بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
বিয়ে, গর্ভধারণ ও রিজিক আটকে রাখা, শৈশব থেকে সঙ্গে থাকা "অনুসরণকারী" জ্বীনের রুকইয়াহ
শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদ (ইউটিউব চ্যানেল: مدينة العلم — মদীনাতুল ইলম)-এর ১২টি ভিডিওর ভিত্তিতে সংকলিত ও বাংলায় সাজানো — ৬টি রুকইয়াহ অডিও ও ৬টি আলোচনা-ভিডিও
۞ ❖ ۞
এই গাইডলাইনটি তৈরি হয়েছে শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদের ১২টি ভিডিওর ভিত্তিতে — ৬টি রুকইয়াহ অডিও (তিলাওয়াত) এবং ৬টি আলোচনা-ভিডিও। ভিডিওগুলোর সবগুলোই একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে — আরবিতে যাকে বলা হয় التابعة (তাবি'আহ), অর্থ "অনুসরণকারী" বা "পিছু-লাগা"। শাইখের বর্ণনায় এটি এমন এক প্রভাব, যা মানুষের শরীরের সাথে জড়িয়ে ও লেগে থাকে, অনেক সময় শৈশব থেকেই সঙ্গী হয়, পরিবার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসে, একগুঁয়ে হয়, এবং বিয়ে, গর্ভধারণ ও রিজিক আটকে রাখে। আলোচনা-ভিডিওগুলোতে শাইখ তাবি'আহর ধরন, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি, একটি লবণ-ভাপের প্রেসক্রিপশন, "মানুষরূপী তাবি'আহ", "ক্বারীনা-তাবি'আহ" এবং জাদুকরের বিরুদ্ধে দোয়ার আমল নিয়ে কথা বলেছেন — এগুলো এই ডকুমেন্টের দ্বিতীয় ভাগে।
১২টি ভিডিওর মধ্যে ৯টির (অডিও ১, ৩, ৪, ৫ এবং আলোচনা ৭, ৮, ১০, ১১, ১২) ইউটিউবের নিজস্ব আরবি ক্যাপশন থেকে সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু নেওয়া হয়েছে — কোন আয়াত, কোন দোয়া, কতবার পড়া হয়েছে, শাইখ কী বলেছেন। বাকি ৩টিতে (অডিও ২, ৬ ও আলোচনা ৯) ইউটিউবে কোনো ক্যাপশন নেই; তাই এগুলোর বিষয়বস্তু অনুমান করে লেখা হয়নি — শুধু শিরোনাম অনুযায়ী পরিচিতি ও লিংক দেওয়া হয়েছে।
এই ডকুমেন্টে যে কুরআনের আয়াতগুলো আছে, সেগুলো যাচাইকৃত উসমানী মুসহাফের পাঠ থেকে নেওয়া — ভিডিওতে শাইখ যে আয়াতগুলো পড়েছেন সেগুলোই পূর্ণাঙ্গ আকারে দেওয়া হয়েছে। আর শাইখের নিজের ভাষায় পড়া রুকইয়াহ-বাক্য ও দোয়াগুলো ক্যাপশন থেকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন আরবি বানানে লেখা হয়েছে, সাথে বাংলা অর্থ।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: এটি একটি রুকইয়াহ গাইডলাইন, কোনো রোগ নির্ণয় নয়। বিয়ে না হওয়া, সন্তান না হওয়া বা রিজিকে বাধা — এসবের পেছনে অনেক স্বাভাবিক, সামাজিক ও চিকিৎসাগত কারণ থাকতে পারে। কোনো লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে "এটাই জ্বীন" বা "এটাই জাদু" বলা যায় না। গর্ভধারণে সমস্যা, দীর্ঘদিনের শারীরিক ব্যথা, রক্ত-সংক্রান্ত উপসর্গ বা মানসিক অস্থিরতা থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন। রুকইয়াহ ও চিকিৎসা একসাথে চলতে পারে; একটির জন্য অন্যটি বাদ দেবেন না।
শাইখ তাঁর রুকইয়াহর ভেতরে তাবি'আহর যে বৈশিষ্ট্য ও প্রভাবগুলো নাম ধরে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো নিচে একত্র করা হলো। এগুলো শাইখের নিজের বর্ণনা — লক্ষণ মিললেই রোগ নিশ্চিত, এমন নয়।
১. বিয়ে আটকে থাকা (معطلة الزواج) — অডিও ৬-এর শিরোনামে।
২. গর্ভধারণে বাধা (معطلة الحمل) — অডিও ৬-এর শিরোনামে।
৩. রিজিকে বাধা (معطلة الرزق) — অডিও ৬-এর শিরোনামে।
৪. শৈশব থেকে সঙ্গে থাকা (من الصغر) — অডিও ১ ও ৪-এ বারবার: "যে তাবি'আহ শৈশব থেকে সীমালঙ্ঘন করেছে, শৈশব থেকে সঙ্গী হয়েছে, শৈশব থেকে বাস করেছে"।
৫. পুরনো, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা ও একগুঁয়ে (القديمة، الموروثة، العنيدة) — অডিও ১-এর শিরোনামে।
৬. শরীরে আটকে ও লেগে থাকা (عالقة، ملتصقة) — অডিও ৪-এ।
৭. হিংসুক ও জাদুকর (حاسدة، ساحرة) — বদনজর, হাসাদ ও জাদুর মাধ্যমে গিঁট বাঁধে (عقدت بالعيون والسحر والحسد); সুতা, লোহা ও খেজুর-আঁশের দড়ি দিয়ে গিঁট বাঁধে (عقدت بخيوط وحديد ومسد) — অডিও ৪-এ।
৮. শরীরে বাঁধা দড়ি (حبال) — জাদু, বদনজর ও হাসাদকে শক্তিশালী করতে শরীরের সাথে যা কিছু বাঁধা হয়েছে; জাদুর খাদেম ও বদনজর-হাসাদের খাদেমের সাথে যুক্ত দড়ি — অডিও ৫-এ।
৯. গিঁট, তালা ও ক্বারীন (عقد، أقفال، القرين) — তাবি'আহর গিঁট, জাদু ও তালা; ক্বারীনের তাবি'আহ; দড়ি ও তালার তাবি'আহ — অডিও ৩-এ।
১০. শিরা ও রক্তে প্রবাহিত হওয়া (جرت في العروق والدم), শরীরের প্রতি আসক্তি (عشقت الأبدان), মন, শরীর ও স্বাস্থ্যে প্রভাব (أثرت على العقول والبدن والصحة) — অডিও ৪-এ।
১১. খাদেম ও শয়তান-সৈন্যসহ শক্তিশালী (قوية بخدام وجنود شياطين) — অডিও ৪-এর শিরোনামে।
১২. মাস (স্পর্শ) (المس) — তাবি'আহর মাস বাতিল করার দোয়া অডিও ৪-এ, তাবি'আহ ও মাসের দড়ি কাটা অডিও ৫-এ।
অডিও ৩-এর শুরুতে শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদ নিজে এই রুকইয়াহ ব্যবহারের পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। তাঁর কথাগুলোর অর্থ:
"আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় এই বাক্যগুলো তাবি'আহর সব ধরনের চিকিৎসায় অত্যন্ত শক্তিশালী — বদনজর, হাসাদ, জাদু, ক্বারীনের তাবি'আহ এবং দড়ি ও তালার তাবি'আহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার অনুগ্রহে এটি শক্তিশালীভাবে ও খুব দ্রুত চিকিৎসা করে।"
১. শোনা: প্রতিদিন এটি এক, দুই বা তিনবার বারবার শুনবেন।
২. নিজে পড়া: অথবা বাক্যগুলো কাগজ-কলমে লিখে নিয়ে নিজে পানির উপর পড়বেন — ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় বারবার। তারপর সেই পানি থেকে পান করবেন এবং সেই পানি দিয়ে গোসল করবেন।
৩. ফোন পানির পাশে রাখা: অথবা ফোনটি পানির পাশে রেখে রুকইয়াহ চালাবেন; রুকইয়াহ শেষ হলে সেই পানি থেকে পান করবেন ও গোসল করবেন।
"আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় এটি তাবি'আহর চিকিৎসায় চমৎকার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার উপর ভরসা করুন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং শুনুন।"
নিচের ১২টি ভিডিওই এই গাইডলাইনের উৎস — প্রথম ৬টি রুকইয়াহ অডিও (শোনার জন্য), পরের ৬টি শাইখের আলোচনা-ভিডিও (বোঝার ও আমল শেখার জন্য)। সমস্যা তাবি'আহ-সংক্রান্ত হলে প্রথম ৬টি অডিওই শোনার জন্য সাজেস্ট করা হলো। প্রতিটির আসল আরবি শিরোনাম, বাংলা অর্থ, দৈর্ঘ্য ও লিংক দেওয়া আছে। লিংকগুলো ইউটিউবের মূল লিংক — কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
অডিও ১ — তাবি'আহ বের করার রুকইয়াহ — শোনামাত্রই শরীর থেকে তার বিচ্ছিন্ন হওয়া অনুভব করবেন; শৈশব থেকে থাকা পুরনো, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা ও একগুঁয়ে তাবি'আহ
رقية إخراج التابعة في دقائق ستشعر بفصلها عن جسمك بمجرد الاستماع القديمة منذ الصغر والموروثة والعنيدة
অডিও ২ — সূরা আত-তারিকের রুকইয়াহ — তাবি'আহকে বিদায়; আল্লাহর ইচ্ছায় তাকে ধ্বংস করা, চূড়ান্তভাবে মুক্তি ও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা
رقية الطارق وداعا للتابعة تدميرها والخلاص منها بشكل نهائي وفصلها عن الجسد بإذن الله
অডিও ৩ — অসাধারণ কিছু বাক্যের সবচেয়ে শক্তিশালী রুকইয়াহ — তাবি'আহর গিঁট, জাদু ও তালা বাতিল করে বের করে দেয় এবং ক্বারীনকে লাগাম পরায়
أقوى رقية بكلمات عجيبة تبطل وتخرج عقد واسحار واقفال التابعة وتلجم القرين في دقائق معدودة إستمع
অডিও ৪ — আল্লাহর সৈন্যদের দ্বারা তাবি'আহ বের হয় — শৈশব থেকে থাকা হিংসুক, জাদুকর, খাদেম ও শয়তান-সৈন্যসহ শক্তিশালী তাবি'আহ আল্লাহর শক্তিতে এখনই বের হয়
رقية تابعة تخرج بجنود الله تابعة حاسدة ساحرة من الصغر قوية بخدام وجنود شياطين يخرجون الآن بقوة الله
অডিও ৫ — তাবি'আহর দড়ি কাটার রুকইয়াহ — জাদু, বদনজর ও হাসাদকে শক্তিশালী করতে শরীরে যা কিছু বাঁধা হয়েছে সব কাটা
رقية قطع حبال التابعة قطع كل مامربوط في الجسد لتقوية السحر والعين والحسد_ مدينة العلم رقية شرعية
অডিও ৬ — তাবি'আহকে শরীর থেকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করার রুকইয়াহ — যে তাবি'আহ বিয়ে, গর্ভধারণ ও রিজিক আটকে রাখে
رقية التابعة لفصلها عن الجسد بشكل نهائي معطلة الزواج والحمل والرزق استمع الآن
অডিও ৭ — তাবি'আহ চাইবে আপনি এই ভিডিওটি না দেখেন — তিন মিনিটে আপনার জীবনে তাবি'আহর উপস্থিতি ও তার চিকিৎসা প্রকাশ পায় (আলোচনা ও পরীক্ষা)
ستتمنى التابعة أنك لاتشاهد هذا الفديو ثلاث دقائق تكشف وجود التابعة في حياتك وعلاجها
অডিও ৮ — তাবি'আহর তালা খুলে গেল, আটকে রাখার গিঁট ছিঁড়ে গেল — এই অত্যন্ত শক্তিশালী প্রেসক্রিপশনে সাথে সাথেই তা অনুভব করবেন (লবণ ও ভাপের প্রেসক্রিপশন)
انفكت أقفال التابعة وتمزقت عقد التعطيل في وقتها مباشرة ستشعر بذلك بهذه الوصفة القوية جدا والخطيرة
অডিও ৯ — উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া তাবি'আহ, যা আপনার পেছনে ও সামনের সবকিছু আটকে দেয় — আল্লাহর ইচ্ছায় চূড়ান্ত চিকিৎসা
التابعة الموروثة التي تعطل ماورائك وامامك وعلاج نهائي بإذن الله||مدينة العلم
অডিও ১০ — মানুষরূপী তাবি'আহ শয়তানী তাবি'আহর চেয়েও বিপজ্জনক — যে ব্যক্তি নীরবে আপনাকে নজরে রাখে এবং আপনাকে না ছুঁয়েই জীবন আটকে দেয় (আলোচনা)
التابعة البشرية أخطر من التابعة الشيطانية!شخص يراقبك بصمت… فيُعطِّل حياتك دون أن يمسك بك
অডিও ১১ — ক্বারীনা-তাবি'আহ বিপজ্জনক — বছরের পর বছর আপনার ধ্বংস ও আটকে থাকার কারণ, আর আপনি জানেনও না; বহুল বিস্তৃত আক্রান্তি (আলোচনা ও আমল)
