بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
রুকইয়াহ প্রোটোকল
স্বপ্নে যৌন হয়রানি
জিন-শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হিফাজত, লজ্জা না রেখেই সহজ সমাধান
✦ ✦ ✦
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center
ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল
অনেকেই ঘুমের মধ্যে এমন কিছু অনুভব করেন যা জেগে ওঠার পর অস্বস্তি, লজ্জা ও অপরাধবোধ রেখে যায় — অথচ এতে নিজের কোনো ইচ্ছাকৃত কাজ থাকে না। কুরআন নিজেই এলোমেলো, অস্থির স্বপ্নকে "আধগাসু আহলাম" (কল্পনাপ্রসূত, বিক্ষিপ্ত স্বপ্ন) বলে চিহ্নিত করেছে (১২:৪৪, ২১:৫) — অর্থাৎ প্রতিটি অস্বস্তিকর স্বপ্নের পেছনে অর্থ বা দোষ খোঁজার দরকার নেই। অনেক সময় এই অস্বস্তি জিন বা শয়তানের কুমন্ত্রণা/হয়রানি হতে পারে, যাকে আল্লাহ নিজেই শয়তানের "অপবিত্র কাজ" (৫:৯০) বলে অভিহিত করেছেন — অর্থাৎ এই অস্বস্তি আপনার গুনাহ নয়, বরং বাইরে থেকে আসা একটি উপদ্রব মাত্র। এই প্রোটোকল সাজানো হয়েছে এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই — নাপাকি নিয়ে বাড়তি ফিকহি ভয় না বাড়িয়ে, সহজ গোসল-আমল ও ঘুমের সুরক্ষার আয়াত দিয়ে হৃদয়ে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে।
যেসব লক্ষণ থাকলে এই প্রোটোকল কাজে আসবে
- ঘুমের মধ্যে এমন কিছু অনুভব করা যা অস্বস্তিকর বা লজ্জাজনক মনে হয়, কাউকে বলতে সংকোচ লাগে
- স্বপ্নে এমন দৃশ্য দেখা যাতে শরীরে অস্বস্তিকর স্পর্শ বা চাপ অনুভূত হয়েছে বলে মনে হয়
- ঘুম ভাঙার পর নিজেকে অপবিত্র মনে হওয়া, বারবার গোসল করতে ইচ্ছা করা
- একই ধরনের অস্বস্তিকর স্বপ্ন বারবার দেখা, বিশেষ করে রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে
- ঘুমাতে ভয় লাগা বা রাত হলে অস্থির লাগা, ঘুমের মধ্যে বুক চেপে ধরার অনুভূতি
- স্বপ্নের কারণে নিজেকে দোষী বা লজ্জিত মনে হওয়া, যদিও কোনো ইচ্ছাকৃত কাজ করেননি
- ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ শরীর অবশ লাগা বা নড়াচড়া করতে না পারার মতো অনুভূতি
- বিষয়টা নিয়ে কাউকে বলতে না পারা, একা একা দুশ্চিন্তা পুষে রাখা
জরুরি নোট: উপরের লক্ষণগুলোর অধিকাংশেরই সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে।
তাই আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। রুকইয়াহ চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে,
বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুরু করার দোয়া
অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছেই আরোগ্য চাইছি।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া পাঠকারীকে কোনো কিছু আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে না। (তিরমিযী ৩৩৮৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পাঠসংখ্যা: ১৯ বার
রুকইয়াহ শুরুর আগে মনোযোগ ও নিয়ত স্থির করে পড়ুন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
(মুসলিম ২৭০৮)
স্বপ্নটা আসলে কী হতে পারে — কুরআনের নির্দেশনা
ঘুম ভাঙার পর ধীরে ধীরে পড়ুন, অন্তরে এই বিশ্বাস রাখুন যে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
قَالَ يٰبُنَىَّ لَا تَقْصُصْ رُءْيَاكَ عَلَىٰ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ الشَّيْطٰنَ لِلْإِنسٰنِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ ۵
তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: ইয়াকূব (আ.)-এর সতর্কতা — শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু, স্বপ্নের প্রসঙ্গেই এই সতর্কতা এসেছে
وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّى أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرٰتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلٰتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسٰتٍ ۖ يٰأَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِى فِى رُءْيٰىَ إِن كُنتُمْ لِلرُّءْيَا تَعْبُرُونَ ۴۳ قَالُوا أَضْغٰثُ أَحْلٰمٍ ۖ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلٰمِ بِعٰلِمِينَ ۴۴
