সূচিপত্র

পর্ব ১: শরঈ রুকইয়াহ ও তার মাধ্যম — তাওকীফি না ইজতিহাদি?
পরিশিষ্ট
ZZF1ZZ

হাদিয়া (ঐচ্ছিক)

এই কিতাব অনুবাদে আমাদের শত শত ঘণ্টা এবং হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কেউ চাইলে আমাদের কাজের জন্য হাদিয়া পাঠাতে পারেন।

বিকাশ / নগদ / রকেট

০১৮৮৬৬০৮৯৯৯

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

ZZF2ZZ

অনুবাদ প্রসঙ্গে

বাংলা অনুবাদ ও উপস্থাপনা: রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার — alquranicruqyahhealing.com


এটি শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-উবাইদ রচিত আরবি গ্রন্থ «الرقى الشرعية ووسائلها توقيفية أم اجتهادية»-এর সম্পূর্ণ বাংলা অনুবাদ। মূল গ্রন্থের সমস্ত স্বত্ব লেখকের। এই অনুবাদ মূল গ্রন্থের প্রতিস্থাপন নয় — সূত্র হিসেবে ব্যবহারের সময় মূল আরবি গ্রন্থটিই নির্ভরযোগ্য।

উপস্থাপনার নীতি

  • সম্পূর্ণ অনুবাদ, সংক্ষেপ নয়। লেখকের প্রতিটি বক্তব্য, দলিল ও নির্দেশনা বাক্যে-বাক্যে অনূদিত; কোনো অংশ সারসংক্ষেপে পরিণত করা হয়নি।
  • কুরআনের আয়াত মূল আরবিসহ, সূরার নাম ও আয়াত-নম্বরসহ, এরপর বাংলা অর্থ।
  • হাদীস ও উদ্ধৃতি মূল আরবিসহ, মূল গ্রন্থে দেওয়া তাখরীজসহ, তারপর বাংলা।
  • ফতোয়া ও অন্যের বক্তব্য — বক্তার নাম ও মূল গ্রন্থে দেওয়া উৎস অক্ষুণ্ণ।

অনুবাদ-পদ্ধতি ও যাচাই

অনুবাদ করা হয়েছে মূল গ্রন্থের ডিজিটাল (.doc) টেক্সট থেকে। মূল গ্রন্থে কোনো অসংগতি বা ছাপার ভুল ধরা পড়লে তা নীরবে সংশোধন বা নীরবে বহন — কোনোটিই করা হয়নি; সেগুলো আলাদা যাচাই-তালিকায় লিপিবদ্ধ আছে।

ZZP1ZZ
ZZCH1ZZ
পর্ব ১ · অধ্যায় ১

রুকইয়াহ শরইয়্যাহ ও তার মাধ্যমসমূহ — তাওকীফি না ইজতিহাদি?

আরবি মূল: الرقى الشرعية ووسائلها توقيفية أم اجتهادية

শাইখ: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-উবাইদ (عبـد اللـه بن صــالح العبـيــد)

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল জগতের রব। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠজনের উপর, তাঁর পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবিঈগণের উপর।

অতঃপর:

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার উপর সংক্ষিপ্ত গবেষণা — যে মাসআলাটি ইলমী অঙ্গনে উত্থাপিত হয়েছে এবং যাতে মানুষ নিষেধ ও অনুমোদনের মাঝখানে মতভেদ করেছে। সেটি হলো: "রুকইয়াহ শরইয়্যাহ ও তার মাধ্যমসমূহ কি তাওকীফি না ইজতিহাদি?" আর যেহেতু আমি এ বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা দেখিনি, তাই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এর উপকরণ সংগ্রহে হাত দিলাম।

আমি এটিকে দুটি আলোচনায় বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম আলোচনা: রুকইয়ার সংজ্ঞা ও তার বিধান।

দ্বিতীয় আলোচনা: রুকইয়াহ ও তার মাধ্যমসমূহ কি তাওকীফি না ইজতিহাদি?