التابعة القرينة خطيرة سبب دمارك وتعطيلك لسنوات وانت لاتدري كلام خطير تسمعه لأول مرة إصابة منتشرة
অডিও ১২ — যে আপনাকে জাদু করেছে তাকে ছেড়ে দেবেন না — এই দুই সূরা পড়ুন এবং দেখুন জাদু দিয়ে কষ্ট দেওয়া ব্যক্তির কী হয় (আলোচনা ও আমল)
لاتترك من سحرك دون أن تؤذيه وتقلب السحر عليه إقرأ هذه السورتين وشاهد ماسيحدث لمن آذاك بالسحر
শোনার পরামর্শ: প্রতিদিন অন্তত একটি অডিও পূর্ণ মনোযোগে শুনবেন। শাইখের নির্দেশনা অনুযায়ী একই অডিও দিনে ১–৩ বার শোনা যায়। শোনার সময় পাশে এক বোতল পানি ও অলিভ অয়েল রাখলে সেগুলো পরে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে (বিস্তারিত নিচে)।
অডিও ১, ৪ ও ৫-এ শাইখ যে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছেন, সেগুলো নিচে বিষয় অনুযায়ী সাজিয়ে দেওয়া হলো। প্রতিটি আয়াতের নিচে বাংলা অর্থ আছে, আর কোন অডিওতে কতবার পড়া হয়েছে তা নোটে বলা আছে। অডিও ৩-এ কুরআনের আয়াত নয়, শুধু একটি রুকইয়াহ-বাক্য বারবার পড়া হয়েছে (পরের অংশে)।
নিজে রুকইয়াহ করার সময় এই আয়াতগুলো এই ক্রমেই পড়তে পারেন। যে আয়াত শাইখ বারবার পড়েছেন, সেটি আপনিও বারবার পড়তে পারেন — সংখ্যা বাঁধা নয়।
অডিও ১ ও ৫ দুটিই শুরু হয়েছে আউযুবিল্লাহ, সূরা আল-ফাতিহা এবং সূরা আল-বাকারার ১–৫ আয়াত দিয়ে।
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪
১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
২. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
৩. যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
৪. যিনি বিচার দিনের মালিক।
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫–৭
৫. আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
৬. আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
৭. সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
অডিও ১ (০:০০) ও অডিও ৫ (০:৩০)-এ সম্পূর্ণ সূরা ফাতিহা।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১–৩
১. আলিফ লাম মীম।
২. এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,
৩. যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪–৫
৪. এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
৫. তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।
অডিও ১ (০:২৭) ও অডিও ৫ (০:৪৬)।
অডিও ৫-এ আয়াতুল কুরসী পরপর ৩ বার পড়া হয়েছে (১:১৪ থেকে ২:২৪)।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৫৫
২৫৫. আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
অডিও ৫ — ৩ বার।
অডিও ১-এ সূরা বাকারার ১০২ নং আয়াত পড়া হয়েছে (১:১০ থেকে ২:১২); আয়াতের শুরুর অংশ পরে আবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২
১০২. তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।
অডিও ১ (১:১০)। সিহর কে শেখাল, তার পরিণতি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো জাদুর কথা এই আয়াতে।
"তাবি'আহ" শব্দটি এসেছে اتّبع (অনুসরণ করা) ধাতু থেকে। শাইখ এই দুই আয়াত বেছে নিয়েছেন, যেখানে অনুসৃত ও অনুসরণকারীদের মধ্যে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার (وتقطعت بهم الأسباب) কথা আছে। অডিও ১-এ আয়াত ১৬৬ বহুবার এবং বিশেষ করে "وتقطعت بهم الأسباب" অংশটি বারবার পড়া হয়েছে (৭:২৭ থেকে ১০:৫১); অডিও ৫-এ আয়াত ১৬৬ পরপর প্রায় ২০ বার পড়া হয়েছে (২:৩১ থেকে ৪:৪৫)।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৬–১৬৭
১৬৬. অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক।
১৬৭. এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।
অডিও ১ (৭:২৭) — আয়াত ১৬৬ ও ১৬৭, শেষে "وما هم بخارجين من النار" অংশ ৭ বার। অডিও ৫ (২:৩১) — আয়াত ১৬৬ প্রায় ২০ বার।
অডিও ১-এ (১০:৫৫) "ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدو مبين" অংশটি বারবার পড়া হয়েছে — এটি সূরা বাকারার ১৬৮ নং আয়াতের অংশ। অডিও ৫-এ (৬:৩৭ থেকে ৮:৪৬) সূরা আন-নূরের ২১ নং আয়াত পরপর ৬ বার সম্পূর্ণ পড়া হয়েছে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৮
১৬৮. হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
অডিও ১ (১০:৫৫) — শেষাংশ বারবার।
সূরা আন-নূর, আয়াত ২১
২১. হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন।
অডিও ৫ (৬:৩৭) — ৬ বার সম্পূর্ণ।
অডিও ৫-এর মূল আয়াত এটি — "فقطع دابر القوم الذين ظلموا" (জালিমদের মূল শিকড় কেটে দেওয়া হলো)। এটি দুই দফায় (৮:৪৯ থেকে ১১:১১ এবং ১৪:১০ থেকে ১৬:৩২) প্রায় ৫০ বার পড়া হয়েছে — দড়ি কাটার রুকইয়াহর কেন্দ্রীয় আয়াত। এর মাঝে সূরা আল-আ'রাফের ১৭৫ নং আয়াত ৯ বার পড়া হয়েছে, যেখানে "فأتبعه الشيطان" (শয়তান তার পিছু নিল) কথাটি আছে।
সূরা আল-আন'আম, আয়াত ৪৫
৪৫. অতঃপর জালেমদের মূল শিকড় কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।
অডিও ৫ — প্রায় ৫০ বার, দুই দফায়।
সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ১৭৫
১৭৫. আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে।
অডিও ৫ (১১:১৭) — ৯ বার।
অডিও ৫-এ (১২:৪০ থেকে ১৪:০০) সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াত ৭ বার পড়া হয়েছে — যেখানে আল্লাহ বলেন আসমান ও জমিন বন্ধ ছিল, তিনি খুলে দিলেন (ففتقناهما)। বন্ধ ও তালাবদ্ধ অবস্থা খুলে যাওয়ার নিয়তে এটি পড়া হয়েছে।
সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৩০
৩০. কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
অডিও ৫ (১২:৪০) — ৭ বার।
অডিও ১-এ (৩:৪০) সূরা আস-সাফফাতের প্রথম ১০ আয়াত পড়া হয়েছে, এবং শেষ আয়াতের "فأتبعه شهاب ثاقب" (জ্বলন্ত উল্কা তার পশ্চাদ্ধাবন করে) অংশটি একটানা প্রায় ৩০ বার। অডিও ৫-এ (৪:৪৯ থেকে ৬:৩০) ১০ নং আয়াত পুরোটা ১৮ বার পড়া হয়েছে।
সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১–৪
১. শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
২. অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
৩. অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের-
৪. নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৫–৭
৫. তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
৬. নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
৭. এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৮–১০
৮. ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
৯. ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
১০. তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
আয়াত ১০: অডিও ১-এ প্রায় ৩০ বার, অডিও ৫-এ ১৮ বার।
অডিও ১-এ (৫:৫৮) সূরা আত-তারিকের প্রথম ৪ আয়াত পড়ে ৪ নং আয়াত "إن كل نفس لما عليها حافظ" একটানা প্রায় ২০ বার পড়া হয়েছে। অডিও ২-এর শিরোনামও এই সূরার নামে (رقية الطارق) — তবে সে ভিডিওর ক্যাপশন না থাকায় তার ভেতরের বিষয়বস্তু এখানে লেখা হয়নি।
সূরা আত-তারিক, আয়াত ১–৪
১. শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর।
২. আপনি জানেন, যে রাত্রিতে আসে সেটা কি?
৩. সেটা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
৪. প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।
অডিও ১ (৫:৫৮) — আয়াত ৪ প্রায় ২০ বার।
অডিও ১-এ (১২:০৮) সূরা বাকারার ২৬৩ নং আয়াত পড়ে "يتبعها أذى" অংশটি বহুবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, এরপর (১৩:০৪) সূরা আল-বুরূজের ২০ নং আয়াত "والله من ورائهم محيط" ১০ বার। অডিও ৪-এ (৯:১৭ থেকে ১১:০৪) সূরা বাকারার ২৬৬ নং আয়াতের "فأصابها إعصار فيه نار فاحترقت" অংশটি বারবার পড়া হয়েছে — তাবি'আহ, তার গিঁট, জাদু, বদনজর, হাসাদ ও সৈন্য সব পুড়ে যাওয়ার নিয়তে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৬৩
২৬৩. নম্র কথা বলে দেয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ঐ দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেয়া হয়। আল্লাহ তা’আলা সম্পদশালী, সহিঞ্চু।
অডিও ১ (১২:০৮) — "يتبعها أذى" বহুবার।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৬৬
২৬৬. তোমাদের কেউ পছন্দ করে যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান হবে, এর তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে, আর এতে সর্বপ্রকার ফল-ফসল থাকবে এবং সে বার্ধক্যে পৌছবে, তার দুর্বল সন্তান সন্ততিও থাকবে, এমতাবস্থায় এ বাগানের একটি ঘূর্ণিবায়ু আসবে, যাতে আগুন রয়েছে, অনন্তর বাগানটি ভষ্মীভূত হয়ে যাবে? এমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে নিদর্শনসমূহ বর্ননা করেন-যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর।
অডিও ৪ (৯:১৭) — "فأصابها إعصار فيه نار فاحترقت" অংশ বারবার।
সূরা আল-বুরূজ, আয়াত ২০
২০. আল্লাহ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
অডিও ১ (১৩:০৪) — ১০ বার।
অডিও ১-এর শেষে (২০:১০) সূরা গাফিরের ৬৯–৭১ আয়াত পড়ে "والسلاسل يسحبون" অংশটি ৬ বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। অডিও ৪-এর শেষেও (১৯:০০) ৭১ নং আয়াত পড়া হয়েছে।
সূরা গাফির (আল-মু'মিন), আয়াত ৬৯–৭১
৬৯. আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে?
