بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
বিয়ে আটকে থাকা, প্রস্তাব না আসা বা এসে ফিরে যাওয়া, বাগদান ভেঙে যাওয়া এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের জাদু — আয়াত, রুকইয়াহ-বাক্য ও আমলের পূর্ণাঙ্গ সংকলন
শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদ (ইউটিউব চ্যানেল: مدينة العلم — মদীনাতুল ইলম)-এর বিয়ে-সংক্রান্ত ১৪টি ভিডিওর ভিত্তিতে সংকলিত ও বাংলায় সাজানো
۞ ❖ ۞
শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদের ইউটিউব চ্যানেলের সব ভিডিওর (৩৮৩টি, যাদের আরবি ক্যাপশন সংগ্রহে আছে) শিরোনাম ও ক্যাপশন খুঁজে বিয়ে-সংক্রান্ত যত আমল পাওয়া গেছে, সব এই গাইডে একত্র করা হয়েছে। মূল উৎস ১০টি ভিডিও — ২টি পূর্ণাঙ্গ রুকইয়াহ অডিও (অডিও ১ ও ২) এবং ৮টি আলোচনা ও শর্ট ভিডিও (৩–১০), যেগুলোর পুরো বিষয়ই বিয়ে বা বিয়ের বাধা। এর বাইরে আরও ৪টি ভিডিওর (১১–১৪) মূল বিষয় অন্য হলেও তার ভেতরে বিয়ে নিয়ে কিছু অংশ আছে; সেগুলোর শুধু ওই অংশটুকু নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি ভিডিওর বিষয়বস্তু ইউটিউবের নিজস্ব আরবি ক্যাপশন থেকে পড়ে নেওয়া হয়েছে — কোন আয়াত, কোন দোয়া, কতবার পড়া হয়েছে এবং শাইখ কী নির্দেশনা দিয়েছেন। ক্যাপশনের বাইরে কিছু যোগ করা হয়নি। যেখানে ক্যাপশনের কোনো শব্দ অস্পষ্ট, সেখানে তা নোটে বলা আছে।
এই ডকুমেন্টের সব কুরআনের আয়াত যাচাইকৃত উসমানী মুসহাফের পাঠ থেকে নেওয়া, সাথে বাংলা অর্থ ও সূরা-আয়াত নম্বর। শাইখ অনেক সময় আয়াতের একটি অংশ বারবার পড়েছেন; এখানে পুরো আয়াত দেওয়া হয়েছে এবং নোটে বলা আছে তিনি কোন অংশটি কতবার পড়েছেন। শাইখের নিজের ভাষায় পড়া রুকইয়াহ-বাক্য ও দোয়াগুলো ক্যাপশন থেকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন আরবি বানানে লেখা হয়েছে, সাথে বাংলা অর্থ — এগুলো কুরআন বা মাসনুন দোয়া নয়, শাইখের নিজের রচনা।
সীমাবদ্ধতা: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে চ্যানেলে আরও ২৩টি নতুন ভিডিও যুক্ত হয়েছে। সেগুলোর কোনোটির শিরোনামে বিয়ের কথা নেই; "বাধা" (تعطيل) নিয়ে কয়েকটি ভিডিওর ক্যাপশন নামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ইউটিউব তা আটকে দিয়েছে। তাই সেগুলো এই গাইডে নেই।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: এটি একটি রুকইয়াহ গাইডলাইন, কোনো রোগ নির্ণয় নয়। বিয়ে দেরি হওয়ার পেছনে অনেক স্বাভাবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক কারণ থাকে। কোনো লক্ষণ মিলে গেলেই নিশ্চিতভাবে "এটাই জাদু" বা "এটাই বদনজর" বলা যায় না। পেটব্যথা, মাসিকের সমস্যা, অনিদ্রা, অস্বাভাবিক কিছু দেখা বা শোনা — এসব উপসর্গ থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন। রুকইয়াহ ও চিকিৎসা একসাথে চলতে পারে; একটির জন্য অন্যটি বাদ দেবেন না। আর বিয়ের জন্য স্বাভাবিক চেষ্টা (পরিবারের সাথে কথা বলা, উপযুক্ত প্রস্তাব খোঁজা) চালিয়ে যাবেন — রুকইয়াহ সেই চেষ্টার বিকল্প নয়।
নিচে ১৪টি ভিডিও থেকে পাওয়া সব আমল একসাথে দেওয়া হলো। প্রতিটির বিস্তারিত বিবরণ, পূর্ণ আয়াত ও বাংলা অর্থ পরের অংশগুলোতে আছে। সব আমল একসাথে করা জরুরি নয় — নিজের অবস্থা অনুযায়ী ২–৩টি বেছে নিয়মিত করবেন।
১. সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ৭ (وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتْ) — প্রতিদিন এক গ্লাস পানির উপর ১০০ বার পড়ে, শব্দ করে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করবেন; সকালে বা সন্ধ্যায়। স্বপ্নে ও বাস্তবে লক্ষণ দেখা এবং বাগদান ও বিয়ে সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন। (ভিডিও ৪)
২. সূরা আল-হাজ্জ — প্রতিদিন এশার পর বা ঘুমের আগে পরপর ৩ বার, বিয়ের নিয়তে। বিয়ে বা বাগদান পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন। (ভিডিও ৫)
৩. সূরা আল-ফাতিহা — দৈনিক ওয়ির্দ হিসেবে সকালে আধা ঘণ্টা ও সন্ধ্যায় আধা ঘণ্টা, সম্ভব হলে কিবলামুখী হয়ে, দরজা খুলে যাওয়া ও সহজ হওয়ার নিয়তে, বারবার পড়বেন; প্রতিবার আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। (ভিডিও ৬)
৪. মেহেদির মিশ্রণ — মেহেদি, কুস্ত হিন্দি, রায়হান, কালো মিশক ও গোলাপজল মিশিয়ে তার উপর সূরা ফাতিহা অন্তত ২১ বার (সম্ভব হলে ১০০ বার) পড়ে ফুঁ দিয়ে মাথায়, হাতে (বিশেষ করে আঙুলে) ও পায়ে লাগাবেন; মাসে ২ বার। (ভিডিও ৩ — শাইখের অভিজ্ঞতালব্ধ পদ্ধতি, সতর্কতা-নোটসহ দেখুন)
৫. সূরা আল-জ্বিন, আয়াত ৯-এর অংশ (فَمَن يَسْتَمِعِ ٱلْءَانَ يَجِدْ لَهُۥ شِهَابًۭا رَّصَدًۭا) — শব্দ করে বারবার; ১০০ বার বা সংখ্যা ছাড়া; ৫–৭ দিন বা তার বেশি। শাইখ যে ভাইয়ের ঘটনা বলেছেন, তিনি একটি পরিচ্ছন্ন ঘরে একা বসে প্রতিদিন আধা ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পড়তেন — এটা সেই ভাইয়ের নিজের অভিজ্ঞতা, শাইখের নির্ধারিত নিয়ম নয়। (ভিডিও ৯)
৬. হাসাদের কারণে বাধা হলে: সূরা আল-ফালাক — দৈনিক ওয়ির্দ হিসেবে বেশি বেশি, রুকইয়াহর নিয়তে; সাথে হাসাদের রুকইয়াহ শোনা ছাড়বেন না। (ভিডিও ৭)
৭. স্বামী-স্ত্রী বা বাগদত্তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের জাদু হলে: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২ — পানির উপর ৭ বার পড়ে দুজনেই পান করবেন। অপরজন দূরে থাকলে বা ঝগড়া চললে একজনই ৭ বার পড়ে দোয়া করবেন, তারপর পান করবেন এবং সেই পানি থেকে রেখে দেবেন। ৭ দিন থেকে ২১ দিন। (ভিডিও ৮)
৮. রুকইয়াহ অডিও ১ ও ২ শোনা — এই দুই অডিওতে শাইখ আলাদা কোনো ব্যবহার-নির্দেশনা দেননি। কেন্দ্রের পরামর্শ: প্রতিদিন অন্তত একটি অডিও পূর্ণ মনোযোগে শুনবেন, পাশে এক বোতল পানি রাখবেন এবং শোনা শেষে সেই পানি পান করবেন।
৯. ভিত্তি — শাইখ বারবার বলেছেন: সকাল-সন্ধ্যার আযকার, সময়মতো সালাত, আল্লাহর নৈকট্য, গুনাহ থেকে দূরে থাকা, বেশি বেশি দরূদ (বিশেষ করে দরূদে ইবরাহীমী), রুকইয়াহ, দোয়া, সাদাকাহ এবং আল্লাহর উপর দৃঢ় ইয়াকীন। (ভিডিও ৩ ও ১০; ইয়াকীন ও আল্লাহর উপর ভরসার কথা ভিডিও ৯-এও)
ভিডিও ৩-এ শাইখ "বিয়ে আটকানোর জাদু"র যে লক্ষণগুলো বলেছেন এবং অন্য ভিডিওগুলোতে যে সমস্যাগুলোর কথা এসেছে, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো। শাইখ বলেছেন, লক্ষণগুলোর সবগুলো বা বেশিরভাগ থাকলে তবেই চিকিৎসা শুরু করবেন। এগুলো শাইখের নিজের বর্ণনা — লক্ষণ মিললেই রোগ নিশ্চিত, এমন নয়। শাইখ বলেছেন, এই লক্ষণগুলো নারী-পুরুষ দুজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
জাগ্রত অবস্থার লক্ষণ (ভিডিও ৩):
১. স্থায়ী মাথাব্যথা, বা মাঝে মাঝে ফিরে আসা মাথাব্যথা।
২. তীব্র সংকীর্ণতা (দম বন্ধ ভাব), বুকের উপর ভারী কিছু থাকার অনুভূতি — কখনো স্থায়ী, কখনো মাঝে মাঝে।
৩. অপর পক্ষকে (প্রস্তাবকারী বা পাত্র-পাত্রীকে) কুৎসিত রূপে দেখা, কখনো পশুর রূপে দেখা, বা তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া। পুরুষ বাগদানে গেলেও এমন দেখতে পারেন।
৪. অপর পক্ষের উপস্থিতিতে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতা।
৫. পেটে তীব্র ব্যথা ও অনেক ফোলাভাব, যা ওষুধে সাড়া দেয় না — বিশেষ করে জাদু যদি খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে।