বাদশাহ বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী-এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক। তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: বাদশাহর স্বপ্নকে দরবারীরা 'এলোমেলো/কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন' (আধগাসু আহলাম) বলেছিলেন — প্রতিটি অস্বস্তিকর স্বপ্নের অর্থ খোঁজা জরুরি নয়
بَلْ قَالُوا أَضْغٰثُ أَحْلٰمٍ بَلِ افْتَرَىٰهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِـَٔايَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ ۵
এছাড়া তারা আরও বলেঃ অলীক স্বপ্ন; না সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, না সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আনয়ন করুক, যেমন নিদর্শন সহ আগমন করেছিলেন পূর্ববর্তীগন।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: কুরআন নিজেই ভীতিকর/বিভ্রান্তিকর স্বপ্নকে 'অলীক স্বপ্ন' বলে অভিহিত করেছে — মনকে হালকা করার আয়াত
আল্লাহর সুরক্ষা, প্রশান্ত ঘুম ও সহজ সমাধানের আয়াত
ঘুমানোর ঠিক আগে ও ঘুম ভাঙার পর — দুই সময়েই পড়া যায়।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْىَ قَالَ يٰبُنَىَّ إِنِّى أَرَىٰ فِى الْمَنَامِ أَنِّى أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يٰأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِى إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصّٰبِرِينَ ۱۰۲
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: ইবরাহীম (আ.)-এর স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াতপূর্ণ ছিল — স্বপ্ন যে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তার প্রমাণ
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْيَا ۚ إِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِينَ ۱۰۵
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: আল্লাহর ঘোষণা — 'তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে', নেক আমলের প্রতিদান হিসেবে ভালো স্বপ্নের প্রত্যাশা
لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّءْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ ءَامِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا ۲۷
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: আল্লাহ রাসূল ﷺ-কেও সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন — প্রশান্তি ও নিরাপত্তার আশ্বাস অন্তরে দৃঢ় করতে
إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِى مَنَامِكَ قَلِيلًا ۖ وَلَوْ أَرَىٰكَهُمْ كَثِيرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنٰزَعْتُمْ فِى الْأَمْرِ وَلٰكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ ۗ إِنَّهُۥ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ۴۳
আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: বদরের আগে আল্লাহ রাসূল ﷺ-কে স্বপ্নে দৃশ্য সহজ করে দেখান — ঘুম ও স্বপ্নের প্রতিটি দৃশ্য আল্লাহরই হাতে
يٰأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلٰمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطٰنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۹۰
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।
পাঠসংখ্যা: ১ বার
নিয়ত: অপবিত্র/নাপাক কাজ শয়তানের কার্যকলাপ থেকে আসে — এটা নিজের গুনাহ ভেবে ভয় বাড়ানোর দরকার নেই, শুধু গোসল করে সহজভাবে এগিয়ে যান
বিশেষ দোয়া — স্বপ্নে যৌন হয়রানি
এই দোয়াগুলো এই সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো। আয়াত পাঠ শেষে পড়ুন।
اللَّهُمَّ احْرِقْ كُلَّ أَذَى الشَّيْطَانِ عَلَى نَوْمِي وَأَحْلَامِي
হে আল্লাহ! আমার ঘুম ও স্বপ্নে থাকা সমস্ত শয়তানের হয়রানি জ্বালিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ كُلُّ تَسَلُّطٍ عَلَى نَوْمِي وَأَحْلَامِي
