুমি তোমার পা দিয়ে ভূমিতে আঘাত কর। ঝরণা নির্গত হল গোসল করার জন্যে শীতল ও পান করার জন্যে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার নিয়ত: পা দিয়ে আঘাত করে ঠান্ডা পানি বের হওয়ার আয়াত — পায়ের সমস্যার জন্য
৯
সূরা আল-ফুরকান : ২৩
وَقَدِمْنَا إِلَىٰ مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَاءً مَّنثُورًا ۝۲۳
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণারূপে করে দেব।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার নিয়ত: জাদুর কার্যকারিতা বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় পরিণত হওয়ার আয়াত — ছিটানো জাদুর জন্য

জাদুকরের ওপর আযাব, দেয়াল-ঘরের জাদু ও শরীর পবিত্রকরণের আয়াত

জাদুকর ও তার প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং শরীর-ঘর পবিত্র করার জন্য এই আয়াতগুলো পড়ুন।
১০
সূরা আল-হিজর : ১৪-১৫
وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا مِّنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ ۝۱۴ لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصٰرُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ ۝۱۵
যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে। তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ৩ বার নিয়ত: দৃষ্টি সম্মোহিত হয়েছে বলে সন্দেহকারীদের জবাব
১১
সূরা আল-কাসাস : ৪৮
فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِىَ مِثْلَ مَا أُوتِىَ مُوسَىٰ ۚ أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِىَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۖ قَالُوا سِحْرَانِ تَظٰهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كٰفِرُونَ ۝۴۸
অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার নিয়ত: দুই ধরনের জাদু একে অপরকে সমর্থন করে — জাদুর উৎস চিহ্নিত করার আয়াত
১২
সূরা আল-কাহফ : ৮২
وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلٰمَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِى الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُۥ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صٰلِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ ۚ وَمَا فَعَلْتُهُۥ عَنْ أَمْرِى ۚ ذٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا ۝۸۲
প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।
পাঠসংখ্যা: ৬ বার নিয়ত: দেয়ালের জাদুর জন্য — এতিম দুই কিশোরের দেয়াল সংরক্ষণের ঘটনা
১৩
সূরা আন-নূর : ৩৬
فِى بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُۥ يُسَبِّحُ لَهُۥ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْءَاصَالِ ۝۳۶
আল্লাহ যেসব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে;
পাঠসংখ্যা: ৪ বার নিয়ত: ঘরে আল্লাহর নাম স্মরণের বরকত — ঘরবাড়ির জাদু নষ্টের জন্য
১৪
সূরা আল-আহযাব : ৩৩
وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجٰهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ الزَّكَوٰةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ۝۳۳
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ১০ বারের বেশি নিয়ত: আহলে বাইতের পবিত্রতার আয়াত — শরীর পবিত্রকরণের জন্য
১৫
সূরা আল-আ'রাফ : ১১৭-১১৮
۞ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ۝۱۱۷ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۝۱۱۸
তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে। সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল।
পাঠসংখ্যা: লাল অংশগুলো যথাক্রমে ৭ ও ১২ বার নিয়ত: মূসা (আ.)-এর লাঠি জাদুকরদের মিথ্যা গিলে ফেলার আয়াত — জাদু ব্যর্থ করার মূল আয়াত
১৬
সূরা গাফির : ৬৯-৭১
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُجٰدِلُونَ فِى ءَايٰتِ اللَّهِ أَنَّىٰ يُصْرَفُونَ ۝۶۹ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِالْكِتٰبِ وَبِمَا أَرْسَلْنَا بِهِۦ رُسُلَنَا ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ۝۷۰ إِذِ الْأَغْلٰلُ فِى أَعْنٰقِهِمْ وَالسَّلٰسِلُ يُسْحَبُونَ ۝۷۱
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে? যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে। যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
পাঠসংখ্যা: লাল অংশ ১০ বারের বেশি নিয়ত: আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্ককারীদের গলায় শিকল পড়ার আয়াত — জাদুকরের ওপর শাস্তি কামনা

