بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
রুকইয়াহ প্রোটোকল
পানি, বায়ু, মাটি ও আগুনের মাধ্যমে করা যাদু
চার প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে করা সিহরের রুকইয়াহ প্রোটোকল
✦ ✦ ✦
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center
ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল
মানুষের মধ্যে একটা প্রচলিত ভুল ধারণা আছে — জাদু যদি পানিতে গুলিয়ে খাওয়ানো হয়, বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হয়, মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়, বা আগুনে পুড়িয়ে করা হয়, তাহলে সেটা বুঝি অন্য ধরনের জাদুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী বা ভাঙা কঠিন। বাস্তবতা ঠিক উল্টো। পানি, বাতাস, মাটি ও আগুন — এই চারটি উপাদানই আল্লাহর সৃষ্টি, আর কোনোটিরই নিজস্ব কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই। যে আগুনকে আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্য এক নিমিষে শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছিলেন, যে পানির উপর তাঁর আরশ প্রতিষ্ঠিত, যে বাতাস তাঁর হুকুম ছাড়া একটি মেঘও নাড়াতে পারে না, এমনকি জিন নিজে যে আগুন থেকে সৃষ্ট — সেই আগুনও জিনের নিজের সম্পত্তি নয়, আল্লাহরই সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণে। তাই কোনো নির্দিষ্ট উপাদানের মাধ্যমে করা জাদুকে আলাদা করে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই — ভয় শুধু আল্লাহকে, আর ভরসা শুধু তাঁরই কালামের উপর।
যেসব লক্ষণ থাকলে এই প্রোটোকল কাজে আসবে
- কূয়া, পুকুর বা নির্দিষ্ট পানির উৎসের কাছে গেলেই শরীর ভারী লাগা বা অস্বস্তি হওয়া
- ওজু বা গোসলের পানি ব্যবহারের সময় হঠাৎ অনীহা বা অস্বাভাবিক অনুভূতি হওয়া
- নির্দিষ্ট বাতাস বা হাওয়া গায়ে লাগলে হঠাৎ কাঁপুনি, গা ছমছম করা
- বাড়ির আঙিনা, উঠান বা নির্দিষ্ট মাটির জায়গায় পা রাখলেই অস্থিরতা লাগা
- কিছু পোড়ানোর গন্ধ পেলে বা আগুনের কাছে গেলে বুক ধড়ফড় করা, ভয় লাগা
- ঘরের কোনো একটা কোণে বা মাটির নিচে কিছু চাপা থাকার মতো অনুভূতি হওয়া
- রান্নাঘরের চুলা বা আগুনের কাছে গেলে অকারণ রাগ বা অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া
জরুরি নোট: উপরের লক্ষণগুলোর অধিকাংশেরই সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে।
তাই আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। রুকইয়াহ চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে,
বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুরু করার দোয়া
অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছেই আরোগ্য চাইছি।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া পাঠকারীকে কোনো কিছু আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে না। (তিরমিযী ৩৩৮৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পাঠসংখ্যা: ১৯ বার
রুকইয়াহ শুরুর আগে মনোযোগ ও নিয়ত স্থির করে পড়ুন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
(মুসলিম ২৭০৮)
পানি ও বাতাসের মাধ্যমে করা জাদু ভাঙা
কূয়া, পুকুর, ওজু-গোসলের পানি বা বাতাস নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ভয় থাকলে পানির পাত্রের সামনে বা খোলা বাতাসে দাঁড়িয়ে পূর্ণ ইয়াকীনের সাথে এই আয়াতগুলো পড়ুন।
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ۳۰
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: প্রতিটি জীবন্ত সত্তা পানি থেকে সৃষ্টি — পানির উপর কারো জাদুর মালিকানা নেই, মালিক শুধু আল্লাহ
وَهُوَ الَّذِى خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُۥ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ ۷
তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: আল্লাহর আরশ ছিল পানির উপরে — সৃষ্টির শুরু থেকেই পানি তাঁরই কর্তৃত্বে
وَهُوَ الَّذِى يُرْسِلُ الرِّيٰحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦ ۖ حَتَّىٰ إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنٰهُ لِبَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَنزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِۦ مِن كُلِّ الثَّمَرٰتِ ۚ كَذٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتَىٰ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ۵۷
তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হঁ্যাকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব-যাতে তোমরা চিন্তা কর।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: বাতাস শুধু আল্লাহর হুকুমেই মেঘ ও পানি বহন করে, নিজে থেকে কিছু বহন করে না