আল্লাহর নামে — আমার ঘুম ও স্বপ্নে সমস্ত আধিপত্য বাতিল করা হলো।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ بِقُوَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ عُقِدَتْ عَلَى نَوْمِي وَأَحْلَامِي
হে আল্লাহ! আপনার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমার ঘুম ও স্বপ্নে বাঁধা প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا أَرَى فِي مَنَامِي، وَمِنْ كَيْدِ الشَّيْطَانِ وَأَذَاهُ، فَاحْفَظْ جَسَدِي وَقَلْبِي وَأَنَا نَائِمٌ
হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই আমার ঘুমে যা দেখি তার অনিষ্ট থেকে, আর শয়তানের চক্রান্ত ও হয়রানি থেকে। আমার শরীর ও অন্তরকে হিফাজত করুন যখন আমি ঘুমিয়ে থাকি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার, ঘুমানোর ঠিক আগে
প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে অন্য সুন্নাহ দু'আর সাথে যুক্ত করে পড়া যায়।
اللَّهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِي وَبَدَنِي مِمَّا رَأَيْتُ، وَأَبْعِدْ عَنِّي وَسْوَسَةَ الشَّيْطَانِ، فَأَنْتَ الطَّاهِرُ وَتُحِبُّ الطَّهَارَةَ
হে আল্লাহ! আমি যা দেখেছি তা থেকে আমার অন্তর ও শরীর পবিত্র করে দিন, আর শয়তানের কুমন্ত্রণা আমার থেকে দূরে রাখুন। আপনি পবিত্র, আর আপনি পবিত্রতা পছন্দ করেন।
পাঠসংখ্যা: ১ বার, ঘুম থেকে উঠে গোসলের আগে
গোসলের আগে পড়ে নিলে মনে প্রশান্তি আসে; নাপাকি নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তার দরকার নেই।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَوْدِعُكَ نَفْسِي وَجَسَدِي هَذِهِ اللَّيْلَةَ، فَاحْفَظْنِي مِنْ كُلِّ أَذًى وَأَنَا لَا أَشْعُرُ، وَاجْعَلْ نَوْمِي طَاهِرًا آمِنًا
হে আল্লাহ! আজ রাতে আমি আমার সত্তা ও শরীর আপনার কাছে আমানত রাখলাম। যা আমি টেরও পাই না, এমন প্রতিটি ক্ষতি থেকে আমাকে হিফাজত করুন, আর আমার ঘুমকে পবিত্র ও নিরাপদ করে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার, শোয়ার দু'আর পর
শোয়ার দু'আর ঠিক পরপরই যুক্ত করে পড়া যায়।
সমাপ্তির সূরা ও দোয়া
প্রতিটি সেশন এভাবে শেষ করুন। শেষে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۱ اللَّهُ الصَّمَدُ ۲ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۳ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ ۴
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে হৃদয় দৃঢ় করা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۱ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۲ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۳ وَمِن شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الْعُقَدِ ۴ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ۵
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জাদু, হাসাদ ও রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۱ مَلِكِ النَّاسِ ۲ إِلٰهِ النَّاسِ ۳ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۴ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۶
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মানুষ ও জিনের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয়
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি — প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নবীজি ﷺ হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে এই দোয়া পড়ে ঝাড়তেন। (বুখারী ৩৩৭১)
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি — এমন প্রতিটি জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণ ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি ﷺ-কে এভাবে রুকইয়াহ করেছিলেন। (মুসলিম ২১৮৬)
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই — এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
(বুখারী ৫৭৪৩)
📌 সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন
ধারাবাহিকতাই মূল কথা। প্রতিদিন অল্প, কিন্তু নিয়মিত।
পদ্ধতি — ধাপে ধাপে
- অযু করে কিবলামুখী হয়ে নিরিবিলি বসুন। মোবাইল দূরে রাখুন।
- নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইছি, কালামের নিজের কোনো শক্তি নেই, শক্তি আল্লাহর।
- শুরুর দোয়াগুলো পড়ুন (অধ্যায় ১)।
- এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। পড়ার সময় দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্যার জায়গায় হাত বুলান।
- প্রতিটি আয়াতের নিচে দেওয়া নির্দেশনা বক্সে যতবার বলা আছে ততবার পড়ুন — কম-বেশি করার দরকার নেই।
- মাঝে বাংলায় নিজের ভাষায় ১৫ মিনিট মন খুলে দোয়া করুন। কান্না আসলে আটকাবেন না।
- শেষে সমাপ্তির সূরা ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ দিন চালিয়ে যান। মাঝে বাদ পড়লে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।
দৈনিক সময়সূচি
| সকাল | ফজরের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| সন্ধ্যা | মাগরিবের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| রাত | ঘুমানোর আগে — সমাপ্তির সূরা ও দোয়া, পড়া পানি পান |
| সাপ্তাহিক | সপ্তাহে একদিন রুকইয়াহ গোসল |
বাংলায় নিজের দোয়া (১৫ মিনিট)
আয়াত পাঠের মাঝে বা শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চান। নিচেরটি একটি নমুনা —
হুবহু এটাই পড়তে হবে এমন নয়, নিজের কথায় বলুন।
হে আল্লাহ, আমার ঘুম, আমার স্বপ্ন — সবকিছু আপনারই হাতে। আজ রাতে আমার ঘুমে শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা, কোনো হয়রানি প্রবেশ করতে দেবেন না। আমার শরীর ও অন্তরকে আপনি নিজ হেফাজতে রাখুন। যদি কখনো এমন কিছু দেখেও ফেলি, তাহলে আমার অন্তর থেকে সব লজ্জা ও অপরাধবোধ দূর করে দিন — কারণ আমি জানি, এতে আমার কোনো ইচ্ছা ছিল না। আপনি পবিত্র, আপনি পবিত্রতা পছন্দ করেন — আমাকেও পবিত্র ও নিরাপদ রাখুন।
পড়া তেল ম্যাসাজের স্থান
স্বপ্নে যৌন হয়রানি-এর ক্ষেত্রে ফোকাস: কপাল ও বুকের উপর — ঘুমানোর ঠিক আগে ও ঘুম ভাঙার সাথে সাথে
সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল
| পড়া পানি | এক বোতল পানিতে রুকইয়াহর আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। দিনে ৩ বার — সকালে খালি পেটে, দুপুরে, রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। |
| পড়া মধু | খাঁটি মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন সকালে এক চামচ। সূরা নাহল ৬৯ নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে ভালো। |
| পড়া অলিভ অয়েল | জয়তুন তেলে আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সবচেয়ে ভালো। |
| কালোজিরা | প্রতিদিন সকালে ৭টি কালোজিরা পড়া মধুর সাথে। নবীজি ﷺ বলেছেন কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় আছে। (বুখারী ৫৬৮৮) |
| রুকইয়াহ গোসল | বালতি পানিতে আয়াত পড়ে ফুঁ দিন, সাথে সাত পাতা বরই পাতা বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন। মাথা থেকে ঢেলে গোসল করুন — সপ্তাহে একদিন। |
| ঘরে স্প্রে | পড়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে ঘরের কোণা, দরজা-জানালা, বিছানার নিচে ছিটিয়ে দিন। |
দৈনিক আমল
রুকইয়াহর পাশাপাশি এই আমলগুলোই দীর্ঘমেয়াদি হিফাজত দেয়।
| ফজরের পর | সূরা ইয়াসীন ১ বার |
| সকাল-সন্ধ্যা | হিসনুল মুসলিমের সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত |
| আসরের পর | সূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার |
| রাতে | সূরা ক্বফ ৩ বার, সূরা মুলক ১ বার |
| ঘুমানোর আগে | আয়াতুল কুরসী ১ বার, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল ৩ বার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলানো |
| প্রতিদিন | সাধ্যমতো সাদাকাহ — অল্প হলেও প্রতিদিন। সাদাকাহ বালা দূর করে। |
| প্রতিদিন | ফরজ নামাজ জামাতে, ইস্তিগফার ১০০ বার, দরূদ ১০০ বার |
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।