প্রথম আলোচনা: রুকইয়ার সংজ্ঞা ও তার বিধান

এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: রুকইয়ার সংজ্ঞা

ভাষাগত অর্থে: রুকইয়াহ হলো العُوْذة — আশ্রয়প্রার্থনার বাক্য; এর বহুবচন رُقى। বলা হয়: رَقَى الراقي رَقْياً ورُقْيَةً ورُقِيًّا — যখন সে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তার আশ্রয়-বাক্যে ফুঁ দেয়।(১)

পারিভাষিক অর্থে: রুকইয়াহ হলো সেই আশ্রয়-বাক্য, যা দিয়ে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করা হয়।(২)

দ্বিতীয় মাসআলা: রুকইয়ার বিধান

রুকইয়াহ চিকিৎসারই অন্তর্ভুক্ত, আর চিকিৎসা মূলত শরীয়তসম্মত।(৩)

কেননা মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিবরীল নবী ﷺ-এর কাছে এসে বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনি কি অসুস্থবোধ করছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন জিবরীল বললেন:

باسم الله أرقيك من كل شيء يؤذيك، من شر كل نفسٍ أو عين حاسد الله يشفيك، باسم الله أرقيك

"আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি প্রতিটি ক্ষতিকর বস্তু থেকে, প্রতিটি প্রাণ বা হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে; আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন, আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।"(৪)

আর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

ما أنزل الله من داءٍ إلا أنزل له شفاء

"আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি, যার জন্য আরোগ্যও অবতীর্ণ করেননি।" — বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।(৫)

আর মুসলিমে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ বলেছেন:

لكل داء دواء فإذا أصيب دواء الداء بَرِئ بإذن الله عز وجل

"প্রত্যেক রোগের জন্যই ওষুধ আছে; যখন রোগের ওষুধটি ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয়, তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার অনুমতিতে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।"(৬)

আর শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসে সেই সত্তর হাজার লোকের ঘটনায় — যাঁরা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন — যা বর্ণনা করেছেন, তাতে নবী ﷺ বলেছেন:

هم الذين لا يتطيرون ولا يكتوون ولا يسترقون وعلى ربهم يتوكلون

"তাঁরা সেই লোক, যাঁরা কুলক্ষণ গ্রহণ করেন না, দাগ দিয়ে চিকিৎসা করান না, ঝাড়ফুঁক চান না, এবং তাঁদের রবের উপরই ভরসা করেন।"(৭)

আলিমগণ এ হাদীসের কয়েকটি জবাব দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম জবাব হলো: তাঁরা এমন এক সম্প্রদায়, যাঁরা আল্লাহর উপর আস্থা রেখেছেন এবং যথাযথভাবে তাঁর উপরই ভরসা করেছেন। তাঁদের ভরসার প্রবলতার কারণেই তাঁরা চিকিৎসকদের চিকিৎসা ও রাকীদের ঝাড়ফুঁকের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি — যদিও এসব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; কারণ সহীহ হাদীসসমূহে এবং শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ ও উত্তমরূপে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের আমলে তা করার বৈধতা প্রমাণিত।(৮)

রুকইয়াহ কী
রুকইয়াহর সংজ্ঞা ও বিধান
  • ভাষাগত অর্থআশ্রয়প্রার্থনার বাক্য
  • পারিভাষিক অর্থআশ্রয়-বাক্য, যা দিয়ে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করা হয়
  • বিধানচিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত; চিকিৎসা মূলত শরীয়তসম্মত
  • জিবরীলের রুকইয়াহনবী অসুস্থবোধ করলে জিবরীল আল্লাহর নামে ঝাড়ফুঁক করেন
  • সত্তর হাজারের হাদীসসর্বোত্তম জবাব: প্রবল ভরসা; উপায় গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়

দ্বিতীয় আলোচনা: রুকইয়াহ ও তার মাধ্যমসমূহ কি তাওকীফি না ইজতিহাদি?

আলিমদের মধ্যে মতভেদ ঘটেছে — রুকইয়াহ ও তার মাধ্যমসমূহ কি শারিআর পক্ষ থেকে তাওকীফি, নাকি মূলনীতি হলো এতে এবং এর পদ্ধতিসমূহে ইজতিহাদ ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করা, যতক্ষণ না তা নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকে গড়ায়?

মাসআলাটি কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বোধগম্য করে তুলি:

প্রথম উদাহরণ: কোনো রাকী যদি কুরআনের কিছু অংশ কিংবা পুরো কুরআন জাফরান বা অনুরূপ কিছু দিয়ে একটি কাগজে লিখে রোগীকে দেয়, যাতে সে তা পানিতে গুলে পান করে — এটি নবী ﷺ থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত নয়(৯); তাহলে এর বিধান কী?