৭০. যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে।
৭১. যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
অডিও ১ (২০:১০) ও অডিও ৪ (১৯:০০)।
অডিও ৪-এ (৭:০৯ থেকে ৯:১৭) সূরা আত-তাহরীমের ৬ নং আয়াতের "عليها ملائكة غلاظ شداد لا يعصون الله ما أمرهم ويفعلون ما يؤمرون" অংশটি বারবার পড়া হয়েছে।
সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬
৬. মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।
অডিও ৪ (৭:০৯) — শেষাংশ বারবার।
অডিও ১-এ (১৭:৪৯ থেকে ২০:০৪) চারটি শিফার আয়াত পড়া হয়েছে — সূরা আল-ইসরার ৮২ নং আয়াত ৮ বার, সূরা আশ-শু'আরার ৮০ নং আয়াতের সাথে সূরা আত-তাওবার ১৪ নং আয়াতের শেষাংশ "ويشف صدور قوم مؤمنين" মিলিয়ে ৯ বার, এবং সূরা ফুসসিলাতের ৪৪ নং আয়াতের "قل هو للذين آمنوا هدى وشفاء" অংশ ৫ বার।
সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮২
৮২. আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।
অডিও ১ (১৭:৪৯) — ৮ বার।
সূরা আশ-শু'আরা, আয়াত ৮০–১৪
৮০. যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।
১৪. যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
অডিও ১ (১৮:৫০) — "وإذا مرضت فهو يشفين" ও "ويشف صدور قوم مؤمنين" একসাথে ৯ বার।
সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪৪
৪৪. আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়।
অডিও ১ (১৯:৪৪) — "قل هو للذين آمنوا هدى وشفاء" অংশ ৫ বার।
অডিও ৪-এ (১২:০২ থেকে ১৩:১৩) সূরা আল-ফালাকের ৪ নং আয়াত "ومن شر النفاثات في العقد" (গিঁটে ফুঁ দেওয়া জাদুকরদের অনিষ্ট থেকে) ১০ বার এবং ৫ নং আয়াত "ومن شر حاسد إذا حسد" (হিংসুকের অনিষ্ট থেকে) ৭ বার পড়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সূরাটি এখানে দেওয়া হলো।
সূরা আল-ফালাক, আয়াত ১–৫
১. বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,
২. তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,
৩. অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
৪. গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে
৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
অডিও ৪ (১২:০২) — আয়াত ৪ দশ বার, আয়াত ৫ সাত বার।
কুরআনের আয়াতের পাশাপাশি শাইখ নিজের ভাষায় কিছু রুকইয়াহ-বাক্য ও দোয়া বারবার পড়েছেন। এগুলো মাসনুন দোয়া নয়, শাইখের নিজের রচিত রুকইয়াহ-বাক্য; ইউটিউবের আরবি ক্যাপশন থেকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন বানানে লেখা হয়েছে। প্রতিটির নিচে বাংলা অর্থ দেওয়া আছে, যাতে বুঝে পড়া যায়।
যিনি আরবি পড়তে পারেন, তিনি আরবিতে পড়বেন। যিনি পারেন না, তিনি বাংলা অর্থটিই নিজের ভাষায় দোয়া হিসেবে পড়বেন — শাইখ নিজেই বলেছেন বাক্যগুলো লিখে নিয়ে পানিতে পড়া যায়।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাক সেই প্রতিটি গিঁট, যার পিছু তাবি'আহ লেগে আছে।
৫ বার পড়া হয়েছে।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে খুলে যাক সেই প্রতিটি গিঁট, যা তাবি'আহ বেঁধেছে।
৬ বার পড়া হয়েছে।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে কেটে যাক তাবি'আহর সাথে বাঁধা প্রতিটি গিঁট।
৮ বার পড়া হয়েছে।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রতিটি তাবি'আহ এই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক।
৬ বার পড়া হয়েছে।
হে আমার রব, আপনার কালিমাসমূহের মাধ্যমে কেটে দিন তারা যা তাবি'আহর সাথে বেঁধেছে। হে আল্লাহ, তারা যা কিছু বেঁধেছে সব খুলে দিন ও কেটে দিন, আর তারা যা কিছু বন্ধ করেছে সব খুলে দিন।
প্রথম বাক্য ৫ বার, শেষ অংশ ৩ বার।
আল্লাহর নামে আমি এই শরীরের রুকইয়াহ করছি — প্রতিটি তাবি'আহ থেকে যে একে কষ্ট দিয়েছে, প্রতিটি তাবি'আহ থেকে যে একে জাদু করেছে, প্রতিটি তাবি'আহ থেকে যে একে গিঁট দিয়ে বেঁধেছে। আল্লাহর নামে, আল্লাহর আদেশে প্রতিটি তাবি'আহ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক।
বিভিন্ন রূপে ১০ বার পড়া হয়েছে; এর পর শিফার আয়াত।
এই অডিওতে কুরআনের আয়াত নয়, শুধু নিচের একটি বাক্যই প্রায় ৭০ বার একটানা পড়া হয়েছে। শাইখের নির্দেশনা: এটি লিখে নিয়ে নিজে পানিতে ২০ মিনিট বা তার বেশি পড়ুন, তারপর সেই পানি পান করুন ও গোসল করুন।
মহাশক্তিশালী ও সুদৃঢ় আল্লাহর নামে — তাবি'আহ ও শয়তানদের দড়িগুলো কেটে গেল, তার জাদুগুলো, হাসাদ ও বদনজর বাতিল হয়ে গেল, তার তালাগুলো খুলে গেল, আর ক্বারীনকে লাগাম পরানো হলো।
অডিও ৩ — প্রায় ৭০ বার একটানা। তাবি'আহর দড়ি, জাদু, হাসাদ, বদনজর, তালা ও ক্বারীন — সবগুলো এক বাক্যে।
আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
অডিওর শুরু (০:০০) — বিসমিল্লাহ ৫ বার, লা হাওলা ৪ বার।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট প্রতিটি তাবি'আহর বিরুদ্ধে — যে আটকে আছে, লেগে আছে, পুরনো, হিংসুক, আটকে-রাখা ও গিঁট-বাঁধা; যে বদনজর, জাদু ও হাসাদ দিয়ে গিঁট বেঁধেছে, সুতা, লোহা ও খেজুর-আঁশের দড়ি দিয়ে গিঁট বেঁধেছে।
০:১৯ থেকে ২:০০ এবং ৩:০৭ থেকে ৪:৩০ — বহুবার, বিশেষণগুলো ভাগ ভাগ করে পুনরাবৃত্তি।
আমি আল্লাহর নামে শপথ দিচ্ছি প্রতিটি আধিপত্য-বিস্তারকারী, শক্তিশালী, বড় ও জাদুকর তাবি'আহকে — আল্লাহর আনুগত্যে এখনই বের হয়ে যাও। বের হও, খুলে বেরিয়ে যাও এখনই আল্লাহর আনুগত্যে — আল্লাহর কুদরতে, আল্লাহর শক্তিতে, আল্লাহর প্রতাপে, আল্লাহর নূরে, আল্লাহর সৈন্যদের দ্বারা।
২:০০ থেকে ৭:০৯ — "اخرجي بقدرة الله", "اخرجي بقوة الله", "تخرجين بنور الله", "تخرجين بجنود الله" প্রতিটি ৫–৯ বার।
পুড়ে গেল আল্লাহর কুদরতে, পুড়ে গেল আল্লাহর শক্তিতে, পুড়ে গেল আল্লাহর প্রতাপে, পুড়ে গেল আল্লাহর নূরে, পুড়ে গেল আল্লাহর সৈন্যদের দ্বারা। সব তাবি'আহ, তাদের গিঁট, তাদের জাদু, তাদের বদনজর, তাদের হাসাদ ও তাদের সৈন্যরা আল্লাহর সৈন্যদের দ্বারা পুড়ে গেল।
১১:০৪ থেকে ১২:০২ — সূরা বাকারার ২৬৬ নং আয়াতের "فاحترقت" অংশের পর।
আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
১৩:১৩ থেকে ১৩:৪৪ — সূরা ফালাকের পর; আল্লাহু আকবার ৫ বার, হাসবুনাল্লাহ ৬ বার।
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক — প্রতিটি তাবি'আহর ব্যাপারে যে শৈশব থেকে সীমালঙ্ঘন করেছে, যে শরীরের পিছু লেগেছে, যে শৈশব থেকে সঙ্গী হয়েছে, যে শৈশব থেকে বাস করেছে, প্রতিটি কালো বৃদ্ধারূপী তাবি'আহ, যে শরীরের প্রতি আসক্ত হয়েছে, যে শিরা ও রক্তে প্রবাহিত হয়েছে, যে মন, শরীর ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলেছে, প্রতিটি শক্তিশালী, জাদুকর ও হিংসুক তাবি'আহর ব্যাপারে।
১৩:৪৪ থেকে ১৬:২৫ — প্রতিটি বৈশিষ্ট্য ৩–৬ বার পুনরাবৃত্তি।
হে আল্লাহ, প্রতিটি তাবি'আহর চোখ (বদনজর) বিদীর্ণ করে দিন। হে আল্লাহ, প্রতিটি তাবি'আহর হাসাদ বাতিল করুন। হে আল্লাহ, প্রতিটি তাবি'আহর জাদু বাতিল করুন। হে আল্লাহ, প্রতিটি তাবি'আহর মাস (স্পর্শ) বাতিল করুন।
১৬:২৯ থেকে ১৮:০৩ — প্রথম বাক্য ১৩ বার, বাকি প্রত্যেকটি ৫–৭ বার।
আল্লাহর নামে — যাঁর নামের সাথে কোনো তাবি'আহ ক্ষতি করতে পারে না, শরীরের ভেতরে হোক বা শরীরের বাইরে।
১৮:০৩ থেকে ১৯:০০ — ১৩ বার। এটি মাসনুন দোয়া "بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء"-এর ধাঁচে শাইখের নিজের রূপ; এখানে হুবহু শাইখ যেমন পড়েছেন তেমনই রাখা হয়েছে।
আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে — আর আল্লাহ মহান।
১৯:৩১ — সমাপ্তি, সূরা গাফিরের ৭১ নং আয়াতের পর।
এই অডিও শুরুই হয়েছে দড়ি কাটার নিচের ঘোষণা দিয়ে; এরপর সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারা ১–৫, আয়াতুল কুরসী ও উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলো।
আল্লাহর নামে, আর আল্লাহ মহান। কেটে যাক শরীরের সাথে যুক্ত সব দড়ি; কেটে যাক তাবি'আহ শরীরের সাথে যে দড়িগুলো বেঁধেছে সব; আল্লাহর আদেশে কেটে যাক জাদু, বদনজর ও হাসাদ থেকে শরীরের সাথে বাঁধা সব দড়ি; কেটে যাক তাবি'আহ ও মাসের দড়ি। আল্লাহর নামে, আল্লাহর আদেশে কেটে যাক জাদুর খাদেম ও বদনজর-হাসাদের খাদেমের সাথে যুক্ত সব দড়ি। আল্লাহর নামে কেটে যাক শরীরকে ঘিরে থাকা সব দড়ি — কেটে যাক আল্লাহর আদেশে, আল্লাহর আদেশে, আল্লাহর আদেশে।
অডিও ৫ (০:০০) — একবার সম্পূর্ণ; এর পরই সূরা ফাতিহা।
নিজে অনুসরণ করতে চাইলে, বা শোনার সময় সাথে সাথে পড়তে চাইলে, প্রতিটি অডিওতে কী কী কোন ক্রমে পড়া হয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো। সময়গুলো ইউটিউব ক্যাপশনের।
১. ০:০০ — আউযুবিল্লাহ, সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারা ১–৫
২. ১:১০ — সূরা বাকারা ১০২ (শুরুর অংশ পুনরায়)
৩. ৩:৪০ — সূরা সাফফাত ১–১০; আয়াত ১০-এর "فأتبعه شهاب ثاقب" প্রায় ৩০ বার
৪. ৫:৫৮ — সূরা তারিক ১–৪; আয়াত ৪ প্রায় ২০ বার
৫. ৭:২৭ — সূরা বাকারা ১৬৬–১৬৭; "وتقطعت بهم الأسباب" ও "وما هم بخارجين من النار" বহুবার
৬. ১০:৫৫ — "ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدو مبين" (বাকারা ১৬৮) বহুবার
৭. ১২:০৮ — সূরা বাকারা ২৬৩; "يتبعها أذى" বহুবার
৮. ১৩:০৪ — সূরা বুরূজ ২০ — ১০ বার
৯. ১৩:৪৩ — গিঁট ধ্বংস/খোলা/কাটা ও তাবি'আহ বিচ্ছিন্ন করার রুকইয়াহ-বাক্যগুলো (উপরে অডিও ১-এর দোয়া)
১০. ১৭:৪৯ — শিফার আয়াত: ইসরা ৮২, শু'আরা ৮০ + তাওবা ১৪ (শেষাংশ), ফুসসিলাত ৪৪ (অংশ)
১১. ২০:১০ — সূরা গাফির ৬৯–৭১; "والسلاسل يسحبون" ৬ বার; বিসমিল্লাহ ৩ বার দিয়ে সমাপ্তি
১. ০:০০ — শাইখের ভূমিকা ও ব্যবহার-নির্দেশনা (উপরে দেওয়া)
২. ০:৪৫ থেকে শেষ — "بسم الله القوي المتين قطعت حبال التابعة..." বাক্যটি একটানা প্রায় ৭০ বার
১. ০:০০ — বিসমিল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
২. ০:১৯ — "حسبي الله على كل تابعة عالقة..." বহুবার
৩. ২:০০ — শপথ দিয়ে বের হওয়ার আদেশ: "أقسمت بالله... اخرجي وانسلخي الآن طاعة لله" — কুদরত, শক্তি, প্রতাপ, নূর ও সৈন্য দিয়ে
৪. ৭:০৯ — সূরা তাহরীম ৬-এর "عليها ملائكة غلاظ شداد..." বারবার
৫. ৯:১৭ — সূরা বাকারা ২৬৬-এর "فأصابها إعصار فيه نار فاحترقت" বারবার; এরপর "احترقت بقدرة الله..."