৬. কোমরের নিচের অংশে ব্যথা, সাথে শরীরে ও দুই উরুর মাঝে নীল দাগ দেখা দেওয়া।
৭. প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে, বাগদান ভাঙতে বা বাগদান হতে না দিতে অজুহাত বানানো।
৮. কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সাধারণভাবে বিয়ের চিন্তা থেকেই বিতৃষ্ণা।
৯. (অগ্রসর অবস্থায়) অদ্ভুত শব্দ শোনা, অতিরিক্ত রাগ ও খিটখিটে ভাব, বাস্তবে নেই এমন ছায়া দেখা, বারবার ঘর থেকে পালানোর চিন্তা, মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম, তীব্র অনিদ্রা ও ঘুমে অস্বস্তি।
স্বপ্নের লক্ষণ (ভিডিও ৩): বারবার জুতা হারানো; কাপড় বা ব্যক্তিগত জিনিস হারানো; বাজারে বা মানুষের মাঝে খালি পায়ে হাঁটা; স্বপ্নে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে বা বাথরুমে যেতে না পারা; স্বপ্নে বারবার বিয়ের অনুষ্ঠান দেখা।
হাসাদের কারণে বাধার লক্ষণ (ভিডিও ৭): যখনই কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার কাছাকাছি আসে — যেমন বাগদানের দিন ঠিক হয় — ঠিক তখনই তীব্র অলসতা, অবসাদ, ক্লান্তি, কখনো অসুস্থতা, মুখে অনেক ব্রণ ওঠা বা হঠাৎ নানা ঝামেলা দেখা দেওয়া।
শিরোনাম ও রুকইয়াহ-বাক্যে উল্লেখিত অন্যান্য সমস্যা: প্রস্তাবকারীরা আসে না বা এসে আর ফিরে আসে না (ভিডিও ৩); প্রস্তাবকারীদের বিমুখ হওয়া (نفور الخطاب) ও ঘর থেকে দূরে সরে যাওয়া (অডিও ১, ২); প্রস্তাবকারীদের চোখ থেকে আড়াল করে রাখার জাদু (অডিও ২); সৌন্দর্য বিকৃত করার জাদু (سحر التشويه — অডিও ২); উত্তরাধিকারসূত্রে আসা বাধা (التعطيل الموروث — অডিও ১); স্বামী-স্ত্রী বা বাগদত্তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের জাদু (سحر التفريق — ভিডিও ৮); বিয়ে আটকে রাখা আশিক জ্বীন (অডিও ১২); গোপনাঙ্গে বাঁধা বিয়ে আটকানোর জাদু (অডিও ১১); বিয়ের উপর হাসাদ (অডিও ১৩); ছিটিয়ে দেওয়া জাদু, যা বিয়ে, রিজিক, চাকরি ও সফর আটকায় এবং স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটায় (ভিডিও ১৪)।
কেন্দ্রের সতর্কতা: উপরের অনেক লক্ষণ (পেটব্যথা ও ফোলাভাব, নীল দাগ, মাসিকের অনিয়ম, অনিদ্রা, অদ্ভুত শব্দ শোনা বা ছায়া দেখা, পালানোর চিন্তা) চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যারও লক্ষণ। এগুলো থাকলে আগে বা পাশাপাশি অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। কাউকে সন্দেহ করে পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।
নিচের ১৪টি ভিডিওই এই গাইডলাইনের উৎস। বিয়ের বাধার জন্য শোনার উপযোগী মূল রুকইয়াহ অডিও হলো অডিও ১ ও ২; ৩–১০ শাইখের আলোচনা ও শর্ট ভিডিও (আমল শেখার জন্য); ১১–১৪ সম্পর্কিত ভিডিও, যেগুলোর শুধু বিয়ে-সংক্রান্ত অংশ এখানে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটির আসল আরবি শিরোনাম, বাংলা অর্থ, দৈর্ঘ্য ও লিংক দেওয়া আছে। লিংকগুলো ইউটিউবের মূল লিংক — কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
অডিও ১ — যে রুকইয়াহ শুনে বহু মেয়ের বিয়ে হয়েছে — বিয়ের গিঁট ও প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করার গিঁট খোলা, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা বাধা দূর করা, সৌভাগ্য ও প্রস্তাব আসা (রুকইয়াহ অডিও)
رقية تزوجت بها كثير من الفتيات فك عقدة النكاح وعقدة نفور الخطاب والتعطيل الموروث جلب الحظ والخطاب
অডিও ২ — দ্রুত বিয়ের রুকইয়াহ — প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করার গিঁট খোলা, সৌন্দর্য বিকৃত করা ও বিতৃষ্ণা তৈরির জাদু বাতিল, প্রস্তাব আসায় বাধা দেওয়া গিঁট খোলা (রুকইয়াহ অডিও)
رقية للزواج السريع فك عقدة نفور الخطاب إبطال سحر التشويه والنفور فك العقد التي تمنع مجيئ الخطاب
অডিও ৩ — জাদুর কারণে আপনার বিয়ে তালাবদ্ধ ও আটকে আছে, প্রস্তাবকারীরা আসে না, এলেও ফিরে আসে না — বাধা চূড়ান্তভাবে খোলার একটি পদ্ধতি (আলোচনা: লক্ষণ ও মেহেদির প্রেসক্রিপশন)
زواجك مقفل بالسحر ومعطل والخطاب لايأتون ولايعودون شاهد طريقة مدمرة لفك التعطيل بشكل نهائي
অডিও ৪ — আল্লাহর ইচ্ছায় দ্রুত বিয়ের জন্য — তিন শব্দের একটি শক্তিশালী ও পরীক্ষিত আয়াত, বিয়ের বাধা খোলার জন্য (শর্ট)
للزواج السريع بإذن الله آية من ثلاث كلمات قوية مجربة لفك تعطيل الزواج
অডিও ৫ — আপনার বিয়ে তালাবদ্ধ ও আটকে আছে — আন্তরিকভাবে এটি করে দেখুন, একটি সূরার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় দরজা ও তালা কীভাবে খুলতে শুরু করে (শর্ট)
زواجك مقفل ومتعطل جرب هذا بصدق وراقب كيف تبدأ الأبواب والأقفال تفتح بإذن الله بسورة واحدة
অডিও ৬ — যদি দেখেন সামনের দরজাগুলো বন্ধ, কাজকর্ম আটকে আছে, রিজিক, চাকরি, সফর বা বিয়ে দেরি হচ্ছে — এই সূরাটি পড়ুন (শর্ট)
إقرأ هذه السورة إذا وجدت أبواباً مغلقة في وجهك، وتعطلت أمورك،وتأخر الرزق أو العمل أو السفر أو الزواج
অডিও ৭ — সাবধান — জমে থাকা শক্তিশালী হাসাদের কারণে কাজ, চাকরি ও বিয়ে আটকে থাকার সবচেয়ে বড় লক্ষণ, যা ঘরে বসেই আপনার মধ্যে দেখা দেয় (শর্ট)
إنتبه هذه أشد علامات تعطيل العمل والوظيفة والزواج بحسد قوي متراكم تظهر عليك وانت في بيتك
অডিও ৮ — বিচ্ছেদের জাদু ও গিঁট খোলার সবচেয়ে শক্তিশালী আয়াত — বিচ্ছেদ ঘটানো যেকোনো শক্তিশালী জাদু ও বদনজরের জন্য (শর্ট)
أقوى آية لفك سحر وعقد التفريق كل سحر قوي وعيون سببت تفريق
অডিও ৯ — আমি পুরোপুরি আটকে ছিলাম, তারপর এই আয়াতটি ব্যবহার করলাম — এরপর কী ঘটল? কয়েক দিনের মধ্যে বাধা শেষ! বাধা দেওয়া শয়তান বিদায় নিল (আলোচনা)
كنت مُعطلاً بالكامل حتى استخدمت هذه الآية! ماذا حدث بعدها؟التعطيل انتهى خلال أيام! شيطان التعطيل ودع
অডিও ১০ — জাদু কেটে গেছে কীভাবে বুঝবেন? একমাত্র নিদর্শন যা মিথ্যা বলে না (আলোচনা)
كيف تعرف أن السحر فُكّ؟العلامة الوحيدة التي لا تكذب/كلام تسمعه لأول مرة _مدينة العلم فواز الأسود
অডিও ১১ — নিম্ন-জাদু (সিহর সুফলী) ও অশ্লীলতার জাদুর রুকইয়াহ — গোপনাঙ্গে বাঁধা গিঁট খোলা ও পোড়ানো (সম্পর্কিত রুকইয়াহ অডিও; শুধু বিয়ে-সংক্রান্ত অংশ এই গাইডে)
رقية السحر السفلي وسحر الفواحش والزنا وفك وحرق عقد العورات وطرد الشيطان من العورة بشكل نهائي
অডিও ১২ — আশিক জ্বীনের (প্রেমাসক্ত জ্বীনের স্পর্শ) রুকইয়াহ — পায়ের দিকে টেনে নামিয়ে পরাজিত করে বের করা (সম্পর্কিত রুকইয়াহ অডিও; শুধু বিয়ে-সংক্রান্ত অংশ এই গাইডে)
رقية تتحدى المس العاشق ان يتحملها ولايخرج ستشعر بسحبه إلى أسفل القدم وخروجه مهزوما بإذن الله قوية
অডিও ১৩ — জটিল ও একগুঁয়ে হাসাদ টেনে বের করার রুকইয়াহ (সম্পর্কিত রুকইয়াহ অডিও; শুধু বিয়ে-সংক্রান্ত অংশ এই গাইডে)
رقية خطف الحسد المستعصي ستشعر بسحب الحسد من جسمك وعقده دموعا وتثائبا وحرارة في دقائق بإذن الله
অডিও ১৪ — ছিটিয়ে দেওয়া জাদুর (সিহর মারশূশ) লক্ষণ (সম্পর্কিত আলোচনা; শুধু বিয়ে-সংক্রান্ত অংশ এই গাইডে)
أعراض السحر المرشوش تسمعها لأول مرة بالتفصيل أخطر وأكثر الأسحار انتشارا/مدينة العلم
শোনার পরামর্শ: প্রতিদিন অডিও ১ বা ২ থেকে অন্তত একটি পূর্ণ মনোযোগে শুনবেন। শোনার সময় পাশে এক বোতল পানি ও অলিভ অয়েল রাখবেন; পরে সেগুলো সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করবেন (বিস্তারিত নিচে)। আশিক জ্বীন বা সিহর সুফলীর লক্ষণ থাকলে অডিও ১১ ও ১২ পুরোটা শোনা যায়; হাসাদের লক্ষণ থাকলে অডিও ১৩।