বিশেষ দোয়া — রগ-শিরা ও রক্তে জাদু

এই দোয়াগুলো এই সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো। আয়াত পাঠ শেষে পড়ুন।
اللَّهُمَّ احْرِقْ كُلَّ سِحْرٍ مُنْتَشِرٍ عَلَى عُرُوقِي
হে আল্লাহ! আমার শিরায় থাকা সমস্ত ছড়িয়ে পড়া জাদু জ্বালিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ كُلُّ تَسَلُّطٍ عَلَى عُرُوقِي
আল্লাহর নামে — আমার শিরায় সমস্ত আধিপত্য বাতিল করা হলো।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ بِقُوَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ عُقِدَتْ عَلَى عُرُوقِي
হে আল্লাহ! আপনার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমার শিরায় বাঁধা প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مُنْتَشِرٍ فِي الْعُرُوقِ وَالْأَعْصَابِ وَالدَّمِ
হে আল্লাহ! ধমনী, স্নায়ু এবং রক্তে ছড়িয়ে থাকা সকল পুরনো জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: বহুবার রগ-শিরা ও রক্তে ছড়িয়ে থাকা জাদুর জন্য এই টপিকের মূল দোয়া
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ قَدِيمٍ مُتَجَدِّدٍ، كُلَّ عُقَدٍ قَدِيمَةٍ مُتَجَدِّدَةٍ تَبْطُلُ بِأَمْرِ اللَّهِ
হে আল্লাহ! সকল নবায়নকৃত পুরনো জাদু বাতিল করে দিন। প্রতিটি নবায়নকৃত পুরনো গিরা আল্লাহর হুকুমে বাতিল হয়ে যাক।
পাঠসংখ্যা: বহুবার রিনিউ হওয়া (নবায়িত) জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مَرْشُوشٍ
হে আল্লাহ! সকল ছিটানো জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: বহুবার ছিটানো জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مِنَ الثِّيَابِ
হে আল্লাহ! কাপড়ের মধ্যকার বা কাপড়ে করা সকল জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার কাপড়ে করা জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ تَخَطَّتْهُ الْأَقْدَامُ
হে আল্লাহ! পায়ের দ্বারা ডিঙানো সকল জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার পায়ের নিচ দিয়ে করা জাদুর জন্য
بِسْمِ اللَّهِ يَخْرُجُ السِّحْرُ وَخَادِمُهُ مِنَ الْقَدَمِ
আল্লাহর নামে জাদু এবং এর খাদেম পা দিয়ে বের হয়ে যাক।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার পায়ের সমস্যার জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مُشْتَرَكٍ
হে আল্লাহ! পরিবার বা ভাই-বোনদের মাঝে করা সকল যৌথ জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার পরিবারে যৌথ/ফ্যামিলি জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَحْرِقْ كُلَّ الْأَسْحَارِ الْمُتَرَاكِمَةِ الْكَثِيرَةِ
হে আল্লাহ! শরীরের ভেতর থাকা স্তুপীকৃত অসংখ্য জাদুকে আপনি পুড়িয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার স্তুপীকৃত/জমে থাকা জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ يُجَدِّدُهُ السَّاحِرُ وَيُجَدِّدُهُ خَادِمُ السِّحْرِ وَيُجَدِّدُهُ طَالِبُ السِّحْرِ
হে আল্লাহ! জাদুকর, জাদুর খাদেম এবং জাদু কামনাকারীর দ্বারা নবায়নকৃত সকল জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার জাদুকর কর্তৃক বারবার নবায়িত জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مِنَ الْأَثَرِ
হে আল্লাহ! পায়ের ছাপ বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমে করা সকল জাদু বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার পায়ের ছাপ বা ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে করা জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ عَلَى الْجِدْرَانِ
হে আল্লাহ! দেয়ালের উপরের সকল জাদুকে আপনি বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার দেয়ালের জাদুর জন্য
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ سِحْرُ الْبُيُوتِ وَالْعَوَائِلِ
আল্লাহর নামে ঘরবাড়ি এবং পরিবারের জাদু বাতিল হয়ে যাক।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার ঘরবাড়ি ও পরিবারের জাদুর জন্য
اللَّهُمَّ اجْعَلِ السِّحْرَ عَلَيْهِمْ نَارًا
হে আল্লাহ! জাদুকে তাদের (জাদুকরদের) উপর আগুন বানিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার জাদুকরের বিরুদ্ধে
اللَّهُمَّ طَهِّرِ الْأَقْدَامَ وَالْجَسَدَ وَالْعُرُوقَ مِنَ الْأَسْحَارِ وَخُدَّامِهِ
হে আল্লাহ! পা, শরীর এবং রক্তনালীসমূহকে জাদু এবং জাদুর খাদেম থেকে পবিত্র করে দিন।
পাঠসংখ্যা: একাধিকবার পা, শরীর ও রগ-শিরা পবিত্র করার জন্য

সমাপ্তির সূরা ও দোয়া

প্রতিটি সেশন এভাবে শেষ করুন। শেষে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
১
সূরা আল-ইখলাস : ১-৪
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝۱ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝۲ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝۳ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ ۝۴
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার নিয়ত: তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে হৃদয় দৃঢ় করা
২
সূরা আল-ফালাক : ১-৫
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝۱ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝۲ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝۳ وَمِن شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الْعُقَدِ ۝۴ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ۝۵
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার নিয়ত: জাদু, হাসাদ ও রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
৩
সূরা আন-নাস : ১-৬
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝۱ مَلِكِ النَّاسِ ۝۲ إِلٰهِ النَّاسِ ۝۳ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۝۴ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۝۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۝۶
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার নিয়ত: মানুষ ও জিনের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয়
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি — প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার নবীজি ﷺ হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে এই দোয়া পড়ে ঝাড়তেন। (বুখারী ৩৩৭১)
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি — এমন প্রতিটি জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণ ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি ﷺ-কে এভাবে রুকইয়াহ করেছিলেন। (মুসলিম ২১৮৬)
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই — এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার (বুখারী ৫৭৪৩)