৬. ১২:০২ — সূরা ফালাক ৪ (১০ বার) ও ৫ (৭ বার)
৭. ১৩:১৩ — আল্লাহু আকবার, হাসবুনাল্লাহ ওয়া নি'মাল ওয়াকীল — প্রতিটি ধরনের তাবি'আহর ব্যাপারে
৮. ১৬:২৯ — "اللهم فجر عيون كل تابعة، اللهم أبطل حسد/سحر/مس كل تابعة"
৯. ১৮:০৩ — "بسم الله الذي لا يضر مع اسمه تابعة" ১৩ বার
১০. ১৯:০০ — সূরা গাফির ৭১; বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার দিয়ে সমাপ্তি
১. ০:০০ — দড়ি কাটার ঘোষণা (উপরে অডিও ৫-এর দোয়া)
২. ০:৩০ — সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারা ১–৫
৩. ১:১৪ — আয়াতুল কুরসী ৩ বার
৪. ২:৩১ — সূরা বাকারা ১৬৬ প্রায় ২০ বার
৫. ৪:৪৯ — সূরা সাফফাত ১০ — ১৮ বার
৬. ৬:৩৭ — সূরা নূর ২১ — ৬ বার
৭. ৮:৪৯ — সূরা আন'আম ৪৫ — প্রায় ২৫ বার
৮. ১১:১৭ — সূরা আ'রাফ ১৭৫ — ৯ বার
৯. ১২:৪০ — সূরা আম্বিয়া ৩০ — ৭ বার
১০. ১৪:১০ থেকে শেষ — সূরা আন'আম ৪৫ — আবার প্রায় ২৫ বার
۞ ❖ ۞
শাইখের আলোচনা-ভিডিও থেকে: তাবি'আহর ধরন, শনাক্তকরণ, প্রেসক্রিপশন ও আমল
ভিডিও ৭, ৮, ১০, ১১ ও ১২-এর ক্যাপশন থেকে; ভিডিও ৯-এর ক্যাপশন নেই
۞ ❖ ۞
এই ভিডিওতে শাইখ একটি সহজ পরীক্ষা দেখিয়েছেন এবং তারপর ব্যাখ্যা করেছেন তাবি'আহর চিকিৎসা কেন জরুরি। তাঁর কথাগুলোর অর্থ নিচে ধাপে ধাপে:
১. পরীক্ষার পদ্ধতি: আপনার সাথে তাবি'আহ আছে কি না নিশ্চিত হতে চাইলে একা একটি জায়গায় বসুন; কিবলার দিকে মুখ করে বসলে আল্লাহর ইচ্ছায় ভালো। তারপর বসা অবস্থায় বাম হাত সামনে বাড়িয়ে দিন, দৃষ্টি হাতের আঙুলগুলোর উপর রাখুন, মনোযোগ দিন এবং কিছুক্ষণ আয়াতগুলো শুনুন। শাইখের কথায়: তাবি'আহ থাকলে আঙুলগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে খুলে যাবে, আঙুলে কিছু নড়াচড়া বা নির্দিষ্ট একটি নড়াচড়া দেখা দিতে পারে। আঙুল খুলে গেলে বুঝবেন তাবি'আহ আছে এবং চ্যানেলে থাকা তাবি'আহর রুকইয়াহ প্রোগ্রামগুলো দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।
২. পরীক্ষার সময় যা পড়া হয়েছে: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি (নবী ﷺ-এর শেখানো ইস্তিআযা), বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম; সূরা বাকারার ২৬৩ নং আয়াত এবং তার "يتبعها أذى" অংশ প্রায় ১৫ বার; সূরা আন-নামলের ৩০–৩১ আয়াত ৫ বার; তারপর শপথ-বাক্য (নিচে)।
৩. তাবি'আহ থাকলে ক্ষতি কী: শাইখের কথায়, তাবি'আহর উপস্থিতি একটি নেতিবাচক জিনিস — এটি বদনজর, হাসাদ বা জাদু থেকে সুস্থ হতে দেয় না; কারণ এটি বাইরে থেকে বাধা দেয়, যেন বাইরের কিছু ভেতরের ক্ষতিকে বের হতে দিচ্ছে না — যা শরীরের ভেতরে, শরীরকে ঘিরে বা শরীরে লেগে আছে।
৪. তাবি'আহর চিকিৎসা হলে যা হয়: প্রথমত, আটকে থাকা ও দুর্ভাগ্যের অবস্থাগুলো থেমে যায়। দ্বিতীয়ত, এরপর যে কোনো রুকইয়াহ বা চিকিৎসা-প্রোগ্রাম থেকে বড় উপকার পাওয়া যায় এবং বদনজর, হাসাদ, জাদু বা গিঁট — যা-ই থাকুক — খুব দ্রুত বের হয়ে যায়।
৫. শাইখের মতে সেরা চিকিৎসা: সূরা আত-তারিক — তাবি'আহর চিকিৎসায় অত্যন্ত চমৎকার। এছাড়া আযান ও তাকবীর তাবি'আহ চিকিৎসা ও দূর করার জন্য চমৎকার। চ্যানেলে তাবি'আহর পূর্ণাঙ্গ দীর্ঘ রুকইয়াহও আছে (এই ডকুমেন্টের প্রথম ভাগের অডিওগুলো)। প্রতিদিন এক বা দুইবার শুনলে আল্লাহর ইচ্ছায় অল্প সময়ের মধ্যে শিফা হবে।
নোট: আঙুল খুলে যাওয়ার এই পরীক্ষা শাইখের নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদ্ধতি; কুরআন-হাদীসে এমন কোনো পরীক্ষার কথা নেই এবং এটি কোনো নিশ্চিত রোগ-নির্ণয় নয়। আঙুল নড়লেই "তাবি'আহ আছে" বলে ধরে নেবেন না, আর না নড়লেও রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে বাধা নেই — কারণ কুরআন তিলাওয়াত সব অবস্থায়ই শিফা ও বরকত। শাইখ নিজেও "ওয়াল্লাহু আ'লা ওয়া আ'লাম" (আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন) বলে কথাটি শেষ করেছেন।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৬৩
২৬৩. নম্র কথা বলে দেয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ঐ দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেয়া হয়। আল্লাহ তা’আলা সম্পদশালী, সহিঞ্চু।
ভিডিও ৭ (১:০৮) — "يتبعها أذى" অংশ প্রায় ১৫ বার। প্রথম ভাগের অডিও ১-এও এই আয়াত।
সূরা আন-নামল, আয়াত ৩০–৩১
৩০. সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু;
৩১. আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।
ভিডিও ৭ (১:৪৯) — ৫ বার। সুলাইমান (আ.)-এর চিঠি: "আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না, বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে এসো"।
আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে — তার প্ররোচনা, তার ফুঁ (অহংকার) ও তার থুতু (কুমন্ত্রণা/কবিতা) থেকে।
ভিডিও ৭ (০:৫০) — ২ বার। এটি হাদীসে বর্ণিত ইস্তিআযা।
আল্লাহর নামে। আমি সুউচ্চ, মহান আল্লাহর নামে শপথ দিচ্ছি — এই শরীরের উপর যদি কোনো তাবি'আহ থাকে, সে এখনই আঙুলগুলো খুলে দেবে। আমি সুউচ্চ, মহান আল্লাহর নামে শপথ দিচ্ছি — এই শরীরে যদি কোনো আধিপত্যকারী তাবি'আহ থাকে, সে এখনই আঙুলগুলো খুলে দেবে। আমি সুউচ্চ, মহান আল্লাহর নামে শপথ দিচ্ছি — এই শরীরের উপর যদি কোনো আধিপত্যকারী তাবি'আহ থাকে, সে আল্লাহর আদেশে এখনই তার আঙুলগুলো খুলে দেবে। আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে, আল্লাহর নামে।
ভিডিও ৭ (২:৩০) — পরীক্ষার শপথ-বাক্য; শাইখের নিজের ভাষা।
ভিডিও ৭-এ শাইখ সূরা আত-তারিককে তাবি'আহর সেরা চিকিৎসা বলেছেন; ভিডিও ৮-এর প্রেসক্রিপশনে এটি ৩ বার পড়তে বলেছেন; ভিডিও ১১-এ ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসীর সাথে পড়তে বলেছেন; আর অডিও ২-এর নামই "রুকইয়াতুত তারিক"। প্রথম ভাগে এর ১–৪ আয়াত ছিল; এখানে সম্পূর্ণ ১৭ আয়াত।
সূরা আত-তারিক, আয়াত ১–৪
১. শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর।
২. আপনি জানেন, যে রাত্রিতে আসে সেটা কি?