অডিও ১-এ শাইখ যে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছেন এবং আলোচনা-ভিডিওগুলোতে যে আয়াত ও সূরা আমলের জন্য বলেছেন, সেগুলো নিচে পূর্ণ আকারে দেওয়া হলো। প্রতিটি আয়াতের নিচে বাংলা অর্থ আছে, আর কোন ভিডিওতে কীভাবে পড়া হয়েছে তা নোটে বলা আছে। অডিও ২-এ সূরা ফাতিহা ছাড়া কুরআনের আর কোনো আয়াত নেই; পুরো অডিও শাইখের রুকইয়াহ-বাক্য (পরের অংশে)।
লক্ষ করুন: শাইখ বিয়ের রুকইয়াহতে এমন আয়াত বেছে নিয়েছেন, যেখানে "বিয়ে", "জোড়া", "স্ত্রী" বা "যুগল" শব্দ আছে। এর কয়েকটির মূল প্রসঙ্গ ভিন্ন (যেমন ইদ্দত বা কিয়ামতের দিন) — সেটা প্রতিটির নোটে বলা আছে, যাতে আয়াতের অর্থ নিয়ে ভুল ধারণা না হয়।
অডিও ১ শুরু হয়েছে আউযুবিল্লাহ, সূরা আল-ফাতিহা এবং সূরা আল-বাকারার ১–৫ আয়াত দিয়ে; অডিও ২ শুরু হয়েছে সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে। সূরা ফাতিহা ভিডিও ৩ (মেহেদির মিশ্রণে ২১–১০০ বার) ও ভিডিও ৬ (সকাল-সন্ধ্যা আধা ঘণ্টা করে)-এর মূল আমলও।
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪
১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
২. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
৩. যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
৪. যিনি বিচার দিনের মালিক।
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫–৭
৫. আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
৬. আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
৭. সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
অডিও ১ (০:০০) ও অডিও ২ (০:০০)-এ সম্পূর্ণ সূরা ফাতিহা। ভিডিও ৬-এ শাইখ বলেছেন: সূরাটির নাম "আল-ফাতিহা" — এসেছে "ফাত্হ" (খোলা) থেকে; আল্লাহ এতে এমন বরকত ও কল্যাণ রেখেছেন যা তিনি ছাড়া কেউ জানে না।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১–৩
১. আলিফ লাম মীম।
২. এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,
৩. যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪–৫
৪. এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
৫. তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।
অডিও ১ (০:২৪)।
অডিও ১-এর প্রথম মূল আয়াত এটি (১:০১)। শাইখ আয়াতের শেষাংশ وَلَا تَعْزِمُوا۟ عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْكِتَٰبُ أَجَلَهُۥ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ فَٱحْذَرُوهُ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ একবার পড়ে তারপর শুধু عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ (বিয়ের বন্ধন) শব্দদুটি প্রায় ৩৮ বার একটানা পড়েছেন (১:১৯ থেকে ২:৪৮)। এরপরই তাঁর নিজের বাক্য "আল্লাহর নামে বিয়ের উপর থাকা প্রতিটি গিঁট খুলে যাক" শুরু হয়।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৫
২৩৫. আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল।
অডিও ১ (১:০১) — আয়াতের শেষাংশ একবার, তারপর عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ প্রায় ৩৮ বার। আয়াতের মূল প্রসঙ্গ: ইদ্দত পালনরত নারীকে ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে বিয়ের চুক্তি পাকা না করার বিধান। শাইখ আয়াতটি নিয়েছেন এর "বিয়ের বন্ধন" শব্দের জন্য।
অডিও ১-এ (৮:০১ থেকে ৮:৫১) আউযুবিল্লাহ পড়ে رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا + قُرَّةَ أَعْيُنٍۢ অংশটি প্রায় ১২ বার পড়া হয়েছে। এটি কুরআনের একটি দোয়া — নিজের দোয়াতেও পড়তে পারেন।
সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭৪
৭৪. এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
অডিও ১ (৮:০১) — প্রায় ১২ বার। ক্যাপশনে শাইখ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍۢ পড়েছেন, মাঝের وَذُرِّيَّٰتِنَا শব্দটি ক্যাপশনে নেই; এখানে পূর্ণ আয়াত দেওয়া হলো।
অডিও ১-এ পরপর তিনটি আয়াত, যেগুলোতে আল্লাহ মানুষকে ও সবকিছুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টির কথা বলেছেন।
সূরা আন-নাবা, আয়াত ৮
৮. আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি,
অডিও ১ (৮:৫১) — প্রায় ২০ বার।
সূরা আর-রূম, আয়াত ২১
২১. আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
অডিও ১ (৯:৪৬) — পূর্ণ আয়াত একবার, তারপর خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًۭا لِّتَسْكُنُوٓا۟ إِلَيْهَا অংশটি প্রায় ১৭ বার।
সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৪৯
৪৯. আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
অডিও ১ (১১:১৮) — প্রায় ২৩ বার।
সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ২৯
২৯. তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।
অডিও ১ (১২:৩২) — প্রায় ১৯ বার। সব বাধা ও সব চেষ্টার উপরে আল্লাহর ইচ্ছা — এই আয়াত সেই স্মরণ।
অডিও ১-এর শেষ ও দীর্ঘতম অংশ (১৩:৫৫ থেকে ১৬:৫৬) এই আয়াত — প্রায় ৭৮ বার। ভিডিও ৪-এ শাইখ এটিকেই "তিন শব্দের আয়াত" বলে আলাদা আমল দিয়েছেন: প্রতিদিন এক গ্লাস পানির উপর ১০০ বার পড়ে, শব্দ করে ফুঁ দিয়ে পান করা।
সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ৭
৭. যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,
অডিও ১ (১৩:৫৫) — প্রায় ৭৮ বার; ভিডিও ৪ — দৈনিক ১০০ বার পানিতে। আয়াতের মূল প্রসঙ্গ কিয়ামতের দিন: আত্মাগুলোকে (দেহের সাথে বা সমগোত্রীয়দের সাথে) জোড়া বাঁধা হবে। শাইখ আয়াতটি নিয়েছেন এর "জোড়া বাঁধা" (زُوِّجَتْ) শব্দের জন্য।
ভিডিও ৫-এ শাইখ বলেছেন: জাদু, বদনজর, হাসাদ বা তাবি'আহর কারণে যার বিয়ে আটকে আছে, বিয়ে সম্পন্ন হয় না বা প্রস্তাবকারীরা বিমুখ হয় — নারী হোক বা পুরুষ — সে প্রতিদিন এশার পর বা ঘুমের আগে সূরা আল-হাজ্জ পরপর ৩ বার পড়বে, বিয়ের নিয়তে।
সূরা আল-হাজ্জ ৭৮ আয়াতের দীর্ঘ সূরা; এখানে পুরোটা ছাপানো হয়নি। মুসহাফ থেকে পড়বেন।
সূরা আল-ফালাক, আয়াত ১–৫
১. বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,
২. তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,
৩. অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
৪. গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে
৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
ভিডিও ৭ — হাসাদের কারণে বিয়ে বা কাজ আটকে থাকলে দৈনিক ওয়ির্দ হিসেবে বেশি বেশি, রুকইয়াহর নিয়তে।
ভিডিও ৮-এ শাইখ বলেছেন: স্বামী-স্ত্রী বা বাগদত্তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জাদু খোলার জন্য সবচেয়ে উপকারী আয়াত সূরা আল-বাকারার ১০২ নং আয়াত — বিচ্ছেদের কারণ জাদু, হাসাদ বা বদনজর যা-ই হোক। এই আয়াতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জাদুর কথা আছে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২
১০২. তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।
ভিডিও ৮ — পানির উপর ৭ বার পড়ে দুজনেই পান করবেন; অপরজন দূরে থাকলে একজন পড়ে দোয়া করে পান করবেন; ৭ থেকে ২১ দিন।
ভিডিও ৯-এ শাইখ এই আয়াতের অংশ فَمَن يَسْتَمِعِ ٱلْءَانَ يَجِدْ لَهُۥ شِهَابًۭا رَّصَدًۭا বারবার পড়তে বলেছেন — সেই শয়তানদের উদ্দেশে, যারা (শাইখের ব্যাখ্যায়) মানুষের খবর, চিন্তা ও পরিকল্পনা চুরি করে শুনে আগেভাগে গিয়ে তা নষ্ট করে দেয়।
