بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
✦ ✦ ✦
রুকইয়াহ প্রোটোকল
চাকরি পাওয়া
কর্মসংস্থানের পথ খোলার রুকইয়াহ, দোয়া ও আমল
✦ ✦ ✦
রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
Al Quranic Ruqyah Healing Center
ভূমিকা — কাদের জন্য এই প্রোটোকল
চাকরির চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া — এই সময়ের অন্যতম বড় কষ্ট। এখানে দুটি কথা একসাথে বলা দরকার। এক, রিজিক আল্লাহর হাতে এবং তিনি নির্ধারিত সময়ে তা দেবেন। দুই, চেষ্টা ছাড়া তাওয়াক্কুল হয় না — উট বেঁধে তারপর ভরসা করার নির্দেশই নবীজি ﷺ দিয়েছেন। এই প্রোটোকল আমল ও চেষ্টা — দুটোকেই ধরে রাখতে বলে।
যেসব লক্ষণ থাকলে এই প্রোটোকল কাজে আসবে
- যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বারবার আবেদনে সাড়া না পাওয়া
- ইন্টারভিউ ভালো হয়েও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়া — বারবার
- নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়া
- ইন্টারভিউয়ের আগে অস্বাভাবিক ভয়, মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়া
- চাকরির কথা ভাবলেই হতাশা ও দমবন্ধ লাগা
জরুরি নোট: উপরের লক্ষণগুলোর অধিকাংশেরই সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকতে পারে।
তাই আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। রুকইয়াহ চিকিৎসার সমান্তরালে চলবে,
বিকল্প হিসেবে নয়। কোনো লক্ষণ মিললেই নিশ্চিতভাবে সিহর বা জিনের আসর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুরু করার দোয়া
অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছেই আরোগ্য চাইছি।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া পাঠকারীকে কোনো কিছু আকস্মিক ক্ষতি করতে পারে না। (তিরমিযী ৩৩৮৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পাঠসংখ্যা: ১৯ বার
রুকইয়াহ শুরুর আগে মনোযোগ ও নিয়ত স্থির করে পড়ুন।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
(মুসলিম ২৭০৮)
রিজিকের দরজা খোলার আয়াত
প্রতিদিন সকালে আবেদন পাঠানোর আগে পড়ুন।
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارًا ۱۰ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا ۱۱ وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوٰلٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنّٰتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهٰرًا ۱۲
অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: ইস্তিগফারের সাথে রিজিক ও সাহায্যের ওয়াদা
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَىْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهٰدَةَ لِلَّهِ ۚ ذٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْءَاخِرِ ۚ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا ۲ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥ ۚ إِنَّ اللَّهَ بٰلِغُ أَمْرِهِۦ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا ۳
অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: অকল্পনীয় জায়গা থেকে রিজিক
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَوٰةُ فَانتَشِرُوا فِى الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۱۰
অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জমিনে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ খোঁজো
۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِى الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِى كِتٰبٍ مُّبِينٍ ۶
আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর
فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰ إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّى لِمَا أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ ۲۴
অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: মূসা আলাইহিস সালামের দোয়া — এরপরই কাজ ও ঘর দুটোই হয়েছিল
সাক্ষাৎকার ও উপস্থাপনার আয়াত
ইন্টারভিউ বা পরীক্ষার আগে ঘরে বসে পড়ে নিন, তারপর বেরোন।
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِى صَدْرِى ۲۵ وَيَسِّرْ لِى أَمْرِى ۲۶ وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِى ۲۷ يَفْقَهُوا قَوْلِى ۲۸
মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: বক্ষ প্রশস্ত, কাজ সহজ, জিহ্বার জট খোলা
وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِى بِهِۦ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِى ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُۥ قَالَ إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ ۵۴ قَالَ اجْعَلْنِى عَلَىٰ خَزَائِنِ الْأَرْضِ ۖ إِنِّى حَفِيظٌ عَلِيمٌ ۵۵ وَكَذٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِى الْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ ۚ نُصِيبُ بِرَحْمَتِنَا مَن نَّشَاءُ ۖ وَلَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ ۵۶
বাদশাহ বললঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন। ইউসুফ বললঃ আমাকে দেশের ধন-ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশের বুকে প্রতিষ্ঠা দান করেছি। সে তথায় যেখানে ইচ্ছা স্থান করে নিতে পারত। আমি স্বীয় রহমত যাকে ইচ্ছা পৌছে দেই এবং আমি পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: ইউসুফ আলাইহিস সালামকে দায়িত্বশীল পদে বসানো হয়েছিল