৩. সেটা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
৪. প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।
সূরা আত-তারিক, আয়াত ৫–৮
৫. অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।
৬. সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।
৭. এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।
৮. নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।
সূরা আত-তারিক, আয়াত ৯–১২
৯. যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,
১০. সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।
১১. শপথ চক্রশীল আকাশের
১২. এবং বিদারনশীল পৃথিবীর
সূরা আত-তারিক, আয়াত ১৩–১৭
১৩. নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালা।
১৪. এবং এটা উপহাস নয়।
১৫. তারা ভীষণ চক্রান্ত করে,
১৬. আর আমিও কৌশল করি।
১৭. অতএব, কাফেরদেরকে অবকাশ দিন, তাদেরকে অবকাশ দিন, কিছু দিনের জন্যে।
১৫–১৬ আয়াত: "তারা ভীষণ চক্রান্ত করে, আর আমিও কৌশল করি" — চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর নিজের ঘোষণা।
শাইখ বলেছেন: এই প্রেসক্রিপশনটি সহজ কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি পুরনো প্রেসক্রিপশনগুলোর একটি, যাতে তিনি কিছু সংযোজন করেছেন — সেটি হলো কুরআনুল কারীম। এটি তাবি'আহ খোলার জন্য, শরীরের সাথে যুক্ত যে কোনো মাস (স্পর্শ) খোলার জন্য, পেটে বাঁধা অদৃশ্য গিঁটের বাঁধন খোলার জন্য, আটকে থাকা থেকে মুক্তি, অনিদ্রা থেকে মুক্তি, শরীরকে ঘিরে থাকা সমস্যা, বিতৃষ্ণা এবং জীবনের তীব্র আটকে থাকা থেকে মুক্তির জন্য — আল্লাহর ইচ্ছায় চূড়ান্তভাবে, তিন জুমআয়, অর্থাৎ ২১ দিনে: প্রথম জুমআ, দ্বিতীয় জুমআ ও তৃতীয় জুমআ।
উপকরণ:
১. এক ব্যাগ মোটা দানার লবণ (ملح خشن) — যেমন ১ কেজি বা ২ কেজি।
২. সম্ভব হলে এক কাপ হারমাল বীজ (حب الحرمل — ইসবন্দ/হারমাল, পাওয়া যায় আতর-ভেষজের দোকানে)। এটি লবণের সাথে মিশিয়ে নিবেন।
পড়ার নিয়ম: লবণ ও হারমালের মিশ্রণটি একটি পাত্রে (গামলা বা হাঁড়িতে) রাখুন। তারপর তার উপর পড়ে ফুঁ দিন, পড়ে ফুঁ দিন — শব্দ করে (শোনা যায় এমন স্বরে) পড়বেন এবং ফুঁ দিবেন:
১. সূরা আল-ফাতিহা — ৩ বার
২. আয়াতুল কুরসী — ৩ বার
৩. সূরা আল-ফালাক — ৩ বার
৪. সূরা আন-নাস — ৩ বার
৫. সূরা আয-যালযালাহ — ৩ বার
৬. সূরা আল-কাফিরূন — ৩ বার
৭. সূরা আত-তারিক — ৩ বার
৮. সূরা ইয়াসীন — ১ বার (মুসহাফ থেকে পড়বেন)
ভাগ করা: পড়া শেষে লবণ-হারমালের ব্যাগটি তিন ভাগে ভাগ করুন — প্রতি জুমআয় এক ভাগ ব্যবহার হবে। যেমন ১ কেজি কিনে পড়ে তিন ভাগ করলেন।
জুমআর দিনের কাজ: জুমআর দিন, জুমআর সালাতের আগে (যেমন সকাল ১০টায়), এক ভাগ লবণ যে কোনো পাত্রে আগুনে বসিয়ে শুকনো অবস্থায় ভাজুন (টেলে নিন) — কিছু না মিশিয়ে, যতক্ষণ না আগুনে খুব গরম হয়। শাইখের কথায়, লবণ রাখার জন্য মাটিতে বসানোর মতো কিছু থাকলে ভালো। লবণ খুব গরম হয়ে গেলে তার উপর পবিত্র পানি ঢালুন — সাধারণ পবিত্র পানি চলবে, গোলাপজল হলে আরও ভালো। তখন যে ভাপ উঠবে, সেই ভাপে দ্রুত পুরো শরীরে ভাপ (বাখুর) নিন এবং ভাপ শ্বাসের সাথে টানুন। শাইখের কথায়: আল্লাহর ইচ্ছায় এটি শিফাদানকারী ও শরীরকে সব রূহানী আক্রান্তি — বিশেষত তাবি'আহ ও আটকে থাকা — থেকে পবিত্রকারী। যতটা সম্ভব পুরো শরীরে ভাপ নিন — হাত দিয়ে ভাপ পুরো শরীরে টেনে নিন; পবিত্র পোশাক পরা অবস্থায়। পুরো শরীরে ভাপ নেওয়াই উত্তম।
ফল: শাইখের কথায়, প্রথম ব্যবহার থেকেই — প্রথম জুমআ থেকেই — উপকার পাবেন; পরপর তিন জুমআ নিয়ম মানুন, আল্লাহর ইচ্ছায় শিফার সুসংবাদ নিন।
সতর্কতা (এই কেন্দ্রের সংযোজন): ১. এটি শাইখের ভাষায়ই "পুরনো প্রেসক্রিপশন" — লবণ ও হারমালের অংশটি লোকজ পদ্ধতি, সুন্নাহ নয়; এতে আসল শক্তি কুরআনের তিলাওয়াত। ২. হারমাল বীজ কখনো খাবেন না, এটি বিষাক্ত হতে পারে; কেবল শাইখের বর্ণিত ভাপের জন্য। ৩. গরম লবণে পানি ঢাললে তীব্র ছিটকানো ভাপ ওঠে — মুখ ও চোখ দূরে রাখুন, পোড়া থেকে সাবধান, ঘর খোলামেলা (বাতাস চলাচলের) রাখুন, বাচ্চাদের দূরে রাখুন। ৪. গর্ভবতী, শ্বাসকষ্ট/অ্যাজমা বা হৃদরোগীরা এই ভাপ নেবেন না; তাঁদের জন্য শুধু কুরআন পড়া ও পড়া পানিই যথেষ্ট। ৫. হারমাল না পেলে শুধু লবণ দিয়েই করা যায় — শাইখ নিজেই বলেছেন "সম্ভব হলে"।
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আত-তারিক এই ডকুমেন্টে আগেই সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে। বাকি সূরাগুলো এখানে। সূরা ইয়াসীন (৮৩ আয়াত) মুসহাফ থেকে পড়বেন।
সূরা আন-নাস, আয়াত ১–৬
১. বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,
২. মানুষের অধিপতির,
৩. মানুষের মা’বুদের
৪. তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
৫. যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
৬. জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
সূরা আন-নাস — প্রেসক্রিপশনে ৩ বার; ভিডিও ১০-এ হিফাজতের আযকারেও।
সূরা আয-যালযালাহ, আয়াত ১–৪
১. যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,
২. যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।
৩. এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?
৪. সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
সূরা আয-যালযালাহ, আয়াত ৫–৮
৫. কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।
৬. সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।
৭. অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে
৮. এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
সূরা আয-যালযালাহ — প্রেসক্রিপশনে ৩ বার; ভিডিও ১২-এর আমলে ২১ বার।
সূরা আল-কাফিরূন, আয়াত ১–৬
১. বলুন, হে কাফেরকূল,
২. আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
৩. এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
৪. এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
৫. তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
৬. তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।
সূরা আল-কাফিরূন — প্রেসক্রিপশনে ৩ বার।
এই ভিডিওর শিরোনাম: "উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া তাবি'আহ, যা আপনার পেছনে ও সামনের সবকিছু আটকে দেয় — আল্লাহর ইচ্ছায় চূড়ান্ত চিকিৎসা"। ভিডিওটির ইউটিউবে কোনো ক্যাপশন নেই, তাই এর ভেতরের বক্তব্য এখানে লেখা হয়নি — দেখার জন্য লিংক সাজেস্টেড অডিও অংশে (ভিডিও ৯)।
উত্তরাধিকারসূত্রে আসা তাবি'আহ সম্পর্কে শাইখ যা অন্য ভিডিওগুলোতে বলেছেন: ভিডিও ১১-এ — মা বা বাবার শক্তিশালী আক্রান্তি থেকে সন্তানে শৈশব থেকেই তাবি'আহ আসতে পারে; অডিও ১-এর শিরোনামে — "শৈশব থেকে থাকা পুরনো, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা ও একগুঁয়ে তাবি'আহ"; অডিও ৪-এ — "যে তাবি'আহ শৈশব থেকে সঙ্গী হয়েছে, শৈশব থেকে বাস করেছে"। এই ধরনের জন্য প্রথম ভাগের অডিও ১ ও ৪ সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
শাইখ বলেছেন: আমরা সবসময় শয়তানী তাবি'আহ, মাস ও ক্বারীন নিয়ে কথা বলি; কিন্তু কখনো ভেবেছেন কি, সবচেয়ে বিপজ্জনক তাবি'আহ হতে পারে একজন মানুষ? সব ক্ষতি জ্বীনের থেকে নয় — কখনো একজন মানুষই আপনার পিছু লেগে থাকে, সে-ই কারণ। এটি এমন এক বিষয় যা নিয়ে কেউ কথা বলে না।
মানুষরূপী তাবি'আহ কে: একজন পুরুষ বা নারী, যে নীরবে আপনাকে নজরে রাখে, সবসময় আপনার খবর নেয়, আপনার খবরের পিছু লেগে থাকে — কী করছেন, কী কিনলেন, কোথায় গেলেন, কার সাথে দেখা করলেন, কী খেলেন। বাইরে থেকে আগ্রহী মনে হয়, কিন্তু ভেতরে হাসাদের আগুন, তুলনা, ঈর্ষা, আপনার নিয়ামত দেখে সংকীর্ণতা। সে নিজের হাতে আপনার ক্ষতি করে না, কিন্তু অবিরাম নেতিবাচক শক্তি দিয়ে আপনার পিছু নেয় — এখানেই বিপদ শুরু।