সূরা আল-জ্বিন, আয়াত ৯
৯. আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।
ভিডিও ৯ — আয়াতের শেষাংশ শব্দ করে বারবার (১০০ বার বা সংখ্যা ছাড়া)। ক্যাপশনে শাইখ বলেছেন আয়াতটি "সূরা আস-সাফফাতে"; কিন্তু তিনি যে বাক্যটি পড়েছেন সেটি হুবহু সূরা আল-জ্বিনের ৯ নং আয়াতে আছে (সূরা আস-সাফফাতের ১০ নং আয়াতে একই বিষয় ভিন্ন শব্দে এসেছে)। তাই এখানে সূরা আল-জ্বিনের আয়াতটি দেওয়া হলো।
নিচের বাক্যগুলো কুরআনের আয়াত নয়, মাসনুন দোয়াও নয় — শাইখ ফাওয়াজ আল-আসওয়াদ রুকইয়াহর সময় নিজের ভাষায় এগুলো পড়েছেন। ক্যাপশন থেকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন আরবি বানানে লেখা হয়েছে, সাথে বাংলা অর্থ। নিজে পড়ার সময় আরবি না পারলে বাংলা অর্থটাই নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে বলবেন — দোয়া যেকোনো ভাষায় করা যায়।
عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ (বিয়ের বন্ধন) শব্দদুটি বারবার পড়ার পর শাইখ পাঁচটি বাক্য পরপর পড়েছেন (২:৪৫ থেকে ৮:০১)।
আল্লাহর নামে বিয়ের উপর থাকা প্রতিটি গিঁট খুলে যাক।
অডিও ১ (২:৪৫) — প্রায় ৩২ বার।
আল্লাহর নামে প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করে রাখার গিঁটগুলো খুলে যাক।
অডিও ১ (৪:২১) — প্রায় ৩২ বার।
আল্লাহর নামে বিয়ে আটকে রাখার প্রতিটি গিঁট খুলে যাক।
অডিও ১ (৫:৪৬) — প্রায় ২৮ বার।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে সেই প্রতিটি গিঁট খুলে যাক, যা অবস্থাকে থামিয়ে দিয়েছে এবং বিয়ে আটকে রেখেছে।
অডিও ১ (৭:০৭) — প্রায় ৯ বার।
হে আল্লাহ, বিয়েতে বাধা দেওয়া প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
অডিও ১ (৭:৫২)। এরপর আয়াত শুরু হয়।
আল্লাহর নামে। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
অডিও ১-এর সমাপ্তি (১৭:০১) — বিসমিল্লাহ প্রায় ১৫ বার, আল্লাহু আকবার ৬ বার, লা হাওলা ৫ বার।
অডিও ২ সূরা ফাতিহা ও ৫ বার "আল্লাহু আকবার" দিয়ে শুরু। এরপর পুরো অডিও শাইখের নিজের বাক্য। বাক্যগুলো দুটি চক্রে সাজানো, আর প্রতিটি চক্র কয়েকবার ঘুরে ঘুরে পড়া হয়েছে।
আল্লাহ সবচেয়ে বড় — প্রতিটি গিঁট, জাদু ও শয়তানের উপর; প্রতিটি জাদু, বদনজর ও হাসাদের উপর; সেই প্রতিটি গিঁটের উপর, যা প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করেছে এবং তাদের ঘর থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
অডিও ২ (০:৩০)।
হে আল্লাহ, প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করা ও দূরে সরিয়ে দেওয়া প্রতিটি গিঁট, জাদু, বদনজর ও হাসাদ খুলে দিন।
অডিও ২ (০:৪৬)।
আল্লাহ সবচেয়ে বড় — সেই প্রতিটি শয়তানের উপর, যে শরীরকে বিকৃত দেখিয়েছে, চেহারাকে বিকৃত দেখিয়েছে, প্রস্তাবকারীদের দূরে সরিয়েছে ও বিমুখ করেছে।
অডিও ২ (০:৫৬)।
হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, তারা যে গিঁটগুলো বেঁধেছে এবং যা প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করেছে, সেগুলোর প্রতিটি খুলে দিন — আল্লাহর নামে খুলে যাক।
অডিও ২ (১:১১) — প্রতি চক্রে কয়েকবার।
আল্লাহর নামে, তাঁর কালিমাসমূহ ও তাঁর কুদরতের মাধ্যমে প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করা প্রতিটি গিঁট খুলে যাক, প্রতিটি গিঁট বাতিল হয়ে যাক।
অডিও ২ (১:৫০)।
প্রস্তাবকারীদের প্রতি বিরক্তি ও সংকীর্ণতা তৈরির জন্য তারা যে গিঁটই বেঁধেছে, আল্লাহর নামে তা খুলে যাক।
অডিও ২ (২:০৫) — দুই দফায় মোট প্রায় ১৬ বার।
আল্লাহর নামে প্রতিটি গিঁট খুলে যাক — বিয়ের উপর থাকা প্রতিটি গিঁট, প্রস্তাবকারীদের উপর থাকা প্রতিটি গিঁট। আল্লাহর নামে সেই প্রতিটি গিঁট খুলে যাক, যা প্রস্তাবকারীদের এই ঘর থেকে বিমুখ করেছে।
অডিও ২ (২:৪৯–৩:২০) — প্রথম চক্রের শেষ অংশ; এরপর প্রথম চক্র আবার শুরু হয়।
আল্লাহর নামে, তাঁর কুদরত ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাক সেই প্রতিটি জাদু, যা প্রস্তাবকারীদের চোখ থেকে আড়াল করে রেখেছে।
অডিও ২ (৫:২৯) — দ্বিতীয় চক্রের শুরু; প্রায় ১৫ বার।
আল্লাহর নামে, তাঁর কুদরত ও কালিমাসমূহের মাধ্যমে সৌন্দর্যকে বিকৃত দেখানো প্রতিটি জাদু বাতিল হয়ে যাক।
অডিও ২ (৫:৫৫)।
আল্লাহর নামে ও তাঁর কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রস্তাবকারীদের চোখের উপর থাকা প্রতিটি জাদু এবং প্রস্তাবকারীদের উপর প্রভাব ফেলা প্রতিটি জাদু বাতিল হয়ে যাক।
অডিও ২ (৬:০৮)।
আল্লাহর নামে; আল্লাহ সবচেয়ে বড় — সেই প্রতিটি শয়তানের উপর, যে প্রস্তাবকারীদের ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়নি; সেই প্রতিটি শয়তানের উপর, যে প্রস্তাবকারীদের আড়াল করে রেখেছে।
অডিও ২ (৬:৩৫)।
আল্লাহর নামে; আল্লাহ সবচেয়ে বড় — প্রস্তাবকারীদের আটকে রাখা প্রতিটি জাদু, প্রতিটি বদনজর ও প্রতিটি হাসাদের উপর।
অডিও ২ (৭:১২)।
আল্লাহ সবচেয়ে বড় — সৌন্দর্যকে বিকৃত দেখানো প্রতিটি শয়তান, প্রতিটি জাদু, প্রতিটি বদনজর ও প্রতিটি হাসাদের উপর।
অডিও ২ (৭:৩৬)। এরপর দ্বিতীয় চক্র আরও দুবার (৭:৪৯ ও ১০:১১ থেকে) পুনরাবৃত্তি হয়ে অডিও শেষ হয়।
হে আল্লাহ, গোপনাঙ্গে করা প্রতিটি জাদু বাতিল করুন। গোপনাঙ্গে করা বিয়ে আটকানোর প্রতিটি জাদু, বিয়ে আটকানোর জন্য গোপনাঙ্গে বাঁধা প্রতিটি গিঁট — আল্লাহর আদেশে পুড়ে যাক।
অডিও ১১ (৪:৪১–৫:২৩; একই বাক্য আবার ১৫:১৯ ও ১৮:৫২-এ) — সিহর সুফলীর দীর্ঘ রুকইয়াহর ভেতরের অংশ; দুই বাক্যের মাঝে শাইখ অন্য বিষয়ের (অশ্লীলতার জাদু) বাক্যও পড়েছেন, যা এখানে নেওয়া হয়নি। বিয়ে-আটকানোর বাক্যটি প্রতি দফায় প্রায় ৫ বার, তিন দফায় মোট প্রায় ১৫ বার।
আমি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর নামে কসম দিচ্ছি — এই শরীরে থাকা প্রতিটি আশিক জ্বীনের উপর, যেন সে এখনই পায়ের আঙুলের দিকে টেনে নামে এবং আল্লাহর আনুগত্যে বেরিয়ে যায়। প্রতিটি আশিক জ্বীন, যে দাম্পত্য মিলনে বাধা দেয়, বিয়ে আটকে রাখে।
অডিও ১২ (২২:২৩–২২:৪৫)। দ্বিতীয় বাক্যের শুরুতে ক্যাপশনে "مس" শব্দটি অস্পষ্ট ("ما استن" এসেছে); আগের বাক্যের প্রসঙ্গে মিলিয়ে "مَسٍّ" লেখা হয়েছে।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক — প্রতিটি মানুষ, জ্বীন ও শয়তানের বিরুদ্ধে, যার পক্ষ থেকে বিয়ের উপর হাসাদ এসেছে।
অডিও ১৩ (০:৩৫) — "বিয়ের উপর হাসাদ" অংশটি ৪ বার। একই বাক্যে শাইখ সৌন্দর্য, সম্পদ ইত্যাদির উপর হাসাদের কথাও বলেছেন।
হে আল্লাহ, প্রস্তাবকারীদের উপর থাকা প্রতিটি বদনজর ও হাসাদ বের করে দিন। হে আল্লাহ, স্বামী-স্ত্রীর উপর থাকা প্রতিটি বদনজর ও হাসাদ বের করে দিন।
অডিও ১৩ (১৯:০৩)।
১. ০:০০ — আউযুবিল্লাহ, সূরা আল-ফাতিহা
২. ০:২৪ — সূরা আল-বাকারা ১–৫
৩. ১:০১ — সূরা আল-বাকারা ২৩৫ (শেষাংশ), তারপর عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ প্রায় ৩৮ বার
৪. ২:৪৫ — "বিয়ের উপর থাকা প্রতিটি গিঁট খুলে যাক" প্রায় ৩২ বার
৫. ৪:২১ — "প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করার গিঁট খুলে যাক" প্রায় ৩২ বার
৬. ৫:৪৬ — "বিয়ে আটকে রাখার গিঁট খুলে যাক" প্রায় ২৮ বার
৭. ৭:০৭ — "অবস্থা থামিয়ে দেওয়া ও বিয়ে আটকে রাখা গিঁট খুলে যাক" প্রায় ৯ বার; "হে আল্লাহ, বিয়েতে বাধা দেওয়া গিঁট খুলে দিন"