وَهُوَ الَّذِى أَرْسَلَ الرِّيٰحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا ۴۸
তিনিই স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: রহমতের আগে বাতাস পাঠান আল্লাহই — বাতাসে ছড়ানো কোনো জাদু তাঁর অনুমতি ছাড়া পৌঁছাতে পারে না
মাটি ও আগুনের মাধ্যমে করা জাদু ভাঙা
মাটির নিচে পোঁতা বা আগুনে পোড়ানো জাদুর ভয় থাকলে ঘরের চারপাশে ও রান্নাঘরে হেঁটে হেঁটে এই আয়াতগুলো পড়ুন।
قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ ۖ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍ ۷۶
সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: ইবলিশ আগুনের সৃষ্টি, আদম আলাইহিস সালাম মাটির — উভয় উপাদানই আল্লাহর হুকুমের অধীন, ইবলিশের নিজের কোনো ক্ষমতা নেই
وَالْجَانَّ خَلَقْنٰهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ ۲۷
এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জিন সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ উত্তপ্ত আগুন থেকে — যে আগুন থেকে তারা সৃষ্ট, সেই আগুনও আল্লাহরই সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণে
وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ ۱۵
এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: ধোঁয়াবিহীন আগুনের শিখা থেকে জিনের সৃষ্টি — সৃষ্টিকর্তার হুকুম ছাড়া কোনো জিন আগুন দিয়ে ক্ষতি করতে পারে না
قُلْنَا يٰنَارُ كُونِى بَرْدًا وَسَلٰمًا عَلَىٰ إِبْرٰهِيمَ ۶۹
আমি বললামঃ হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জন্য আগুনকে শীতল ও নিরাপদ হওয়ার হুকুম — আগুনও আল্লাহর কথা শোনে, জাদুকরের কথা নয়
বিশেষ দোয়া — পানি, বায়ু, মাটি ও আগুনের মাধ্যমে করা যাদু
এই দোয়াগুলো এই সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো। আয়াত পাঠ শেষে পড়ুন।
اللَّهُمَّ احْرِقْ كُلَّ سِحْرِ الْعَنَاصِرِ عَلَى جَسَدِي وَبَيْئَتِي
হে আল্লাহ! আমার শরীর ও চারপাশে থাকা সমস্ত চার উপাদানের জাদু জ্বালিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ كُلُّ تَسَلُّطٍ عَلَى جَسَدِي وَبَيْئَتِي
আল্লাহর নামে — আমার শরীর ও চারপাশে সমস্ত আধিপত্য বাতিল করা হলো।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ بِقُوَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ عُقِدَتْ عَلَى جَسَدِي وَبَيْئَتِي
হে আল্লাহ! আপনার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমার শরীর ও চারপাশে বাঁধা প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ يَا مَنْ أَمَرْتَ النَّارَ أَنْ تَكُونَ بَرْدًا وَسَلَامًا أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ جُعِلَ فِي نَارٍ أَوْ رَمَادٍ أَوْ دُخَانٍ
হে আল্লাহ, যিনি আগুনকে শীতল ও নিরাপদ হতে আদেশ দিয়েছিলেন — আগুনে, ছাইয়ে বা ধোঁয়ায় করা প্রতিটি জাদু বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ يَا خَالِقَ الْمَاءِ وَمُسَخِّرَهُ طَهِّرْ كُلَّ مَاءٍ سُحِرَ لِي أَوْ سُقِيتُ مِنْهُ وَأَبْطِلْ أَثَرَهُ
হে আল্লাহ, পানির স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী — আমার জন্য জাদু করা বা আমাকে পান করানো প্রতিটি পানি পবিত্র করে দিন, তার প্রভাব বাতিল করে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ يَا مُصَرِّفَ الرِّيَاحِ وَبَارِئَ التُّرَابِ رُدَّ كُلَّ سِحْرٍ أُرْسِلَ فِي رِيحٍ أَوْ دُفِنَ فِي تُرَابٍ إِلَى صَاحِبِهِ
হে আল্লাহ, বাতাসের নিয়ন্ত্রণকারী ও মাটির সৃষ্টিকর্তা — বাতাসে ছাড়া বা মাটিতে পুঁতে রাখা প্রতিটি জাদু তার মালিকের দিকেই ফিরিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
সমাপ্তির সূরা ও দোয়া
প্রতিটি সেশন এভাবে শেষ করুন। শেষে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۱ اللَّهُ الصَّمَدُ ۲ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۳ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ ۴
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে হৃদয় দৃঢ় করা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۱ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۲ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۳ وَمِن شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الْعُقَدِ ۴ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ۵
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জাদু, হাসাদ ও রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۱ مَلِكِ النَّاسِ ۲ إِلٰهِ النَّاسِ ۳ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۴ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۶
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মানুষ ও জিনের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয়