কীভাবে ক্ষতি হয়: কেউ যখন এভাবে মাত্রাতিরিক্তভাবে আপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, নিজের নাম সবসময় আপনার নামের সাথে জোড়ে, আপনার ছবি অবিরাম নিজের কল্পনায় আনে, আর তার অন্তরে হাসাদ বা বিদ্বেষ থাকে — তখন সে আপনার দিকে বারবার নেতিবাচক শক্তি পাঠায়। এটি জাদু নয়, হ্যাঁ; কিন্তু একটি বিদ্বেষী মনে আপনাকে অবিরাম স্মরণ করা। পুনরাবৃত্তির সাথে প্রভাব শুরু হয়: কিছু বিষয়ে হঠাৎ আটকে যাওয়া, বারবার দুঃস্বপ্ন, স্পষ্ট কারণ ছাড়া সংকীর্ণতা/অস্বস্তি, যা ভালো লাগত তাতে বিতৃষ্ণা, কেউ নজরে রাখছে এমন অনুভূতি। এর কারণ: কিছু মানুষ কেবল হাসাদ করেই থামে না, সারাক্ষণ মনে মনে আপনাকে ডাকে; যতবার কেউ আপনাকে খারাপভাবে স্মরণ করে, ততবার তার নেতিবাচক শক্তি আপনার সাথে লেগে যায়। কখনো, সে দুর্বল ঈমানের হলে বা আপনাকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবলে, দুঃখজনকভাবে তার ক্বারীন হস্তক্ষেপ করতে পারে, বা তার সাথে যুক্ত ওয়াসওয়াসা আপনার পিছু নিতে পারে — জাদুর গিঁট আছে বলে নয়, বরং নেতিবাচক মনোযোগের দরজা খুলে গেছে বলে।
সাবধান: সব আটকে থাকার কারণ জাদু নয়, সব ক্ষতির কারণ জ্বীন নয়। কখনো কারণ এমন একজন মানুষ, যে আপনাকে নজরে রেখে তৃপ্ত হয় না।
কীভাবে বুঝবেন আপনার একজন মানুষরূপী তাবি'আহ আছে:
১. এমন কেউ, যে অস্বাভাবিকভাবে আপনার খবর নেয়।
২. আপনি খবর বন্ধ করলে সে বিরক্ত হয়।
৩. আপনার আটকে যাওয়ায় সে খুশি হয়।
৪. আপনি এগিয়ে গেলে তার সংকীর্ণতা হয়।
৫. সে সবসময় আপনার জীবনের খুঁটিনাটি জানতে চায়।
৬. সে আপনাকে চায় না — সে নিজেকে আপনার সাথে তুলনা করতে চায়।
চিকিৎসা (সহজ, কিন্তু সচেতনতা লাগে):
১. নিজের খবর গোপন রাখুন। সব সাফল্য প্রচার করার নয়, সব পদক্ষেপ ঘোষণা করার নয়।
২. জীবনের খুঁটিনাটি মানুষের সাথে কম ভাগ করুন। অস্পষ্টতাই সুরক্ষা।
৩. খবরে-কৌতূহলী মানুষ থেকে দূরে থাকুন — যে আপনার সম্পর্কে বেশি জিজ্ঞাসা করে, সে সবসময় ভালোবাসার মানুষ নয়।
৪. আযকার দিয়ে নিজেকে হিফাজত করুন — সকাল-সন্ধ্যার আযকার, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস।
৫. নিজের গণ্ডি বড় করুন — নিজের জীবন সীমিত সংখ্যক মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে রাখবেন না।
সারসংক্ষেপ (শাইখের ভাষায়): মানুষরূপী তাবি'আহ কোনো কল্পকথা নয়; এটি একটি বিপজ্জনক আচরণের ধরন — একজন মানুষ হাসাদ ও অবিরাম নেতিবাচক চিন্তা দিয়ে নিজেকে আপনার সাথে বেঁধে রাখে। দরজা বন্ধ করার দায়িত্ব আপনার — ভয় দিয়ে নয়, প্রজ্ঞা দিয়ে। কখনো সমাধান কেবল দীর্ঘ রুকইয়াহ নয়, বরং একটি বুদ্ধিমান দূরত্ব। শাইখের দোয়া: "মহান আরশের রব মহান আল্লাহর কাছে চাই, তিনি আপনাদের থেকে সব অনিষ্ট এবং অনিষ্ট ও হাসাদ নিয়ে পিছু-লাগা প্রতিটি মানুষকে দূরে রাখুন। আল্লাহুম্মা আমীন।"
নোট: শাইখ এখানে "নেতিবাচক শক্তি" শব্দটি ব্যবহার করেছেন; কুরআন-সুন্নাহর ভাষায় এই বিষয়টিই হাসাদ ও বদনজর — যা সূরা আল-ফালাকে ("হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে") স্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং যা থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ আছে। তাই এই অংশের আমল হিসেবে মূল ভরসা আযকার ও তিন কুল; আর "খবর গোপন রাখা"র পরামর্শটি ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর পিতার দেওয়া উপদেশের (স্বপ্ন ভাইদের বলো না) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস আগেই দেওয়া হয়েছে; সূরা আল-ইখলাস এখানে।
সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১–৪
১. বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
২. আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
৩. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
৪. এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
সূরা আল-ইখলাস — ভিডিও ১০-এর হিফাজতের আযকারে; তিন কুলের প্রথমটি।
শাইখ বলেছেন: আজ আমি আপনাকে রূহানী রোগ, বিশেষত তাবি'আহ সম্পর্কে একটি গোপন কথা দেব। জানতে হবে, তাবি'আহ দুই ধরনের, একটি নয়। যে তাবি'আহ আপনার জীবন বাধাগ্রস্ত করে, উল্টোপাল্টা ঘটায়, আপনার সম্পদ, রিজিক ও পুরো জীবন থেকে বরকত তুলে নেয় — এই দুষ্ট অপরাধী তাবি'আহ কখনো একটি অশুভ রূহ, কখনো একজন ভয়ঙ্কর নারীর আকৃতি নেয়; আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো ঘুম থেকে জাগার সময় বা রাতে চোখ খুললেই তাকে দেখে, কখনো স্বপ্নে বারবার দেখে।
প্রথম ধরন — যা আমরা সাধারণত জানি: এটি আসে জাদুর সাথে — জাদু থাকার কারণে মানুষের পিছু নেয়, শরীরের বাইরে শরীরের সাথে লেগে থাকে, জাদুর খাদেমকে বের হতে দেয় না, খাদেমকে সমর্থন করে, শক্তিশালী করে, রক্ষা করে এবং শরীরের বাইরে উল্টোপাল্টা ঘটায়। এটি বদনজর ও হাসাদের সাথেও আসতে পারে, বিশেষত যখন বদনজর ও হাসাদ অনেক জমে যায়। আর উত্তরাধিকারসূত্রেও আসতে পারে — মা বা বাবার শক্তিশালী আক্রান্তি থেকে শৈশব থেকেই। এগুলো সব এক ধরনের মধ্যে।
দ্বিতীয় ধরন — ক্বারীনা-তাবি'আহ (التابعة القرينة), যা অনেক আক্রান্ত ও অনেক মানুষ জানেন না: এটি আসে একজন মানুষের ক্বারীন থেকে। উদাহরণ: একজন নারীর পিছু অন্য একজন নারী লেগে থাকে — তার খবরের পিছু নেয়। এই পিছু-লাগা নারীর ক্বারীনা প্রথম নারীর তাবি'আহ হয়ে যায়। ফলে তাকে স্বপ্নে দেখা যায়; বিবাহিতা হলে গর্ভপাত ঘটায়; বিয়ে আটকে দেয়; বরকত ও রিজিক উধাও করে — সেই ক্বারীনা যে বিষয়ে পিছু লেগেছে, সে অনুযায়ী। শাইখ জোর দিয়ে বলেছেন: আপনাকে যদি বলা হয় "আপনার তাবি'আহ আছে", সেটি জরুরি নয় যে জাদুর তাবি'আহ বা বদনজর-হাসাদের তাবি'আহ — এটি দ্বিতীয় ধরন, ক্বারীনের তাবি'আহও হতে পারে।
কীভাবে হয় (শাইখের উদাহরণ): আপনি বিবাহিতা; একজন নারী সবসময় — ফোনে, ফোনের বাইরে, ঘরে, ঘরের বাইরে — জিজ্ঞাসা করে: "অমুক বিয়ে করেছে, গর্ভবতী হয়েছে না এখনো?" প্রতি মাসে একবারের বেশি জিজ্ঞাসা করে: "গর্ভবতী হয়েছে না এখনো?" সে সবসময় গর্ভধারণের বিষয়ের পিছু লেগে থাকে — তখন আপনার হয় গর্ভধারণের তাবি'আহ, অমুকের ক্বারীন থেকে। ক্বারীনা অন্য বিষয়েও পিছু নিতে পারে: "অমুক বিয়ে করল কি করল না, কবে করবে" — সে হয়তো নিজে বিবাহিতা, বা অমুকের খালা/ফুফু, বিয়ের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, তবু সবসময় তার মনে অমুক — ফলে অমুকের বিয়ে আটকে যায়। জীবনের বাকি সব বিষয়েও একই কথা — নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কোনো ব্যক্তি, তার ক্বারীনসহ, আপনার পিছু নিতে পারে এবং বাস্তবে অনেক সমস্যা ঘটাতে পারে।
পুরুষ থেকে নারীতে, নারী থেকে পুরুষেও হয়: উদাহরণ — একজন নারীর কাছে সবসময় প্রস্তাব আসত; একজন নির্দিষ্ট পুরুষ তাকে একাধিকবার চেয়েছে, একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু নসীব হয়নি। সেই পুরুষের মন সেই নারীতে রয়ে গেল, তাকে নিয়ে ভাবতেই থাকল — ফলে তার ক্বারীন সেই নারীর পিছু নিল, তার অনুসারী হয়ে গেল; নারীটি সেই পুরুষের ক্বারীন থেকে তাবি'আহতে আক্রান্ত হলো এবং তার বিয়ে আটকে গেল।
এই ধরন বেশি বিপজ্জনক — অনেক প্রোগ্রাম ও অনেক রুকইয়াহ এটির চিকিৎসা করতে পারে না; খুব সহজ একটি বিষয়ই একে সারায়, যদি আল্লাহর ইচ্ছায় তা মেনে চলা যায় — অল্প সময়ে, বিশেষত গর্ভধারণ, কাজ, রিজিক ও বাকি বিষয়গুলোতে।
১. "কাটা" (قطع التابعة): পুরনো চিকিৎসকেরা — হয়তো আপনার দাদা-দাদি — একে বলতেন "তাবি'আহ কাটা", এবং কাটার নানা পদ্ধতি করতেন। কিন্তু এখানে অর্থ: চিকিৎসা হলো কাটা — আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে (গর্ভধারণ, বিয়ে, ইত্যাদি) চারপাশের মানুষের সাথে আপনার সব সংযোগ কাটা, অদৃশ্য দড়িগুলো কাটা। যারা সবসময় আপনার খবরের পিছু লেগে থাকে, তাদের কাছে আপনার খবর পৌঁছানো বন্ধ — তারা আপনার সম্পর্কে কিছুই জানবে না; আপনার ঘনিষ্ঠজনের কাছে গিয়ে জানতে চাইলেও পারবে না, কারণ আপনি ঘনিষ্ঠজনদের সাথেও এ বিষয়ে সংযোগ কেটেছেন। এর মানে কথা বলা বন্ধ নয় — বরং আপনার বিষয়টি বন্ধ: এ নিয়ে কথা বলবেন না, উত্তর দেবেন না — হয়েছে কি হয়নি, হবে কি হবে না। এক কথায়: জিহ্বা সংযত রাখুন (تمسك لسانك) — এটি আল্লাহর ইচ্ছায় অত্যন্ত শক্তিশালী চিকিৎসা; ক্বারীনের তাবি'আহ পিছু হটতে শুরু করবে এবং আপনার জীবন থেকে চূড়ান্তভাবে হারিয়ে যাবে।
২. সূরা ইয়াসীনের ৯ নং আয়াত — সকালে ৭ বার, সন্ধ্যায় ৭ বার, কমপক্ষে (আয়াত নিচে)।
৩. সকাল-সন্ধ্যার আযকার মেনে চলা — অত্যন্ত জরুরি।
৪. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী ও সূরা আত-তারিক পড়া।
শাইখের কথায়: এগুলো মেনে চললে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি নিশ্চয়তা দেন, তাবি'আহ থেকে মুক্তি হবে।