৮. ৮:০১ — সূরা আল-ফুরকান ৭৪ প্রায় ১২ বার
৯. ৮:৫১ — সূরা আন-নাবা ৮ প্রায় ২০ বার
১০. ৯:৪৬ — সূরা আর-রূম ২১ (পূর্ণ একবার, অংশ প্রায় ১৭ বার)
১১. ১১:১৮ — সূরা আয-যারিয়াত ৪৯ প্রায় ২৩ বার
১২. ১২:৩২ — সূরা আত-তাকভীর ২৯ প্রায় ১৯ বার
১৩. ১৩:৫৫ — সূরা আত-তাকভীর ৭ প্রায় ৭৮ বার
১৪. ১৭:০১ — বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
১. ০:০০ — সূরা আল-ফাতিহা, আল্লাহু আকবার ৫ বার
২. ০:৩০ — প্রথম চক্র: প্রস্তাবকারীদের বিমুখ করার গিঁট খোলা, সংকীর্ণতার গিঁট খোলা, বিয়ের উপর থাকা গিঁট খোলা
৩. ৩:২০ — প্রথম চক্রের পুনরাবৃত্তি
৪. ৫:২৯ — দ্বিতীয় চক্র: প্রস্তাবকারীদের চোখ থেকে আড়াল করার জাদু, সৌন্দর্য-বিকৃতির জাদু, প্রস্তাবকারীদের পৌঁছাতে না দেওয়া শয়তান, আটকে রাখা জাদু, বদনজর ও হাসাদ
৫. ৭:৪৯ ও ১০:১১ — দ্বিতীয় চক্রের আরও দুবার পুনরাবৃত্তি, অডিওর শেষ পর্যন্ত
۞ ❖ ۞
শাইখের আলোচনা ও প্রেসক্রিপশন
ভিডিও ৩–১০ এবং সম্পর্কিত ভিডিও ১৪ — প্রতিটি ভিডিওতে শাইখ যা বলেছেন তা পূর্ণাঙ্গ বাংলায়
۞ ❖ ۞
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজকের বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ — বিয়ে আটকে থাকা, আর আল্লাহর ইচ্ছায় একটি বরকতময়, শক্তিশালী ও পরীক্ষিত পদ্ধতিতে তার চিকিৎসা। পদ্ধতির আগে আমি লক্ষণগুলো বলছি, যাতে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার সাথে বিয়ে আটকানোর জাদু আছে। এই লক্ষণগুলোর সবগুলো বা বেশিরভাগ যদি আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে এরপর চিকিৎসা করলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা যথেষ্ট ও আরোগ্যদায়ক হবে।"
এরপর শাইখ লক্ষণগুলো বলেছেন (সেগুলো প্রথম ভাগের "সমস্যা ও লক্ষণ" অংশে পূর্ণাঙ্গ দেওয়া আছে): মাথাব্যথা; বুকে ভার ও দম বন্ধ ভাব; অপর পক্ষকে কুৎসিত বা পশুর রূপে দেখা বা তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া — নারী-পুরুষ দুজনের ক্ষেত্রেই; অপর পক্ষের উপস্থিতিতে উদ্বেগ; ওষুধে না সারা পেটব্যথা ও ফোলাভাব, বিশেষ করে জাদু খাওয়ানো হলে; কোমরের নিচে ব্যথা ও শরীরে এবং দুই উরুর মাঝে নীল দাগ; প্রত্যাখ্যানের অজুহাত বানানো; কারণ ছাড়া বিয়ের চিন্তায় বিতৃষ্ণা; অগ্রসর অবস্থায় অদ্ভুত শব্দ, রাগ, অবাস্তব ছায়া দেখা, ঘর থেকে পালানোর চিন্তা, মাসিকের অনিয়ম ও অনিদ্রা। স্বপ্নে: জুতা, কাপড় ও ব্যক্তিগত জিনিস হারানো, মানুষের মাঝে খালি পায়ে হাঁটা, বাথরুমে যেতে না পারা এবং বারবার বিয়ের অনুষ্ঠান দেখা।
চিকিৎসা — প্রথমে ভিত্তি: "প্রথমত অবশ্যই সকাল-সন্ধ্যার আযকার নিয়মিত পড়বেন, সময়মতো সালাত আদায় করবেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নৈকট্য অর্জন করবেন, গুনাহ থেকে দূরে থাকবেন এবং নবী ﷺ-এর উপর বেশি বেশি দরূদ পড়বেন — বিশেষ করে দরূদে ইবরাহীমী, বড় সংখ্যায়।"
ব্যবহারিক পদ্ধতি (মেহেদির মিশ্রণ):
১. মেহেদি নিন।
২. তাতে সামান্য গুঁড়া কুস্ত হিন্দি (القسط الهندي) দিন।
৩. সামান্য গুঁড়া রায়হান দিন — আত্তারের দোকানে পাওয়া যায়।
৪. সামান্য কালো মিশক (المسك الأسود) দিন।
৫. সামান্য গোলাপজল দিন।
৬. ভালোভাবে মিশিয়ে এর উপর সূরা আল-ফাতিহা অন্তত ২১ বার পড়বেন, ফুঁ দিয়ে দিয়ে; যিনি ১০০ বার পড়তে পারেন, সেটা চমৎকার।
৭. তারপর এটি মাথায় লাগাবেন। কেউ চাইলে হাতেও — বিশেষ করে আঙুলে, যে আঙুলগুলোর সম্পর্ক সেই তালাগুলোর সাথে, যা বাগদানের আংটি ও বিয়ের আংটি পরতে বাধা দেয় — এবং পায়েও। এই তিন জায়গা।
"আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্যের সুসংবাদ নিন — সেই তালা, সেই বাঁধন, সেই বাধা ও সেই জাদু খুলে যাওয়ার। এই পদ্ধতি মাসে দুবার করতে পারেন। আর এই মাসজুড়ে যে নসিহতগুলো বললাম সেগুলো এবং শরয়ী রুকইয়াহ নিয়মিত করবেন — আরোগ্য ও জাদু খুলে যাওয়ার সুসংবাদ নিন, ইনশাআল্লাহ।"
কেন্দ্রের সতর্কতা: মেহেদির মিশ্রণ শাইখের অভিজ্ঞতালব্ধ পদ্ধতি — এটি কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত নির্দিষ্ট আমল নয়; মূল ভরসা সূরা ফাতিহা ও দোয়া। শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য, খাওয়া যাবে না। লাগানোর আগে হাতের ছোট একটি জায়গায় লাগিয়ে এলার্জি পরীক্ষা করে নেবেন; ত্বকে জ্বালা হলে ধুয়ে ফেলবেন। কেমিক্যাল-মেশানো "ব্ল্যাক হেনা" নয়, প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করবেন। পুরুষদের হাত-পায়ে মেহেদি ব্যবহারের ব্যাপারে নারীদের সাদৃশ্যের কারণে আলেমদের আপত্তি আছে — পুরুষেরা নিজের আলেমের কাছে জেনে নেবেন, অথবা শুধু মাথায় ব্যবহার করবেন। "লক্ষণ মিললেই জাদু নিশ্চিত" — এমন ধরে নেবেন না।
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আল্লাহর ইচ্ছায় মাত্র তিন শব্দের একটি আয়াতে বিয়ের বাধা খোলা। যার বিয়ে বদনজর, হাসাদ, জাদু বা কোনো দুষ্ট শয়তানের কারণে আটকে আছে, তাকে আমি আল্লাহ তা'আলার এই বাণী পড়ার পরামর্শ দিই: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম — وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتْ।"
"প্রতিদিন এক গ্লাস পানির উপর ১০০ বার পড়বেন এবং সেই গ্লাসের পানি পান করবেন — সকালে বা সন্ধ্যায়, আল্লাহর ইচ্ছায় উপকার হবে। এই পদ্ধতি চালিয়ে গেলে আল্লাহর ইচ্ছায় কয়েক দিনের মধ্যে সব ধরনের বিয়ের বাধা খুলে যায়। থামবেন না — যতক্ষণ না ইনশাআল্লাহ বাধা খোলার লক্ষণ স্বপ্নে ও বাস্তবে নিজের চোখে স্পষ্ট দেখতে পান, আর বাগদান ও বিয়ে সম্পন্ন হয়।"
"এতে আপনার বেশি সময় লাগবে না — সহজ একটি প্রোগ্রাম, ছোট একটি আয়াত, অল্প সময়। প্রতিদিন পড়বেন, শব্দ করে এক গ্লাস পানিতে ফুঁ দেবেন এবং সেই পানি পান করবেন।"
সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ৭
৭. যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,
ভিডিও ৪ — দৈনিক ১০০ বার, এক গ্লাস পানিতে শব্দ করে ফুঁ দিয়ে পান।
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম। যদি আপনার বিয়ে আটকে থাকে, বিয়ে সম্পন্ন না হয়, প্রস্তাবকারীরা বিমুখ হয় — এখানে আমরা নারী-পুরুষ দুজনের কথাই বলছি — জাদু, বদনজর, হাসাদ বা তাবি'আহর কারণে বিয়ে আটকে থাকলে: প্রতিদিন এশার পর বা ঘুমের আগে সূরা আল-হাজ্জ পরপর তিনবার পড়ুন, বিয়ের নিয়তে।"
"যে প্রতিদিন নিয়মিত এই পদ্ধতিতে থাকবে, সে দেখবে — আল্লাহর ইচ্ছায় এই পদ্ধতি শুরুর প্রথম দিনগুলো থেকেই কীভাবে দরজাগুলো খুলতে শুরু করে। শুধু চালিয়ে যান, যতক্ষণ না আল্লাহর ইচ্ছায় বিয়ে সম্পন্ন হয় বা বাগদান পুরোপুরি হয়ে যায়। কারণ এখানে বাধাটা একটা আত্মিক আক্রান্তির কারণে, আর এই সূরা আল্লাহর ইচ্ছায় বাধার চাকাকে থামিয়ে দেবে।"
সূরা আল-হাজ্জ দীর্ঘ সূরা (৭৮ আয়াত); তিনবার পড়তে সময় লাগে। প্রথমে একবার দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে তিনবারে যেতে পারেন। মুসহাফ থেকে দেখে পড়বেন। মাসিক চলাকালে মুসহাফ স্পর্শ ও তিলাওয়াতের ব্যাপারে নিজের আলেমের মত অনুসরণ করবেন; তখন অডিও শোনা যায়।
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম। যদি দেখেন আপনার সামনের দরজাগুলো বন্ধ, কাজকর্ম আটকে আছে, রিজিক, চাকরি, সফর বা বিয়ে দেরি হচ্ছে — তাহলে মন দিয়ে শুনুন। একটি মহান সূরা আছে, যা সবাই পড়ে, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সেটিই হতে পারে অনেক বন্ধ দরজার চাবি — সূরা আল-ফাতিহা।"