قَالَتْ إِحْدَىٰهُمَا يٰأَبَتِ اسْتَـْٔجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَـْٔجَرْتَ الْقَوِىُّ الْأَمِينُ ۲۶
বালিকাদ্বয়ের একজন বলল পিতাঃ তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে-ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: শক্তিশালী ও আমানতদারকেই কাজে নিয়োগ করা উত্তম
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۖ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِى يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِۦ ۗ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ۱۶۰
যদি আল্লাহ তোমাদের সহায়তা করেন, তাহলে কেউ তোমাদের উপর পরাক্রান্ত হতে পারবে না। আর যদি তিনি তোমাদের সাহায্য না করেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? আর আল্লাহর ওপরই মুসলমানগনের ভরসা করা উচিত।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: আল্লাহ সাহায্য করলে কেউ পরাজিত করতে পারে না
হতাশা ও বাধা কাটানো
বারবার ব্যর্থতার পর হতাশাই সবচেয়ে বড় শত্রু।
۞ قُلْ يٰعِبَادِىَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ۵۳
বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۵ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۶
নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
নিয়ত: কষ্টের সাথেই স্বস্তি
يٰبَنِىَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَايْـَٔسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ لَا يَايْـَٔسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكٰفِرُونَ ۸۷
বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হয় শুধু কাফির সম্প্রদায়
وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصٰرِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُۥ لَمَجْنُونٌ ۵۱ وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعٰلَمِينَ ۵۲
কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল। অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: বদনজরের দৃষ্টি প্রতিহত করা
وَقَالَ يٰبَنِىَّ لَا تَدْخُلُوا مِن بَابٍ وٰحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوٰبٍ مُّتَفَرِّقَةٍ ۖ وَمَا أُغْنِى عَنكُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَىْءٍ ۖ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ ۶۷ وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِى عَنْهُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَىْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِى نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَىٰهَا ۚ وَإِنَّهُۥ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنٰهُ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ۶۸
ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের। তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: ইয়াকূব আলাইহিস সালামের সতর্কতা ও তাওয়াক্কুল
وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ۚ إِن تَرَنِ أَنَا أَقَلَّ مِنكَ مَالًا وَوَلَدًا ۳۹
যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মাশাআল্লাহ লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — নজর প্রতিরোধের ঢাল
বিশেষ দোয়া — চাকরি পাওয়া
এই দোয়াগুলো এই সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো। আয়াত পাঠ শেষে পড়ুন।
اللَّهُمَّ احْرِقْ كُلَّ عَائِقٍ عَلَى طَلَبِ رِزْقِي
হে আল্লাহ! আমার রিজিক অন্বেষণের পথে থাকা সমস্ত বাধা জ্বালিয়ে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
بِسْمِ اللَّهِ يُبْطَلُ كُلُّ تَسَلُّطٍ عَلَى طَلَبِ رِزْقِي
আল্লাহর নামে — আমার রিজিক অন্বেষণের পথে সমস্ত আধিপত্য বাতিল করা হলো।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
اللَّهُمَّ بِقُوَّتِكَ وَقُدْرَتِكَ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ عُقِدَتْ عَلَى طَلَبِ رِزْقِي
হে আল্লাহ! আপনার শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমার রিজিক অন্বেষণের পথে বাঁধা প্রতিটি গিঁট খুলে দিন।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
পাঠসংখ্যা: ১১ বার
মূসা আলাইহিস সালামের দোয়া (কাসাস ২৪)
সমাপ্তির সূরা ও দোয়া
প্রতিটি সেশন এভাবে শেষ করুন। শেষে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۱ اللَّهُ الصَّمَدُ ۲ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۳ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ ۴
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নিয়ত: তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে হৃদয় দৃঢ় করা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۱ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۲ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۳ وَمِن شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الْعُقَدِ ۴ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ۵