৫. শেষ ও অবশ্যকরণীয় — নাম ধরে দোয়া: যাদের থেকে ক্বারীনা-তাবি'আহ এসেছে বলে আপনার সন্দেহ — অমুক, অমুকা — যারা সবসময় আপনার সেই বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করে যেটি আপনার হচ্ছে না, আটকে আছে; আপনাকে জিজ্ঞাসা করুক বা অন্যদের — তাদের নিয়ে দোয়ায় মনোযোগ দিন (নিচের দোয়া)। শাইখের কথায়, এই দোয়াও আল্লাহর ইচ্ছায় তাবি'আহর চিকিৎসা করে।
সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৯
৯. আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদেরকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখে না।
ভিডিও ১১ — সকালে ৭ বার, সন্ধ্যায় ৭ বার, কমপক্ষে।
হে আল্লাহ, অমুক বা অমুকার প্রতিটি ক্বারীনা এবং অমুকের প্রতিটি ক্বারীনকে কেটে দিন। হে আল্লাহ, আমার ও অমুকার ক্বারীনার মাঝে বিচ্ছেদ করে দিন। হে আল্লাহ, আমার ও অমুকের ক্বারীনের মাঝে বিচ্ছেদ করে দিন।
ভিডিও ১১ (১০:০৩)। "অমুক/অমুকা" (فلان/فلانة)-এর জায়গায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম বলবেন। আরবিতে না পারলে বাংলা অর্থই নিজের ভাষায় বলবেন।
নোট: এই দোয়াটি কারো ক্ষতি চাওয়া নয় — কেবল তার ক্বারীন (সঙ্গী শয়তান) ও আপনার মাঝে বিচ্ছেদ চাওয়া। তবু কারো নাম নেওয়ার আগে ভেবে নিন; নিশ্চিত না হলে নাম না নিয়ে "যে-ই আমার পিছু লেগে থাকুক" বলে সাধারণভাবে দোয়া করুন। আর "জিহ্বা সংযত রাখা"র পরামর্শটি সম্পর্ক ছিন্ন করা নয় — শাইখ নিজেই স্পষ্ট করেছেন, শুধু নিজের সেই বিষয়টি নিয়ে কথা বন্ধ।
এই ভিডিওটি সরাসরি তাবি'আহ নিয়ে নয়, বরং জাদু ফিরিয়ে দেওয়া (رد السحر) নিয়ে — জাদুকরের উপর এবং যে ব্যক্তি জাদুকরের কাছে গিয়ে জাদু করিয়েছে তার উপর। শাইখের বক্তব্যের অর্থ:
প্রথম কথা: কেউ কেউ জানেন কে তাকে জাদু করেছে বা কে জাদুকরের কাছে গিয়ে জাদু এনে বসিয়েছে; কেউ কেউ জানেন না। দুই অবস্থায়ই আমল করা যায়: জানলে দোয়ায় তার নাম যোগ করবেন; না জানলে নাম ছাড়াই করবেন — কোনো অসুবিধা নেই।
দুই সূরা: জাদু ফিরিয়ে দিতে ও তার ক্ষতি ফেরাতে দুটি সূরা মেনে চলবেন — সূরা আল-ফীল (আল্লাহর ইচ্ছায় অত্যন্ত শক্তিশালী, খুব দ্রুত তাকে কষ্ট দেয়) এবং সূরা আয-যালযালাহ। শাইখ প্রতিটি জাদুগ্রস্তকে পরামর্শ দেন — বিশেষত যে জাদুকর ও জাদু-করানো ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে চায় — রাতে ঘুমের আগে বা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে সূরা আয-যালযালাহ ২১ বার, তারপর সূরা আল-ফীল ২১ বার পড়বেন, জাদুকর ও জাদু-করানো ব্যক্তির উপর জাদু ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে, শব্দ করে (শোনা যায় এমন স্বরে)।
এরপর দোয়া: দুই সূরা পড়ার পর নিচের দোয়াগুলো বলবেন এবং প্রচুর দোয়া করবেন — ১০ মিনিট, ১৫ মিনিট, ৩০ মিনিট, যতটা পারেন — জাদুকর ও জাদু-প্রার্থীর (যে জাদুকরের কাছে গিয়েছে আপনাকে জাদু করাতে) বিরুদ্ধে।
নাম জানলে: কেউ কেউ শতভাগ নিশ্চিত থাকেন কে জাদু করেছে — এমনকি জাদুকারী নিজেই তাকে বা অন্যদের বলে দেয় যে সে অমুককে জাদু করেছে। ব্যক্তি ও নাম জানলে দোয়ায় নাম বলবেন: "হে আল্লাহ, অমুককে প্রকম্পিত করুন, হে আল্লাহ, জাদু তার উপর ফিরিয়ে দিন..."। প্রতিদিন যালযালাহ ও ফীল ২১ বার পড়ে এভাবে প্রচুর দোয়া করবেন; আল্লাহর ইচ্ছায় সুসংবাদ নিন (ভিডিওর ক্যাপশন এখানেই শেষ)।
হে আল্লাহ, জাদুকরদের প্রকম্পিত করুন। হে আল্লাহ, যে আমার উপর জাদু করেছে তাকে প্রকম্পিত করুন। হে আল্লাহ, যে জাদুকরের কাছে গিয়ে আমার জন্য জাদু বানিয়েছে তাকে প্রকম্পিত করুন। হে আল্লাহ, তাকে ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ, জাদু তার উপরই ফিরিয়ে দিন। হে আল্লাহ, ক্ষতি তার উপরই ফিরিয়ে দিন, হে আল্লাহ, ক্ষতি তার উপরই ফিরিয়ে দিন, হে আল্লাহ, ক্ষতি তার উপরই ফিরিয়ে দিন।
ভিডিও ১২ (১:৪৮) — দুই সূরার পর; নাম না জানলে এভাবেই।
হে আল্লাহ, অমুককে প্রকম্পিত করুন। হে আল্লাহ, জাদু তার উপরই ফিরিয়ে দিন। হে আল্লাহ, তাকে ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ, তাকে কঠিন শাস্তি দিন। হে আল্লাহ, তার শয়তানদেরকে তার উপরই লেলিয়ে দিন। হে আল্লাহ, জাদু ও জাদুকরকে তার উপরই লেলিয়ে দিন।
ভিডিও ১২ (২:৩৮) — নাম জানলে "অমুক"-এর জায়গায় নাম। "اللهم أهلكه"-এর পরে শাইখ আরও কয়েকটি শব্দ বলেছেন যা ক্যাপশনে অস্পষ্ট; সেগুলো অনুমান করে লেখা হয়নি।
এই কেন্দ্রের নোট — খুব গুরুত্বপূর্ণ: ১. জালিমের বিরুদ্ধে দোয়া ইসলামে বৈধ — কুরআনে নিজেই আছে "তারা ভীষণ চক্রান্ত করে, আর আমিও কৌশল করি" (সূরা আত-তারিক ১৫–১৬)। কিন্তু কারো নাম নিয়ে দোয়া করবেন শুধু তখনই, যখন আপনি শতভাগ নিশ্চিত — শাইখ নিজেই এই শর্ত দিয়েছেন। সন্দেহের ভিত্তিতে কারো নাম নেওয়া তার উপর মিথ্যা অপবাদ, যা কবীরা গুনাহ; আর নির্দোষ কাউকে নিয়ে বদদোয়া নিজের উপরই ফিরে আসতে পারে। ২. নিশ্চিত না হলে নাম ছাড়াই দোয়া করুন — "যে-ই আমাকে জাদু করেছে" — আল্লাহ জানেন সে কে। ৩. এই আমলটি মূল রুকইয়াহর (প্রথম ভাগ) বিকল্প নয়, সহায়ক; আর প্রতিশোধের চেয়ে নিজের শিফা ও হিফাজতের দোয়াকেই প্রাধান্য দিন।
সূরা আল-ফীল, আয়াত ১–৫
১. আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?
২. তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?
৩. তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,
৪. যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
৫. অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
সূরা আল-ফীল — ভিডিও ১২-এ রাতে ২১ বার (সূরা আয-যালযালাহ ২১ বারের পরে)। ২ নং আয়াত: "তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?"
প্রথম ভাগের অডিও শোনা ও ৩০ মিনিটের সেলফ রুকইয়াহর সাথে দ্বিতীয় ভাগ থেকে যা যোগ হলো:
১. প্রতিদিন: সকাল-সন্ধ্যার আযকার (ভিডিও ১০ ও ১১ — দুটোতেই অত্যাবশ্যক বলা হয়েছে); সূরা ইয়াসীনের ৯ নং আয়াত সকালে ৭ বার ও সন্ধ্যায় ৭ বার (ভিডিও ১১); ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী ও সূরা আত-তারিক (ভিডিও ১১); তিন কুল (ভিডিও ১০)।
২. আচরণ: নিজের আটকে থাকা বিষয়টি (বিয়ে/সন্তান/রিজিক) নিয়ে কারো সাথে কথা বলা বন্ধ, খবর গোপন, কৌতূহলী মানুষ থেকে বুদ্ধিমান দূরত্ব, গণ্ডি বড় করা (ভিডিও ১০ ও ১১)।
৩. দোয়া: ক্বারীনা-তাবি'আহর দোয়া — নাম নিয়ে কেবল নিশ্চিত হলে (ভিডিও ১১)।
৪. ঐচ্ছিক, সাবধানতাসহ: তিন জুমআর লবণ-ভাপের প্রেসক্রিপশন (ভিডিও ৮) — সতর্কতার নোট মেনে।
৫. জাদুগ্রস্ত হলে, ঐচ্ছিক: রাতে সূরা আয-যালযালাহ ২১ বার + সূরা আল-ফীল ২১ বার + দোয়া (ভিডিও ১২) — নাম কেবল শতভাগ নিশ্চিত হলে।
৬. শনাক্তকরণ: আঙুলের পরীক্ষা (ভিডিও ৭) কেবল ইঙ্গিত, নিশ্চিত নির্ণয় নয়।
আপনি যে সমস্যাগুলো থেকে বের হতে চান অথবা যে রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করতে চান সেই সমস্যা ও রোগ গুলোকে ১, ২, ৩, এভাবে নাম্বার দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী প্রথমে নোট ডাউন করে নিবেন। পরবর্তীতে এক নম্বরে যে সমস্যা বা রোগটি থাকবে সেটার জন্য একদিন ৩০ মিনিট আপনি নিজেই রুকইয়াহ করবেন, দ্বিতীয় নম্বরে যে সমস্যা বা রোগটি থাকবে সেটার জন্য দ্বিতীয় দিন ৩০ মিনিট রুকইয়াহ করবেন। তৃতীয় দিন তৃতীয় সমস্যা বা রোগটির জন্য, চতুর্থ দিন চতুর্থ সমস্যা বা রোগের জন্য। এভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী প্রতিদিন একটি সমস্যা ধরে রুকইয়াহ করবেন; তালিকা শেষ হলে আবার এক নম্বর থেকে শুরু করবেন।
এই গাইডলাইনের বিষয় অনুযায়ী আপনার তালিকাটি হতে পারে এরকম:
১. বিয়ে আটকে থাকা
২. সন্তান/গর্ভধারণে বাধা
৩. রিজিকে বাধা
৪. শৈশব থেকে সঙ্গে থাকা তাবি'আহ ও তার দড়ি, গিঁট ও তালা
৫. ক্বারীনের প্রভাব, মাস, বদনজর ও হাসাদ
আপনার নিজের অবস্থা অনুযায়ী এই তালিকা ছোট-বড় করে নিবেন; যে সমস্যা আপনার নেই তা রাখবেন না।
"হে আল্লাহ আমার বিয়ে আটকে থাকা, সন্তান/গর্ভধারণে বাধা, রিজিকে বাধা, শৈশব থেকে সঙ্গে থাকা তাবি'আহ, শরীরে বাঁধা দড়ি ও গিঁট, তালা ও ক্বারীনের প্রভাব — এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত সকল বদনজর, হাসাদ, সেহের, জ্বীন, শরীরের ভিতরে ও বাইরে থাকা শয়তান জ্বীন ও তাদের সকল প্রভাবকে আপনি ধ্বংস করে দিন"