"এর নামটা ভেবে দেখুন — আল-ফাতিহা, এসেছে 'আল-ফাত্হ' (খোলা) থেকে। আল্লাহ এতে এমন বরকত ও কল্যাণ রেখেছেন, যা তিনি ছাড়া কেউ জানে না। তাই ইয়াকীনের সাথে একে দৈনিক ওয়ির্দ বানিয়ে দেখুন — খুলে যাওয়া ও সহজ হওয়ার নিয়তে পড়ুন; সকালে আধা ঘণ্টা ও সন্ধ্যায় আধা ঘণ্টা; কিবলামুখী হয়ে পড়া উত্তম। বারবার পড়ুন, আর আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি রিজিক, কাজ, তাওফীক ও প্রয়োজন পূরণের দরজা খুলে দেন।"
"একে শুধু পড়ার কিছু শব্দ বানাবেন না — মনে রাখবেন, আপনি আল-ফাত্তাহ (যিনি খুলে দেন), যাঁর হাতে সবকিছুর চাবি, তাঁর সাথে একান্তে কথা বলছেন।" শাইখ দর্শকদের দোয়া লিখতে বলেছেন: اللَّهُمَّ افْتَحْ لَنَا أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ — "হে আল্লাহ, আমাদের জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।"
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম। হাসাদের সবচেয়ে বড় লক্ষণগুলোর একটি হলো — আক্রান্ত ব্যক্তি বেকার, যখনই তার কাছে কাজের কোনো সুযোগ আসে, ঠিক সেদিনই তার ঝামেলা শুরু হয়, বা সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বা তীব্র অবসাদ, অলসতা, তন্দ্রা আর ঘুমের ইচ্ছা পেয়ে বসে। বাগদানের ক্ষেত্রেও একই কথা — তখন তীব্র অলসতা, অবসাদ, ক্লান্তি, হয়তো অসুস্থতা, হয়তো মুখে অনেক ব্রণ ওঠে, বা নানা ঝামেলা হয়। কোনো কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বা সম্পন্ন হওয়ার কাছাকাছি — ঠিক তখনই এগুলো ঘটে। এগুলো হাসাদের কারণে বাধার লক্ষণ। আল্লাহই ভালো জানেন।"
"যে এতে ভুগছে, তাকে পরামর্শ দিই: শরয়ী রুকইয়াহ ছাড়বেন না — বিশেষ করে হাসাদের রুকইয়াহ ও হাসাদের প্রোগ্রাম। আর দৈনিক ওয়ির্দ হিসেবে এবং রুকইয়াহর নিয়তে সূরা আল-ফালাক বেশি বেশি পড়বেন, যাতে এই কষ্ট ও হাসাদ খুলে যায়।"
কেন্দ্রের নোট: গুরুত্বপূর্ণ দিনের আগে অবসাদ, অসুস্থতা বা ব্রণ দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকেও হয়। হাসাদ ধরে নিয়ে কাউকে দোষারোপ করবেন না; রুকইয়াহ ও সূরা ফালাক আমল করবেন — এতে কোনো ক্ষতি নেই।
শাইখ বলেন: "আসসালামু আলাইকুম, মদীনাতুল ইলম চ্যানেলে স্বাগতম। বিবাহিত দম্পতি বা বাগদত্তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের জাদু খোলার জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় সবচেয়ে উপকারী আয়াত — বিচ্ছেদের কারণ জাদু হোক, হাসাদ হোক বা বদনজর — আল্লাহর ইচ্ছায় সবগুলোই এই আয়াত দিয়ে খোলে: সূরা আল-বাকারার ১০২ নং আয়াত।"
"এই আয়াত আল্লাহর ইচ্ছায় পানির উপর সাতবার পড়বেন, আর দুজনেই একসাথে পান করবেন। যদি দুজনের মধ্যে ঝগড়া চলে, মানে অপরজন দূরে থাকে, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই — একজনই সাতবার পড়বে, তারপর পানির উপর দোয়া করবে যেন বিচ্ছেদ ঘটানো যেকোনো জাদু, হাসাদ বা বদনজর খুলে যায়; তারপর পান করবে এবং সেই পানি থেকে রেখে দেবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটি উপকারী। অবশ্যই সাত দিন থেকে একুশ দিন পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না আল্লাহর ইচ্ছায় এই জাদু বা বিচ্ছেদ খুলে যায়।"
কেন্দ্রের নোট: দাম্পত্য কলহের পেছনে প্রায়ই আচরণ, যোগাযোগ, পারিবারিক হস্তক্ষেপ বা আর্থিক কারণ থাকে। রুকইয়াহর পাশাপাশি দুজনে খোলামেলা কথা বলা, পরিবারের মুরুব্বি বা অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া জরুরি। অপরজনকে না জানিয়ে তার খাবারে-পানিতে কিছু মেশাবেন না — আমলটি নিজে করবেন, আর অপরজন রাজি থাকলে তিনি পান করবেন।
শাইখ বলেন: "আজ আমি বলব কীভাবে বাধা খোলে, তালা ভাঙে, আর আল্লাহর অনুগ্রহে জীবনের বন্ধ দরজাগুলো খুলে যায় — আর কীভাবে একটি আয়াত এমন এক শয়তান থেকে মুক্তির কারণ হলো, যে জীবনকে পুরোপুরি আটকে রেখেছিল।"
"মনে আছে, কিছুদিন আগে আমি একটি বিপজ্জনক বিষয়ে কথা বলেছিলাম — এমন শয়তান, যারা চুরি করে শোনে: আপনার খবর, আপনার চিন্তা, আপনার নিয়ত ও লক্ষ্য শোনে, তারপর আপনার আগে সেখানে পৌঁছে তা নষ্ট করে দেয়। সামনে বাধা বসায়, মানুষের চেহারায় বিতৃষ্ণা বুনে দেয়, আপনার প্রকল্প, রিজিক, এমনকি সফর ও পুরো জীবন আটকে দেয়। এটা হয় একটি শয়তান বা একদল শয়তানের কারণে, যারা চুরি করে শোনে বা আপনার ক্বারীন থেকে তথ্য নেয়, তারপর আপনার বিরুদ্ধে কাজ করে — এসবই জাদু বা হাসাদের কারণে জীবন আটকানোর জন্য।"
"শুধু সমস্যা বলিনি, একটা স্পষ্ট প্রোগ্রাম ও ব্যবহারিক পদ্ধতিও দিয়েছিলাম। আজ এক ভাই এক চমকপ্রদ ঘটনা নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন: 'আমি তীব্র বাধায় ভুগছিলাম — জাদু, সমস্যা, সবকিছু শেষ মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যেত। আপনার ভিডিও শুনে প্রোগ্রামটা শুরু করলাম, বিশেষ করে সেই মহান আয়াত: فَمَن يَسْتَمِعِ ٱلْءَانَ يَجِدْ لَهُۥ شِهَابًۭا رَّصَدًۭا।' এই আয়াতে আমরা কথা বলছি সেই শয়তানদের উদ্দেশে, যারা চুরি করে শোনে, নষ্ট করে ও আটকে দেয় — তাদের বলি: 'এখন যে শুনতে চাইবে, সে তার জন্য ওঁৎ পেতে থাকা জ্বলন্ত উল্কা পাবে।' প্রোগ্রামে যেমন বলেছিলাম, ১০০ বার বা সংখ্যা ছাড়া বারবার পড়বেন — জরুরি হলো শব্দ করে পড়া।"
"সেই ভাই বলেন: 'আমি প্রতিদিন নিয়মিত পড়তাম — কখনো প্রায় এক ঘণ্টা, কখনো দেড় ঘণ্টা, কখনো আধা ঘণ্টা, সময় অনুযায়ী; কিন্তু প্রতিদিন, একটি পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ঘরে একা বসে, শব্দ করে। প্রায় সাত-আট-নয় দিন পর অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল — বন্ধ ঘরের দরজার নিচ দিয়ে একটি উড়ন্ত তেলাপোকা ঢুকে সোজা আমার মুখের দিকে উড়ে এলো, যেন ইচ্ছা করে আক্রমণ করতে এসেছে। আমি সেটাকে মারলাম, বের করে দিলাম এবং স্বাভাবিকভাবে ওয়ির্দ শেষ করে ঘুমালাম। তখনই আসল চমক — স্বপ্নে দেখলাম আমি এক লোকের সাথে প্রচণ্ড লড়াই করছি, যার চেহারা দেখতে পাচ্ছি না; আল্লাহর অনুগ্রহে তাকে কাবু করে মেরে ফেললাম। তারপর তার পকেটে একটা চাবি পেলাম — যেন আমি সত্যিই একটা চাবি খুঁজছিলাম। আমি যেন কোনো বন্ধ জায়গায় বা কারাগারে ছিলাম; একটা বন্ধ দরজা পেলাম, চাবি দিয়ে খুলে বেরিয়ে এলাম। সেদিন থেকে আমার জীবন পুরো বদলে গেছে — বাধা শেষ, দরজা খুলে গেছে, তাওফীক, সাফল্য আর প্রশান্তি এসেছে, আল্লাহর অনুগ্রহে।'"
"এই ঘটনা কেন বললাম? কারণ দুঃখজনকভাবে অনেকে শোনে, মুগ্ধ হয়, কিন্তু আমল করে না। আমি যখন প্রোগ্রাম দিই, আল্লাহর ইচ্ছায় পরীক্ষিত জিনিস দিই — কিন্তু শর্ত হলো আল্লাহর উপর ভরসা করে শুরু করা, আমল করা, আল্লাহর উপর ইয়াকীন রাখা। বাধা, বারবার ব্যর্থতা বা দরজা বন্ধ থাকায় ভুগলে এই প্রোগ্রাম শুরু করুন — আল্লাহ আপনার জীবন পুরো বদলে দিতে সক্ষম; কিন্তু আপনাকে উপায় অবলম্বন করতে হবে, আর এটি একটি উপায়। আয়াতটি পড়ার সময় এর অর্থ স্পষ্টভাবে মনে রাখবেন। এই প্রোগ্রামের মেয়াদ পাঁচ দিন বা সাত দিন, বা তার বেশি।"
সূরা আল-জ্বিন, আয়াত ৯
৯. আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।
ভিডিও ৯ — শেষাংশ শব্দ করে বারবার (১০০ বার বা সংখ্যা ছাড়া); ৫–৭ দিন বা বেশি। (প্রতিদিন আধা থেকে দেড় ঘণ্টা ছিল ঘটনার ভাইয়ের নিজের অভ্যাস।)