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি — প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নবীজি ﷺ হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে এই দোয়া পড়ে ঝাড়তেন। (বুখারী ৩৩৭১)
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি — এমন প্রতিটি জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণ ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি ﷺ-কে এভাবে রুকইয়াহ করেছিলেন। (মুসলিম ২১৮৬)
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই — এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
(বুখারী ৫৭৪৩)
📌 সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন
ধারাবাহিকতাই মূল কথা। প্রতিদিন অল্প, কিন্তু নিয়মিত।
পদ্ধতি — ধাপে ধাপে
- অযু করে কিবলামুখী হয়ে নিরিবিলি বসুন। মোবাইল দূরে রাখুন।
- নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইছি, কালামের নিজের কোনো শক্তি নেই, শক্তি আল্লাহর।
- শুরুর দোয়াগুলো পড়ুন (অধ্যায় ১)।
- এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। পড়ার সময় দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্যার জায়গায় হাত বুলান।
- প্রতিটি আয়াতের নিচে দেওয়া নির্দেশনা বক্সে যতবার বলা আছে ততবার পড়ুন — কম-বেশি করার দরকার নেই।
- মাঝে বাংলায় নিজের ভাষায় ১৫ মিনিট মন খুলে দোয়া করুন। কান্না আসলে আটকাবেন না।
- শেষে সমাপ্তির সূরা ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ দিন চালিয়ে যান। মাঝে বাদ পড়লে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।
দৈনিক সময়সূচি
| সকাল | ফজরের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| সন্ধ্যা | মাগরিবের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| রাত | ঘুমানোর আগে — সমাপ্তির সূরা ও দোয়া, পড়া পানি পান |
| সাপ্তাহিক | সপ্তাহে একদিন রুকইয়াহ গোসল |
বাংলায় নিজের দোয়া (১৫ মিনিট)
আয়াত পাঠের মাঝে বা শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চান। নিচেরটি একটি নমুনা —
হুবহু এটাই পড়তে হবে এমন নয়, নিজের কথায় বলুন।
হে আল্লাহ, আপনি পানি, বাতাস, মাটি ও আগুন — সবকিছুর একচ্ছত্র মালিক। এই চার উপাদানের যেকোনো একটির মাধ্যমেও যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো জাদু করা হয়ে থাকে, আপনি তা সম্পূর্ণ বাতিল করে দিন। আমার পান করা পানি, আমার নিঃশ্বাসে নেওয়া বাতাস, আমার পায়ের নিচের মাটি ও আমার আশেপাশের আগুন — সবকিছু আপনার হিফাজতে রাখুন। আমাকে ও আমার ঘরকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে মুক্ত রাখুন।
পড়া তেল ম্যাসাজের স্থান
পানি, বায়ু, মাটি ও আগুনের মাধ্যমে করা যাদু-এর ক্ষেত্রে ফোকাস: কপাল, বুক ও দুই পায়ের তালু
সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল
| পড়া পানি | এক বোতল পানিতে রুকইয়াহর আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। দিনে ৩ বার — সকালে খালি পেটে, দুপুরে, রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। |
| পড়া মধু | খাঁটি মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন সকালে এক চামচ। সূরা নাহল ৬৯ নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে ভালো। |
| পড়া অলিভ অয়েল | জয়তুন তেলে আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সবচেয়ে ভালো। |
| কালোজিরা | প্রতিদিন সকালে ৭টি কালোজিরা পড়া মধুর সাথে। নবীজি ﷺ বলেছেন কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় আছে। (বুখারী ৫৬৮৮) |
| রুকইয়াহ গোসল | বালতি পানিতে আয়াত পড়ে ফুঁ দিন, সাথে সাত পাতা বরই পাতা বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন। মাথা থেকে ঢেলে গোসল করুন — সপ্তাহে একদিন। |
| ঘরে স্প্রে | পড়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে ঘরের কোণা, দরজা-জানালা, বিছানার নিচে ছিটিয়ে দিন। |
দৈনিক আমল
রুকইয়াহর পাশাপাশি এই আমলগুলোই দীর্ঘমেয়াদি হিফাজত দেয়।
| ফজরের পর | সূরা ইয়াসীন ১ বার |
| সকাল-সন্ধ্যা | হিসনুল মুসলিমের সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত |
| আসরের পর | সূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার |
| রাতে | সূরা ক্বফ ৩ বার, সূরা মুলক ১ বার |
| ঘুমানোর আগে | আয়াতুল কুরসী ১ বার, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল ৩ বার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলানো |
| প্রতিদিন | সাধ্যমতো সাদাকাহ — অল্প হলেও প্রতিদিন। সাদাকাহ বালা দূর করে। |
| প্রতিদিন | ফরজ নামাজ জামাতে, ইস্তিগফার ১০০ বার, দরূদ ১০০ বার |
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।