উপরের এই বাংলা দোয়াটি ১৫ মিনিট পাঠ করবেন। যেদিন তালিকার যে সমস্যাটির পালা, সেদিন দোয়ায় সেই সমস্যাটির নাম বলবেন। আর বাকি ১৫ মিনিট সূরা ফাতিহা, ফালাক এবং নাস পাঠ করবেন।
এভাবে বাংলা ১৫ মিনিট দোয়া এবং ১৫ মিনিট কুরআনের আয়াত পাঠ করে মোট ৩০ মিনিট রুকইয়াহ শেষ করার পর পানি, মধু, গোলাপজল, অলিভ অয়েল, সিদর পাতা, এগুলোতে ফুঁ দিয়ে মিশিয়ে ফুঁ দিবেন।
এরপর করার ফলে আপনার নিজের রুকইয়াহও হলো আবার সাথে সাথে আপনার পড়া পানি, পড়া মধু, পড়া তেল ইত্যাদি সব সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়ে গেল।
এই গাইডলাইনের বিশেষ সংযোজন: কুরআনের ১৫ মিনিটের অংশে সূরা ফাতিহা, ফালাক ও নাসের পর সময় থাকলে উপরের "ভিডিওগুলোতে পঠিত কুরআনের আয়াত" অংশ থেকে সূরা বাকারা ১৬৬, সূরা আন'আম ৪৫, সূরা সাফফাত ১০ ও সূরা আম্বিয়া ৩০ যোগ করবেন — শাইখ এগুলোই তাবি'আহর জন্য বারবার পড়েছেন। আর শাইখের নির্দেশনা অনুযায়ী অডিও ৩-এর বাক্যটি (بسم الله القوي المتين...) পানির উপর ২০ মিনিট পড়া একটি আলাদা আমল হিসেবে করতে পারেন।
১. পড়া পানি: রুকইয়াহ শেষে যে পানিতে ফুঁ দিয়েছেন, সেই পানি প্রতিদিন সকালে ও রাতে পান করবেন। শাইখ ফাওয়াজের নির্দেশনা অনুযায়ী অডিও ৩ শোনার সময় ফোন পানির পাশে রেখে সেই পানিও পান ও গোসলে ব্যবহার করা যায়।
২. পড়া মধু: সকালে খালি পেটে ১ চামচ পড়া মধু খাবেন; চাইলে পড়া পানিতে মিশিয়ে।
৩. পড়া অলিভ অয়েল: নিচের নিয়মে শরীরে মাখবেন।
৪. গোলাপজল ও সিদর পাতা: রুকইয়াহ গোসলে ব্যবহার করবেন (নিচে)।
৫. পিঙ্ক সল্ট: রুকইয়াহ গোসলে ১ চামচ।
সব সাপ্লিমেন্ট ৭ দিন পর পর নতুন করে পড়ে নিবেন। পানি ফুরিয়ে গেলে নতুন পানিতে আবার ফুঁ দিবেন।
গোসলের নিয়ম:
এক বালতি গোসলের পানি নিন। তাতে ১ লিটার পড়া পানি, এক চামচ পিঙ্ক সল্ট, ১০-১৫ চামচ গোলাপজল এবং ১ থেকে ৩ চামচ অলিভ অয়েল এবং সাতটি সিদর পাতা বেটে পেস্ট করে পানিতে মিশিয়ে ফেলুন।
এরপর এই ১ বালতি পানি থেকে আরেক বালতি পানি আপনার মাথার উপর থেকে আস্তে আস্তে ঢালবেন এবং পুরো শরীর ম্যাসাজ করবেন। পরবর্তীতে নরমাল ফ্রেশ পানি দিয়ে গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নিবেন।
শাইখ ফাওয়াজের নির্দেশনা অনুযায়ী অডিও ৩-এর বাক্যটি পানিতে ২০ মিনিট পড়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করাও এই গোসলের সাথে মিলিয়ে করা যায় — সেই পড়া পানিটিই বালতিতে ব্যবহার করবেন।
গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পুরো শরীরে পড়া অলিভ অয়েল মেখে নিবেন। বিশেষ করে আপনার শরীরের যে সকল জায়গায় ব্যথা করে, জ্বালাপোড়া করে এবং ফুসকুড়ি সেসব স্থানে ঐ পড়া অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করবেন। তাবি'আহর রুকইয়াহতে শাইখ শরীরে "বাঁধা দড়ি" ও "গিঁট"-এর কথা বলেছেন — শরীরের যে জায়গায় টান, ভার বা বাঁধা অনুভব হয়, সেখানে তেল মাখার সময় অডিও ৫-এর দড়ি কাটার বাক্যটি বা তার বাংলা অর্থ পড়বেন।
১. প্রতিদিন সকালে ও রাতে পড়া পানি দিয়ে মুখ ধোবেন।
২. একটি স্প্রে বোতলে পড়া পানি নিয়ে ঘরের কোণায় কোণায়, বিছানায় ও নিজের শরীরে স্প্রে করবেন।
৩. ঘর মোছার পানিতে এক গ্লাস পড়া পানি মিশিয়ে ঘর মুছবেন।
৪. পড়া পানিতে কিছু অ্যালকোহলমুক্ত (পারফিউম-ছাড়া) আতর মিশিয়ে ঘরে ও শরীরে ব্যবহার করতে পারেন।
৫. রাতে ঘুমানোর আগে পড়া পানি পান করে ঘুমাবেন।
সূরা কাহফ ৩ বার রাতে, সকালে সূরা ইয়াসিন, সন্ধ্যায় সূরা ওয়াকিয়া।
সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আযকার নিয়মিত পড়বেন। প্রতি ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল পড়বেন।
শাইখ ফাওয়াজের নির্দেশনা অনুযায়ী এই গাইডলাইনের ৬টি অডিও থেকে প্রতিদিন অন্তত একটি ১–৩ বার শুনবেন। সপ্তাহে একবার অডিও ৩-এর বাক্যটি নিজে পানিতে ২০ মিনিট পড়বেন।
নিয়মিত মাসনুন আমল করার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্নতের নিয়তে সাদাকাহ আদায় করবেন। বিয়ে, সন্তান ও রিজিকের বাধা কাটার জন্য দোয়ার সাথে সাদাকাহ একটি বড় মাধ্যম।
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময়মতো আদায় করবেন। সালাত ছাড়া রুকইয়াহর প্রভাব স্থায়ী হয় না।
২. ঘরে ছবি, মূর্তি, তাবিজ-কবচ, গান-বাজনা থাকলে সরিয়ে ফেলবেন। কোনো তাবিজ থাকলে খুলে পড়া পানিতে ভিজিয়ে ধ্বংস করবেন।
৩. রুকইয়াহ শোনার বা পড়ার সময় মাথাব্যথা, বমি ভাব, হাই ওঠা, কাঁপুনি, কান্না, শরীরে টান বা ভার অনুভব হতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া — ভয় পাবেন না, রুকইয়াহ বন্ধ করবেন না।
৪. রুকইয়াহর সময় কোনো জায়গায় ব্যথা বা টান অনুভব হলে সেই জায়গায় হাত রেখে পড়বেন এবং পড়া অলিভ অয়েল মাখবেন।
৫. প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক তীব্র হলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে বা নিজের নিয়ন্ত্রণ হারালে একা রুকইয়াহ করবেন না — পরিবারের কাউকে পাশে রাখবেন এবং অভিজ্ঞ রাকীর সাথে যোগাযোগ করবেন।
৬. গর্ভবতী হলে রুকইয়াহ গোসল ও সিদর পাতা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন; শোনা ও পড়া চালিয়ে যাবেন।
৭. গর্ভধারণে সমস্যা, দীর্ঘদিনের শারীরিক উপসর্গ বা মানসিক অস্থিরতার জন্য চিকিৎসকের পরীক্ষা ও চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, সহায়ক।
৮. অডিও ২, ৬ ও আলোচনা ৯-এর বিষয়বস্তু (ভেতরে কী বলা বা পড়া হয়েছে) এই ডকুমেন্টে লেখা হয়নি, কারণ সেগুলোর ক্যাপশন নেই; শোনার জন্য লিংক ঠিকই আছে।
১০. দ্বিতীয় ভাগের আলোচনা-ভিডিওগুলোতে শাইখের নিজের মত ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক কিছু পদ্ধতি আছে (আঙুলের পরীক্ষা, লবণ-ভাপের প্রেসক্রিপশন, "নেতিবাচক শক্তি"র ধারণা)। এগুলো কুরআন-হাদীসে সরাসরি বর্ণিত নয়, শাইখের অভিজ্ঞতালব্ধ কথা — সেভাবেই নিবেন। কুরআনের আয়াত, মাসনুন আযকার ও দোয়ার অংশগুলোই মূল ভরসা।
৯. ধৈর্য ধরবেন। কমপক্ষে ৪০ দিন নিয়মিত চালিয়ে যাবেন, তারপর অবস্থা পর্যালোচনা করবেন। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখবেন — শিফা একমাত্র তাঁর হাতে।
এই গাইডলাইনের সমস্যাগুলো ধরে নিজে রুকইয়াহ করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো।
একটি কাগজে আপনার সমস্যাগুলো গুরুত্বের ক্রমে লিখুন। উদাহরণ:
১. প্রধান সমস্যা — বিয়ে আটকে থাকা (অথবা আপনার ক্ষেত্রে যেটি প্রধান)
২. দ্বিতীয় সমস্যা — সন্তান/গর্ভধারণে বাধা
৩. তৃতীয় সমস্যা — রিজিকে বাধা
৪. চতুর্থ সমস্যা — শৈশব থেকে সঙ্গে থাকা তাবি'আহ, শরীরে বাঁধা দড়ি, গিঁট ও তালা, ক্বারীনের প্রভাব
প্রতিদিন একটি সমস্যা ধরে রুকইয়াহ করবেন; চার দিনে তালিকা শেষ হলে আবার প্রথম থেকে।
প্রথম ১৫ মিনিট: নিজের নির্দিষ্ট সমস্যা ও রোগের জন্য নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন। উপরের বাংলা দোয়াটি সেদিনের সমস্যার নাম বসিয়ে বারবার পড়বেন। সাথে শাইখ ফাওয়াজের রুকইয়াহ-বাক্যগুলোর বাংলা অর্থ — গিঁট খোলা, দড়ি কাটা, তাবি'আহ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ক্বারীনকে লাগাম পরানো — নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চাইবেন।
পরের ১৫ মিনিট: সূরা ফাতিহা, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করবেন। সময় থাকলে সূরা বাকারা ১৬৬, সূরা আন'আম ৪৫, সূরা সাফফাত ১০ ও সূরা আম্বিয়া ৩০ যোগ করবেন।
সেশনের আগে সামনে রাখবেন: এক বোতল পানি, এক বোতল অলিভ অয়েল, মধু, গোলাপজল ও সিদর পাতা। সেশন শেষে প্রতিটিতে ফুঁ দিবেন।
শাইখ ফাওয়াজের নির্দেশনা অনুযায়ী অডিও শোনার সময়ও ফোন পানির পাশে রাখবেন; শেষ হলে সেই পানি পান করবেন ও গোসলে ব্যবহার করবেন।
সপ্তাহে একদিন অডিও ৩-এর বাক্যটি কাগজে লিখে পানির উপর ২০ মিনিট বা তার বেশি পড়বেন, তারপর পান করবেন ও রুকইয়াহ গোসল করবেন।
প্রতিদিন: ৩০ মিনিটের সেশন + অন্তত একটি অডিও + সকাল-সন্ধ্যার আযকার + পড়া পানি পান ও অলিভ অয়েল।
সপ্তাহে একদিন: রুকইয়াহ গোসল + অডিও ৩-এর বাক্য পানিতে ২০ মিনিট।
সপ্তাহে একবার সাপ্লিমেন্ট নতুন করে পড়ে নেওয়া। ৪০ দিন পর অবস্থার পর্যালোচনা। মাঝখানে ভেঙে গেলে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করবেন।
۞ ❖ ۞
আল্লাহ তা'আলা আপনাকে পরিপূর্ণ শিফা দান করুন এবং আপনার বিয়ে, সন্তান ও রিজিকের সব বাধা দূর করে দিন। আমীন।