কেন্দ্রের নোট: জ্বীনদের আসমানের খবর চুরি করে শোনার কথা কুরআনে আছে; কিন্তু শয়তান মানুষের চিন্তা ও পরিকল্পনা শুনে আগেভাগে নষ্ট করে — এটি শাইখের নিজের ব্যাখ্যা ও অভিজ্ঞতা, কুরআন-হাদীসের সরাসরি বক্তব্য নয়। তেলাপোকা ও স্বপ্নের ঘটনাটি এক ভাইয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যা শাইখ বর্ণনা করেছেন — উৎসাহ হিসেবে নেবেন, প্রমাণ বা নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে নয়। শাইখ এই আয়াতটিকে "সূরা আস-সাফফাতের" বলেছেন; বাক্যটি আসলে সূরা আল-জ্বিনের ৯ নং আয়াতে।
শাইখ বলেন: "এই ভিডিওতে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — কিছু মানুষ বছরের পর বছর ভাবতে থাকে জাদু এখনো আছে, অথচ বাস্তবে জাদু অনেক আগেই পড়ে গেছে; কিন্তু তারা ভ্রম, ভয় আর ভুল সংযোগের ঘূর্ণিতে ঢুকে গেছে। এই নিয়মটা ভালো করে শুনুন ও মনে রাখুন: জাদু নির্দিষ্ট, বদনজর ব্যাপক।"
"অর্থাৎ জাদু সাধারণত একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে করা হয়। জাদুকর সাধারণত একবারে সবকিছুর উপর জাদু করে না, বরং শক্তিশালী হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বাঁধে — যেমন বিয়ে আটকানোর জাদু, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের জাদু, তালাকের জাদু, সফর আটকানোর জাদু, রিজিক আটকানোর জাদু, অসুস্থতার জাদু, রোগ না সারার জাদু, পড়াশোনা বা চাকরি আটকানোর জাদু। আর বদনজর ও হাসাদ ভিন্ন — একটি বদনজরে শরীর খুলে গেলে পরপর আরও বদনজর জমে, প্রতিটি হয়তো নির্দিষ্ট কিছুতে আঘাত করে।"
"তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — জাদু খুলে গেছে তার একমাত্র শক্তিশালী নিদর্শন কী? নিদর্শন হলো: জাদু আপনাকে যা থেকে বাধা দিচ্ছিল, সেটা বাস্তবে ঘটে যাওয়া। উদাহরণ: রাকীর মাধ্যমে, নিজে বা স্বপ্নের মাধ্যমে সঠিকভাবে আপনার বিয়ে আটকানোর জাদু শনাক্ত হয়েছে; বছরের পর বছর যখনই কেউ প্রস্তাব দেয়, সে হারিয়ে যায়, বা আপনি কাউকে প্রস্তাব দিলে বিয়ে হয় না, বিতৃষ্ণা, হঠাৎ সমস্যা বা কারণহীন প্রত্যাখ্যান — বারবার। তারপর আপনি চিকিৎসা শুরু করলেন — রুকইয়াহ, দোয়া, কুরআন, সুরক্ষা, সাদাকাহ — আর হঠাৎ সত্যিই বিয়ে হয়ে গেল, আকদ হলো। এর মানে জাদু ব্যর্থ হয়েছে, কারণ যে লক্ষ্যে জাদু বানানো হয়েছিল, সেটাই পড়ে গেছে। আমি সবসময় বলি: আটকে থাকা কাজটি সম্পন্ন হওয়াই জাদু পতনের ঘোষণা।"
"কেউ কেউ বলে, 'আমার বিয়ে আটকানোর জাদু ছিল, বিয়েও হয়ে গেছে, তবু মনে হয় জাদু আছে।' যা আটকানোর জন্য জাদু ছিল তা যদি ঘটে গিয়ে থাকে, তার মানে জাদু শেষ। হ্যাঁ, কিছু মানসিক প্রভাব থাকতে পারে — ভয়, ওয়াসওয়াসা, পুরনো ক্লান্তি, কিছু ক্ষেত্রে মাস, ক্বারীনের প্রভাব, বা আক্রান্ত হওয়ার চিন্তায় আটকে থাকা — কিন্তু লক্ষ্য আটকানো সেই জাদু বিশ্বাস করুন পুরোপুরি শেষ। জাদু অপরাজেয় কোনো সত্তা নয়; তার একটা কাজ আছে, সেই কাজে ব্যর্থ হলে সে পড়ে যায়।"
"আর একটি বিপজ্জনক বিষয় — জাদু পড়ে যাওয়ার পর কিছু জাদু-খাদেম বা শয়তান আপনাকে বোঝাতে চায় যে জাদু এখনো আছে, যাতে আপনি ভয়ে, নির্ভরতায় ও মানসিক ভাঙনে থাকেন, প্রতিটি সমস্যাকে জাদুর সাথে জোড়েন। তাই বিয়ের পরও কেউ বলে 'নিশ্চয়ই জাদু আছে'। কারণ শয়তান চায় আপনি ভ্রমের বৃত্তে বাস করুন। তবে এর মানে এই নয় যে আযকার ও সুরক্ষা ছেড়ে দেবেন — মু'মিন সবসময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখে: সকাল-সন্ধ্যার আযকার, সূরা বাকারা, আয়াতুল কুরসী, ইস্তিগফার, সালাত। পার্থক্য হলো, আপনি নিশ্চিন্ত মনে সুরক্ষা নেবেন, স্থায়ী আতঙ্ক ও ভ্রমের মধ্যে নয়। আটকে থাকা জিনিসটি ঘটে গেলে আলহামদুলিল্লাহ বলুন এবং বলুন — জাদু ব্যর্থ হয়েছে।"
এই ভিডিওর মূল বিষয় "সিহর মারশূশ" — ছিটিয়ে দেওয়া জাদুর লক্ষণ। এর মধ্যে বিয়ে-সংক্রান্ত অংশে শাইখ বলেন: "ছিটিয়ে দেওয়া জাদু কয়েকটি জিনিসের উপর কাজ করে — এর মধ্যে বড় অংশে বিয়ে আটকানো এবং রিজিক ও কাজ আটকানো। ছিটিয়ে দেওয়া জাদুর মৌলিক কাজ চারটি: সফর আটকানো, বিয়ে আটকানো, কাজ আটকানো ও রিজিক আটকানো। জাদুর মেয়াদ যত লম্বা হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি যত বেশি তার কাছ দিয়ে বা উপর দিয়ে হাঁটে, ততই অন্য লক্ষণও দেখা দেয়।" (০:৫২–১:০৭)
"ছিটিয়ে দেওয়া জাদু বিচ্ছেদের জন্যও কাজ করে — বিচ্ছেদের জন্য ছিটানো হলে তা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বা পরিবারের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়।" (৩:০০)
এই ভিডিওর বাকি অংশে পায়ের লক্ষণ ও অন্যান্য বিষয় আছে, যা বিয়ে-সংক্রান্ত নয় বলে এখানে নেওয়া হয়নি।
আপনি যে সমস্যাগুলো থেকে বের হতে চান অথবা যে রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করতে চান সেই সমস্যা ও রোগ গুলোকে ১, ২, ৩, এভাবে নাম্বার দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী প্রথমে নোট ডাউন করে নিবেন। পরবর্তীতে এক নম্বরে যে সমস্যা বা রোগটি থাকবে সেটার জন্য একদিন ৩০ মিনিট আপনি নিজেই রুকইয়াহ করবেন, দ্বিতীয় নম্বরে যে সমস্যা বা রোগটি থাকবে সেটার জন্য দ্বিতীয় দিন ৩০ মিনিট রুকইয়াহ করবেন। তৃতীয় দিন তৃতীয় সমস্যা বা রোগটির জন্য, চতুর্থ দিন চতুর্থ সমস্যা বা রোগের জন্য। এভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী প্রতিদিন একটি সমস্যা ধরে রুকইয়াহ করবেন; তালিকা শেষ হলে আবার এক নম্বর থেকে শুরু করবেন।
এই গাইডলাইনের বিষয় অনুযায়ী আপনার তালিকাটি হতে পারে এরকম:
১. প্রধান সমস্যা — বিয়ে আটকে থাকা, প্রস্তাব না আসা বা এসে ফিরে যাওয়া
২. দ্বিতীয় সমস্যা — প্রস্তাবকারীদের বিমুখতা, বাগদান ভেঙে যাওয়া, অপর পক্ষের প্রতি কারণহীন বিতৃষ্ণা
৩. তৃতীয় সমস্যা — বিয়ের উপর বদনজর ও হাসাদ, সৌন্দর্য-বিকৃতির প্রভাব
৪. চতুর্থ সমস্যা — বিয়ে আটকানোর জাদু ও তার গিঁট, আশিক জ্বীন, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা বাধা (বিবাহিত হলে: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রভাব)
আপনার নিজের অবস্থা অনুযায়ী এই তালিকা ছোট-বড় করে নিবেন; যে সমস্যা আপনার নেই তা রাখবেন না।
"হে আল্লাহ আমার বিয়ে আটকে থাকা, প্রস্তাবকারীদের বিমুখতা, বাগদান ভেঙে যাওয়া ও বিয়ের উপর বদনজর-হাসাদ — এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত সকল বদনজর, হাসাদ, সেহের, জ্বীন, শরীরের ভিতরে ও বাইরে থাকা শয়তান জ্বীন ও তাদের সকল প্রভাবকে আপনি ধ্বংস করে দিন"
উপরের এই বাংলা দোয়াটি ১৫ মিনিট পাঠ করবেন। যেদিন তালিকার যে সমস্যাটির পালা, সেদিন দোয়ায় সেই সমস্যাটির নাম বলবেন। আর বাকি ১৫ মিনিট সূরা ফাতিহা, ফালাক এবং নাস পাঠ করবেন।
এভাবে বাংলা ১৫ মিনিট দোয়া এবং ১৫ মিনিট কুরআনের আয়াত পাঠ করে মোট ৩০ মিনিট রুকইয়াহ শেষ করার পর পানি, মধু, গোলাপজল, অলিভ অয়েল, সিদর পাতা, এগুলোতে ফুঁ দিয়ে মিশিয়ে ফুঁ দিবেন।
এরপর করার ফলে আপনার নিজের রুকইয়াহও হলো আবার সাথে সাথে আপনার পড়া পানি, পড়া মধু, পড়া তেল ইত্যাদি সব সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়ে গেল।
সময় থাকলে কুরআনের অংশে সূরা আত-তাকভীর ৭, সূরা আর-রূম ২১, সূরা আল-ফুরকান ৭৪ ও সূরা আন-নাবা ৮ যোগ করবেন — অডিও ১-এ শাইখ এগুলো বারবার পড়েছেন।