📌 সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন

ধারাবাহিকতাই মূল কথা। প্রতিদিন অল্প, কিন্তু নিয়মিত।

পদ্ধতি — ধাপে ধাপে

  1. অযু করে কিবলামুখী হয়ে নিরিবিলি বসুন। মোবাইল দূরে রাখুন।
  2. নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইছি, কালামের নিজের কোনো শক্তি নেই, শক্তি আল্লাহর।
  3. শুরুর দোয়াগুলো পড়ুন (অধ্যায় ১)।
  4. এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। পড়ার সময় দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্যার জায়গায় হাত বুলান।
  5. প্রতিটি আয়াতের নিচে দেওয়া নির্দেশনা বক্সে যতবার বলা আছে ততবার পড়ুন — কম-বেশি করার দরকার নেই।
  6. মাঝে বাংলায় নিজের ভাষায় ১৫ মিনিট মন খুলে দোয়া করুন। কান্না আসলে আটকাবেন না।
  7. শেষে সমাপ্তির সূরা ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
  8. প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ দিন চালিয়ে যান। মাঝে বাদ পড়লে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।

দৈনিক সময়সূচি

সকালফজরের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট
সন্ধ্যামাগরিবের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট
রাতঘুমানোর আগে — সমাপ্তির সূরা ও দোয়া, পড়া পানি পান
সাপ্তাহিকসপ্তাহে একদিন রুকইয়াহ গোসল

বাংলায় নিজের দোয়া (১৫ মিনিট)

আয়াত পাঠের মাঝে বা শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চান। নিচেরটি একটি নমুনা — হুবহু এটাই পড়তে হবে এমন নয়, নিজের কথায় বলুন।
হে আল্লাহ, আমার পুরানো জাদু, রক্ত-শিরা ও রগে থাকা জাদু, পায়ের সমস্যা, রিনিউ করা জাদু এবং ছিটানো জাদুর সাথে সম্পৃক্ত সকল বদনজর, হাসাদ ও সেহেরকে আপনি ধ্বংস করে দিন। আমার শরীরের ভেতরে ও বাইরে থাকা এর সকল প্রভাব আপনি চিরতরে বাতিল করে দিন।

পড়া তেল ম্যাসাজের স্থান

রগ-শিরা ও রক্তে জাদু-এর ক্ষেত্রে ফোকাস: পায়ের তালু ও রগ-শিরা বরাবর সারা শরীর, বিশেষত যেখানে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়

সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল

পড়া পানিএক বোতল পানিতে রুকইয়াহর আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। দিনে ৩ বার — সকালে খালি পেটে, দুপুরে, রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন।
পড়া মধুখাঁটি মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন সকালে এক চামচ। সূরা নাহল ৬৯ নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে ভালো।
পড়া অলিভ অয়েলজয়তুন তেলে আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সবচেয়ে ভালো।
কালোজিরাপ্রতিদিন সকালে ৭টি কালোজিরা পড়া মধুর সাথে। নবীজি ﷺ বলেছেন কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় আছে। (বুখারী ৫৬৮৮)
রুকইয়াহ গোসলবালতি পানিতে আয়াত পড়ে ফুঁ দিন, সাথে সাত পাতা বরই পাতা বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন। মাথা থেকে ঢেলে গোসল করুন — সপ্তাহে একদিন।
ঘরে স্প্রেপড়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে ঘরের কোণা, দরজা-জানালা, বিছানার নিচে ছিটিয়ে দিন।

দৈনিক আমল

রুকইয়াহর পাশাপাশি এই আমলগুলোই দীর্ঘমেয়াদি হিফাজত দেয়।
ফজরের পরসূরা ইয়াসীন ১ বার
সকাল-সন্ধ্যাহিসনুল মুসলিমের সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত
আসরের পরসূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার
রাতেসূরা ক্বফ ৩ বার, সূরা মুলক ১ বার
ঘুমানোর আগেআয়াতুল কুরসী ১ বার, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল ৩ বার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলানো
প্রতিদিনসাধ্যমতো সাদাকাহ — অল্প হলেও প্রতিদিন। সাদাকাহ বালা দূর করে।
প্রতিদিনফরজ নামাজ জামাতে, ইস্তিগফার ১০০ বার, দরূদ ১০০ বার
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।