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: জাদু, হাসাদ ও রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۱ مَلِكِ النَّاسِ ۲ إِلٰهِ النَّاسِ ۳ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۴ الَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ النَّاسِ ۵ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ۶
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
নিয়ত: মানুষ ও জিনের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয়
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সোপর্দ করছি — প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
নবীজি ﷺ হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে এই দোয়া পড়ে ঝাড়তেন। (বুখারী ৩৩৭১)
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি — এমন প্রতিটি জিনিস থেকে যা তোমাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণ ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি।
পাঠসংখ্যা: ৩ বার
জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি ﷺ-কে এভাবে রুকইয়াহ করেছিলেন। (মুসলিম ২১৮৬)
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই — এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
পাঠসংখ্যা: ৭ বার
(বুখারী ৫৭৪৩)
📌 সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন
ধারাবাহিকতাই মূল কথা। প্রতিদিন অল্প, কিন্তু নিয়মিত।
পদ্ধতি — ধাপে ধাপে
- অযু করে কিবলামুখী হয়ে নিরিবিলি বসুন। মোবাইল দূরে রাখুন।
- নিয়ত করুন — আল্লাহর কালাম দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইছি, কালামের নিজের কোনো শক্তি নেই, শক্তি আল্লাহর।
- শুরুর দোয়াগুলো পড়ুন (অধ্যায় ১)।
- এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। পড়ার সময় দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্যার জায়গায় হাত বুলান।
- প্রতিটি আয়াতের নিচে দেওয়া নির্দেশনা বক্সে যতবার বলা আছে ততবার পড়ুন — কম-বেশি করার দরকার নেই।
- মাঝে বাংলায় নিজের ভাষায় ১৫ মিনিট মন খুলে দোয়া করুন। কান্না আসলে আটকাবেন না।
- শেষে সমাপ্তির সূরা ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ দিন চালিয়ে যান। মাঝে বাদ পড়লে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন।
দৈনিক সময়সূচি
| সকাল | ফজরের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| সন্ধ্যা | মাগরিবের পর — আয়াত পাঠ ১৫ মিনিট |
| রাত | ঘুমানোর আগে — সমাপ্তির সূরা ও দোয়া, পড়া পানি পান |
| সাপ্তাহিক | সপ্তাহে একদিন রুকইয়াহ গোসল |
বাংলায় নিজের দোয়া (১৫ মিনিট)
আয়াত পাঠের মাঝে বা শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চান। নিচেরটি একটি নমুনা —
হুবহু এটাই পড়তে হবে এমন নয়, নিজের কথায় বলুন।
হে আল্লাহ, আপনি জানেন আমি কতদিন ধরে চেষ্টা করছি। আমার জন্য একটি হালাল কাজের ব্যবস্থা করে দিন — এমন কাজ যাতে আমার দ্বীন নষ্ট না হয়। আমার আবেদনগুলো কবুল করুন, সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের অন্তর আমার দিকে ফিরিয়ে দিন। আর যদি দেরি হয়, আমাকে ধৈর্য দিন।
পড়া তেল ম্যাসাজের স্থান
চাকরি পাওয়া-এর ক্ষেত্রে ফোকাস: মাথার তালু, বুক ও দুই হাতের তালু
সাপ্লিমেন্ট ও সাপ্তাহিক আমল
| পড়া পানি | এক বোতল পানিতে রুকইয়াহর আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। দিনে ৩ বার — সকালে খালি পেটে, দুপুরে, রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। |
| পড়া মধু | খাঁটি মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন সকালে এক চামচ। সূরা নাহল ৬৯ নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিলে ভালো। |
| পড়া অলিভ অয়েল | জয়তুন তেলে আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে সবচেয়ে ভালো। |
| কালোজিরা | প্রতিদিন সকালে ৭টি কালোজিরা পড়া মধুর সাথে। নবীজি ﷺ বলেছেন কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময় আছে। (বুখারী ৫৬৮৮) |
| রুকইয়াহ গোসল | বালতি পানিতে আয়াত পড়ে ফুঁ দিন, সাথে সাত পাতা বরই পাতা বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন। মাথা থেকে ঢেলে গোসল করুন — সপ্তাহে একদিন। |
| ঘরে স্প্রে | পড়া পানি স্প্রে বোতলে নিয়ে ঘরের কোণা, দরজা-জানালা, বিছানার নিচে ছিটিয়ে দিন। |
দৈনিক আমল
রুকইয়াহর পাশাপাশি এই আমলগুলোই দীর্ঘমেয়াদি হিফাজত দেয়।
| ফজরের পর | সূরা ইয়াসীন ১ বার |
| সকাল-সন্ধ্যা | হিসনুল মুসলিমের সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত |
| আসরের পর | সূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার |
| রাতে | সূরা ক্বফ ৩ বার, সূরা মুলক ১ বার |
| ঘুমানোর আগে | আয়াতুল কুরসী ১ বার, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল ৩ বার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে বুলানো |
| প্রতিদিন | সাধ্যমতো সাদাকাহ — অল্প হলেও প্রতিদিন। সাদাকাহ বালা দূর করে। |
| প্রতিদিন | ফরজ নামাজ জামাতে, ইস্তিগফার ১০০ বার, দরূদ ১০০ বার |
সেবা ও হাদিয়া:
- মাসিক রুকইয়াহ — ১২টি সেশন + ডায়াগনোসিস। হাদিয়া ৬৪০ টাকা।
- সেলফ রুকইয়াহ গাইডলাইন — শুধু নিজের জন্য আলাদা গাইডলাইন। হাদিয়া ৩০০ টাকা।
নিজের সমস্যা কী — বদনজর, হাসাদ, সিহর নাকি অন্য কিছু — বুঝতে না পারলে
মেসেজে লিখুন Diagnosis। নিতে চাইলে মেসেজ করুন।
রুকইয়াহ একটি শরয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।