১. পড়া পানি: রুকইয়াহ শেষে যে পানিতে ফুঁ দিয়েছেন, সেই পানি প্রতিদিন সকালে ও রাতে পান করবেন। শাইখের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা এক গ্লাস পানিতে সূরা আত-তাকভীরের ৭ নং আয়াত ১০০ বার পড়ে প্রতিদিন পান করবেন।
২. পড়া মধু: সকালে খালি পেটে ১ চামচ পড়া মধু খাবেন; চাইলে পড়া পানিতে মিশিয়ে।
৩. পড়া অলিভ অয়েল: নিচের নিয়মে শরীরে মাখবেন।
৪. গোলাপজল ও সিদর পাতা: রুকইয়াহ গোসলে ব্যবহার করবেন (নিচে)।
৫. পিঙ্ক সল্ট: রুকইয়াহ গোসলে ১ চামচ।
সব সাপ্লিমেন্ট ৭ দিন পর পর নতুন করে পড়ে নিবেন। পানি ফুরিয়ে গেলে নতুন পানিতে আবার ফুঁ দিবেন।
গোসলের নিয়ম:
এক বালতি গোসলের পানি নিন। তাতে ১ লিটার পড়া পানি, এক চামচ পিঙ্ক সল্ট, ১০-১৫ চামচ গোলাপজল এবং ১ থেকে ৩ চামচ অলিভ অয়েল এবং সাতটি সিদর পাতা বেটে পেস্ট করে পানিতে মিশিয়ে ফেলুন।
এরপর এই ১ বালতি পানি থেকে আরেক বালতি পানি আপনার মাথার উপর থেকে আস্তে আস্তে ঢালবেন এবং পুরো শরীর ম্যাসাজ করবেন। পরবর্তীতে নরমাল ফ্রেশ পানি দিয়ে গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নিবেন।
গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে পুরো শরীরে পড়া অলিভ অয়েল মেখে নিবেন। বিশেষ করে আপনার শরীরের যে সকল জায়গায় ব্যথা করে, জ্বালাপোড়া করে এবং ফুসকুড়ি সেসব স্থানে ঐ পড়া অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করবেন।
১. প্রতিদিন সকালে ও রাতে পড়া পানি দিয়ে মুখ ধোবেন।
২. একটি স্প্রে বোতলে পড়া পানি নিয়ে ঘরের কোণায় কোণায়, বিছানায় ও নিজের শরীরে স্প্রে করবেন।
৩. ঘর মোছার পানিতে এক গ্লাস পড়া পানি মিশিয়ে ঘর মুছবেন।
৪. পড়া পানিতে কিছু অ্যালকোহলমুক্ত (পারফিউম-ছাড়া) আতর মিশিয়ে ঘরে ও শরীরে ব্যবহার করতে পারেন।
৫. রাতে ঘুমানোর আগে পড়া পানি পান করে ঘুমাবেন।
সূরা কাহফ ৩ বার রাতে, সকালে সূরা ইয়াসিন, সন্ধ্যায় সূরা ওয়াকিয়া।
সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আযকার নিয়মিত পড়বেন। প্রতি ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল পড়বেন।
নিয়মিত মাসনুন আমল করার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্নতের নিয়তে সাদাকাহ আদায় করবেন।
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময়মতো আদায় করবেন। শাইখ প্রতিটি চিকিৎসার আগে সালাত, আযকার, গুনাহ বর্জন ও দরূদের কথা বলেছেন।
২. বিয়ের জন্য স্বাভাবিক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন — পরিবারের সাথে খোলামেলা কথা বলা, উপযুক্ত প্রস্তাব খোঁজা, অবাস্তব শর্ত কমানো। রুকইয়াহ চেষ্টার বিকল্প নয়; শাইখের ভাষায়, এটা একটা উপায় (সবাব)।
৩. ঘরে ছবি, মূর্তি, তাবিজ-কবচ, গান-বাজনা থাকলে সরিয়ে ফেলবেন। কোনো তাবিজ থাকলে খুলে পড়া পানিতে ভিজিয়ে ধ্বংস করবেন।
৪. রুকইয়াহ শোনার বা পড়ার সময় মাথাব্যথা, হাই ওঠা, কান্না, শরীরে টান বা ভার অনুভব হতে পারে — ভয় পাবেন না, রুকইয়াহ বন্ধ করবেন না। প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক তীব্র হলে একা করবেন না; অভিজ্ঞ রাকীর সাথে যোগাযোগ করবেন।
৫. লক্ষণ মিলে গেলেই কোনো আত্মীয়, প্রতিবেশী বা পরিচিত কাউকে জাদুকর বা হিংসুক বলে সন্দেহ করবেন না, অভিযোগ করবেন না। শতভাগ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা বড় গুনাহ এবং পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করে।
৬. মেহেদির মিশ্রণ শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য; আগে এলার্জি পরীক্ষা করবেন। পুরুষেরা হাত-পায়ে মেহেদি ব্যবহারের আগে আলেমের কাছে জেনে নেবেন।
৭. মাসিকের অনিয়ম, পেটব্যথা, অনিদ্রা, অদ্ভুত কিছু দেখা বা শোনার মতো উপসর্গের জন্য চিকিৎসকের পরীক্ষা ও চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, সহায়ক।
৮. শাইখের কিছু ব্যাখ্যা ও পদ্ধতি (মেহেদির মিশ্রণ, চুরি করে শোনা শয়তানের ব্যাখ্যা, স্বপ্নের লক্ষণ) তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ — কুরআন-হাদীসে সরাসরি বর্ণিত নয়; সেভাবেই নেবেন। কুরআনের আয়াত, মাসনুন আযকার ও দোয়াই মূল ভরসা।
৯. বিয়ে হয়ে গেলে শাইখের কথা মনে রাখবেন: আটকে থাকা কাজটি সম্পন্ন হওয়াই জাদু পতনের ঘোষণা। তারপর আতঙ্কে না থেকে নিশ্চিন্ত মনে সকাল-সন্ধ্যার আযকার ও সুরক্ষা চালিয়ে যাবেন।
১০. ধৈর্য ধরবেন। শাইখ বিভিন্ন আমলে ৫–৭ দিন, ৭–২১ দিন বা "বিয়ে সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত" বলেছেন। কমপক্ষে ৪০ দিন নিয়মিত চালিয়ে তারপর অবস্থা পর্যালোচনা করবেন। বিয়ের সময় ও জোড়া আল্লাহর হাতে — তাঁর উপর পূর্ণ ভরসা রাখবেন।
এই গাইডলাইনের সমস্যাগুলো ধরে নিজে রুকইয়াহ করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো।
একটি কাগজে আপনার সমস্যাগুলো গুরুত্বের ক্রমে লিখুন। উদাহরণ:
১. প্রধান সমস্যা — বিয়ে আটকে থাকা, প্রস্তাব না আসা বা এসে ফিরে যাওয়া
২. দ্বিতীয় সমস্যা — প্রস্তাবকারীদের বিমুখতা, বাগদান ভেঙে যাওয়া, অপর পক্ষের প্রতি কারণহীন বিতৃষ্ণা
৩. তৃতীয় সমস্যা — বিয়ের উপর বদনজর ও হাসাদ, সৌন্দর্য-বিকৃতির প্রভাব
৪. চতুর্থ সমস্যা — বিয়ে আটকানোর জাদু ও তার গিঁট, আশিক জ্বীন, উত্তরাধিকারসূত্রে আসা বাধা (বিবাহিত হলে: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রভাব)
প্রতিদিন একটি সমস্যা ধরে রুকইয়াহ করবেন; চার দিনে তালিকা শেষ হলে আবার প্রথম থেকে।
প্রথম ১৫ মিনিট: উপরের বাংলা দোয়াটি সেদিনের সমস্যার নাম বসিয়ে বারবার পড়বেন। সাথে শাইখের রুকইয়াহ-বাক্যগুলোর বাংলা অর্থ — বিয়ের গিঁট খুলে যাওয়া, প্রস্তাবকারীদের বিমুখতা দূর হওয়া, প্রস্তাবকারীদের চোখ থেকে আড়াল করার জাদু বাতিল হওয়া, সৌন্দর্য-বিকৃতির প্রভাব দূর হওয়া — নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চাইবেন। শেষে কুরআনের দোয়া "রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ'ইউন"-এর অর্থ মনে রেখে দোয়া করবেন।
পরের ১৫ মিনিট: সূরা আল-ফাতিহা, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পাঠ করবেন। সময় থাকলে সূরা আত-তাকভীর ৭, সূরা আর-রূম ২১, সূরা আন-নাবা ৮, সূরা আয-যারিয়াত ৪৯ ও সূরা আল-ফুরকান ৭৪ যোগ করবেন; বিবাহিতদের বিচ্ছেদের সমস্যায় সূরা আল-বাকারা ১০২।
সেশনের আগে সামনে রাখবেন: এক বোতল পানি, এক বোতল অলিভ অয়েল, মধু, গোলাপজল ও সিদর পাতা। সেশন শেষে প্রতিটিতে ফুঁ দিবেন।
আলাদা এক গ্লাস পানিতে সূরা আত-তাকভীরের ৭ নং আয়াত ১০০ বার পড়ে শব্দ করে ফুঁ দিয়ে পান করবেন (ভিডিও ৪)।
মাসে দুবার মেহেদির মিশ্রণে সূরা ফাতিহা ২১–১০০ বার পড়ে মাথায়, হাতে ও পায়ে লাগাতে পারেন (ভিডিও ৩ — সতর্কতা-নোট মেনে)।
প্রতিদিন: ৩০ মিনিটের সেশন + অডিও ১ বা ২ থেকে একটি + সূরা আত-তাকভীর ৭ একশো বার পানিতে + সকাল-সন্ধ্যার আযকার + এশার পর সূরা আল-হাজ্জ (শুরুতে একবার, সামর্থ্য বাড়লে তিনবার)।
সপ্তাহে একদিন: রুকইয়াহ গোসল। মাসে দুবার: মেহেদির মিশ্রণ।
সপ্তাহে একবার সাপ্লিমেন্ট নতুন করে পড়ে নেওয়া। ৪০ দিন পর অবস্থার পর্যালোচনা। মাঝখানে ভেঙে গেলে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করবেন।
۞ ❖ ۞
আল্লাহ তা'আলা আপনার বিয়ের সব বাধা দূর করে দিন, আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিন এবং তাঁকে ও আপনার সন্তানদের আপনার চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন। আমীন।