দ্বিতীয় উদাহরণ: কল্পনানির্ভর পাঠ (القراءة التخييلية)। অর্থাৎ রাকী রোগীর উপর কুরআন পড়বে এবং তাকে বলবে: আমার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তোমার মনে যাদের কথা আসে, তাদের নাম উল্লেখ করো — এ সময় রাকী রোগীর হাতের কব্জির একটি রগ ধরে থাকে। তখন থেমে থেমে রোগীর পরিচিত কিছু ব্যক্তির নাম ও আকৃতি তার মনে ভেসে ওঠে। রাকী তখন বলে: এরাই তোমাকে বদনজর বা অন্য কিছু লাগিয়েছে। আমাদের এখানকার একাধিক রাকী এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং তাতে উপকৃত হয়েছেন। এটিও এ রূপে নবী ﷺ থেকে বর্ণিত হয়নি, সালাফ থেকেও নয় — তবে আমি বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করিনি।

তৃতীয় উদাহরণ: কাফির কর্তৃক মুসলিমকে রুকইয়াহ করা। ইমাম শাফিঈ ও একদল আলিম একে জায়েয বলেছেন(১০), আর মালিক একে মাকরূহ বলেছেন(১১)। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই ইয়াহূদী নারীকে বলেছিলেন, যিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে ঝাড়ফুঁক করতেন:

ارقيها بكتاب الله

"আল্লাহর কিতাব দিয়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করো।"(১২)

চতুর্থ উদাহরণ: এমন যিকির-আযকার দিয়ে রুকইয়াহ করা, যা কিতাব ও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়; এবং সুবিন্যস্ত ভাষায় রচিত এমন বাক্য, যা মুবাহ পর্যায়ের — যদি তাতে উপকার হয়, তবে কি তা শরীয়তসম্মত?

সুতরাং প্রথম তিনটি উদাহরণ মাধ্যম সম্পর্কিত, আর চতুর্থটি স্বয়ং রুকইয়াহ সম্পর্কিত; আর এগুলোর ব্যাপারে বক্তব্য একই হওয়া উচিত।

প্রশ্নটি কোথায় প্রযোজ্য
মাসআলা বোঝার চার উদাহরণ
  • প্রথমকুরআন জাফরান দিয়ে কাগজে লিখে পানিতে গুলে পান; নবী থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত নয়
  • দ্বিতীয়কল্পনানির্ভর পাঠ; এ রূপে নবী থেকে বর্ণিত নয়, সালাফ থেকেও নয়
  • তৃতীয়কাফিরের রুকইয়াহ: শাফিঈ ও একদল জায়েয, মালিক মাকরূহ
  • চতুর্থকিতাব-সুন্নাহর বাইরের যিকির ও মুবাহ রচিত বাক্য দিয়ে রুকইয়াহ
লেখকের কথা: প্রথম তিনটি মাধ্যম সম্পর্কিত, চতুর্থটি স্বয়ং রুকইয়াহ সম্পর্কিত

আমি যতটুকু ঘেঁটে দেখেছি, ইমামগণের মধ্যে কাউকে দেখিনি যিনি ঠিক এই মাসআলাটির উপর সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। এর কারণ সেটিই, যা আমি তোমাকে জানিয়েছি — সালাফের কিতাব ও সুন্নাহর সঙ্গে দৃঢ় সম্পৃক্ততা ছিল রোগব্যাধি ও নবউদ্ভূত ঘটনাবলির সামনে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর, আর বর্ণিত সীমা অতিক্রম না করার ব্যাপারে তাঁরা ছিলেন অতি সতর্ক। তা সত্ত্বেও নসসমূহ এর কিছুটার প্রতি ইঙ্গিত করেছে, এবং কোনো কোনো মুহাক্কিক এর দিকে ইশারা করেছেন। আমি যা পেয়েছি তা উল্লেখ করব — ইনশাআল্লাহ। আর মাসআলার দলিল-উৎস ও তার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করার আগে (একটি কথা বলে নিই):

জেনে রাখো, রুকইয়ার মধ্যে যদি হারাম কিংবা শিরক থাকে, তবে তা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে — সামগ্রিকভাবে — ইজমা প্রতিষ্ঠিত।

যাঁরা তাওকীফের কথা বলেন, তাঁদের পক্ষে যা দিয়ে দলিল দেওয়া হয় তা তিনটি বিষয়:

  1. নবী ﷺ থেকে যা বর্ণিত হয়নি, তার মূল বিধান হলো তা প্রত্যাখ্যান করা; আর রুকইয়ার অধ্যায়ে এর পদ্ধতিসমূহ সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে।
  2. এর মধ্যে এমন সব বিষয় থাকে, যেগুলো কী তা জানা যায় না; আর রুকইয়ার অধ্যায়ে অজানা জিনিস থেকে নিষেধ করা ইজমার স্থল।
  3. যা বর্ণিত হয়নি, সে ব্যাপারে দরজা খুলে দিলে তা আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না; আর তা হারাম ও শিরকী বিষয় ঢুকে পড়ার আশঙ্কাস্থল।
তাওকীফপন্থীদের তিন দলিল
তাওকীফের পক্ষে যা দিয়ে দলিল দেওয়া হয়
  • প্রথমনবী থেকে যা বর্ণিত নয়, তা মূলত প্রত্যাখ্যাত; রুকইয়ার পদ্ধতি সুন্নাহতে বর্ণিত
  • দ্বিতীয়অজানা বিষয় থেকে নিষেধ করা ইজমার স্থল
  • তৃতীয়বর্ণনার বাইরে দরজা খুললে নিয়ন্ত্রণ থাকে না; হারাম ও শিরক ঢোকার আশঙ্কা

আর যাঁরা ইজতিহাদের কথা বলেন, তাঁদের পক্ষে যা দিয়ে দলিল দেওয়া হয় তার কিছু:

১. মুসলিম জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকইয়াহ থেকে নিষেধ করেছিলেন। তখন আমর ইবনে হাযমের পরিবারের লোকেরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বলল:

يا رسول الله إنه كانت عندنا رقية نرقي بها من العقرب، وإنك نهيت عن الرقى، قال: فعرضوها عليه، فقال: ما أرى بأساً، من استطاع منكم أن ينفع أخاه فليفعل

"হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাছে একটি রুকইয়াহ ছিল, যা দিয়ে আমরা বিচ্ছুর দংশনে ঝাড়ফুঁক করতাম; আর আপনি তো রুকইয়াহ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি (জাবির) বলেন: অতঃপর তারা তা তাঁর সামনে পেশ করল। তখন তিনি বললেন: আমি এতে কোনো দোষ দেখছি না; তোমাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।"(১৩)

দলিলের দিকগুলো তিনটি দিক থেকে:

  • ক. তাঁর বাণী: "من استطاع.." ("যে সক্ষম হয়...") — এটি ব্যাপকতাবাচক শব্দরূপগুলোর একটি।
  • খ. তাঁর বাণী: "فعرضوها عليه" ("অতঃপর তারা তা তাঁর সামনে পেশ করল") — যদি তা প্রথম থেকেই শরীয়তপ্রণীত হতো, তবে তারা তা তাঁর সামনে পেশ করত না; কারণ তা তো তাঁর কাছে জানাই থাকত।
  • গ. তাঁর বাণী: "كانت عندنا" ("আমাদের কাছে ছিল") — অর্থাৎ জাহেলি যুগে; যেমনটি সুস্পষ্ট, গোপন নয়।

২. মুসলিম আরও বর্ণনা করেছেন আওফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি বলেন:

كنا نرقي في الجاهلية، فقلنا: يا رسول الله كيف ترى في ذلك؟ فقال: اعرضوا عليّ رقاكم، لا بأس بالرقى ما لم يكن فيه شرك

"আমরা জাহেলি যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এ ব্যাপারে কী মত পোষণ করেন? তিনি বললেন: তোমাদের রুকইয়াগুলো আমার সামনে পেশ করো; রুকইয়াতে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।"(১৪)

এ থেকেও দলিলের দিক তিনটি দিক থেকে:

  • ক. তাঁদের বক্তব্য: "كنا نرقي في الجاهلية" ("আমরা জাহেলি যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম") — আর এটি সুস্পষ্ট যে, তাঁদের সেই রুকইয়াহ শরীয়ত কর্তৃক বর্ণিত ছিল না।
  • খ. তাঁর বাণী: "اعرضوا عليّ رقاكم" ("তোমাদের রুকইয়াগুলো আমার সামনে পেশ করো") — এটিও সুস্পষ্ট যে, সেসব রুকইয়াহও শরীয়ত কর্তৃক বর্ণিত ছিল না।
  • গ. তাঁর বাণী: "لا بأس بالرقى ما لم يكن فيه شرك" ("রুকইয়াতে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে") — আর এ থেকে প্রকাশ পায় যে, এ অধ্যায়ে অনুমোদন নিরঙ্কুশ, যতক্ষণ রুকইয়ার মধ্যে শিরক না থাকে।

৩. আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে দংশিত ব্যক্তির ঘটনায় যা পূর্বে গত হয়েছে — নবী ﷺ তাকে বলেছিলেন:

"وما أدراك أنها رقية؟"

"আর তুমি কীভাবে জানলে যে ওটি রুকইয়াহ?"

এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তা ছিল রাকীর পক্ষ থেকে ইজতিহাদ। তদুপরি, তা যদি তাওকীফি হতো, তবে তাঁদেরকে পারিশ্রমিক হিসেবে যা দেওয়া হয়েছিল তা গ্রহণের ব্যাপারে তাঁরা থেমে থাকতেন না — এমনকি নবী ﷺ-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন না; বরং তাঁরা তাঁকে এ ব্যাপারে আদৌ জিজ্ঞাসাই করতেন না।

৪. আবু দাউদ ও আহমদ শিফা বিনতে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী ﷺ আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমি হাফসার কাছে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন:

"ألا تعلّمين هذه رقية النملة كما علمتيها الكتابة"

"তুমি কি একে নামলার রুকইয়াহ শিখিয়ে দেবে না, যেমন তুমি তাকে লেখা শিখিয়েছ?"(১৫)

৫. মুসলিম জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"أرخص النبي _صلى الله عليه وسلم_ في رقية الحية لبني عمرو"

"নবী ﷺ বনূ আমরের জন্য সাপের রুকইয়ার অনুমতি দিয়েছেন।"(১৬)

এই দুই বর্ণনায় এ দলিল রয়েছে যে, ঐ দুটি রুকইয়াহ শরীয়তের নির্দেশক্রমে ছিল না, বরং তা ছিল ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত। আর যেহেতু তা শিরকী ছিল না এবং কোনো নিষিদ্ধ বিষয় ধারণও করত না, তাই তাঁদের জন্য তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর রুকইয়ার মাধ্যমসমূহ যে তাওকীফি নয়, তার উপর দলিল গ্রহণের জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।

আর এ অধ্যায়ে এ ছাড়াও (আরও বর্ণনা) রয়েছে।(১৭)

ইজতিহাদের পক্ষে হাদীসের দলিল
হাদীসদলিল গ্রহণের দিক (ইজতিহাদপন্থীদের)
জাবির: আমর ইবনে হাযমের পরিবারের বিচ্ছু-রুকইয়াহব্যাপকতাবাচক ‘যে সক্ষম’; পেশ করা প্রমাণ করে শরীয়তপ্রণীত ছিল না; জাহেলি যুগের
আওফ: জাহেলি যুগের রুকইয়াহসেসব শরীয়ত কর্তৃক বর্ণিত ছিল না; শিরক না থাকলে অনুমোদন নিরঙ্কুশ
আবূ সাঈদ: দংশিত ব্যক্তির ঘটনানবীর প্রশ্ন ইজতিহাদের ইঙ্গিত; তাওকীফি হলে পারিশ্রমিকে থেমে থাকতেন না
শিফা বিনতে আবদুল্লাহ: নামলার রুকইয়াহশরীয়তের নির্দেশক্রমে ছিল না, ইজতিহাদ
জাবির: বনূ আমরের জন্য সাপের রুকইয়াহশিরকী নয় ও নিষিদ্ধ কিছু ধারণ করেনি, তাই অনুমতি
এই পাঁচ বর্ণনা তাওকীফি না হওয়ার দলিল হিসেবে লেখক যথেষ্ট মনে করেছেন

আপত্তিসমূহ ও তার আলোচনা

এতে অবতরণ করার আগে কয়েকটি স্বীকৃত ভূমিকা উল্লেখ করা অপরিহার্য, যেগুলো সঠিক মতের প্রতি ইঙ্গিত করে — ইনশাআল্লাহু তাআলা:

প্রথমত: কোনো মাসআলায় যদি দুটি মত থাকে — একটি সাব্যস্তকারী (মুসবিত) আর অন্যটি অস্বীকারকারী (নাফী) — তবে সাব্যস্তকারীই অস্বীকারকারীর উপর অগ্রগণ্য; কারণ সাব্যস্তকারীর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: নিষেধ ও অনুমোদন যখন পরস্পর মিশে গিয়ে সন্দেহ তৈরি করে, তখন নিষেধের দিকটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় — দ্বীনের হেফাজতের জন্য।

তৃতীয়ত: যদি একটি মতের পক্ষে শরীয়তের সাধারণ মূলনীতিসমূহ দিয়ে দলিল দেওয়া হয় এবং অন্যটির পক্ষে বিশেষ নসসমূহ দিয়ে, তবে (জেনে রাখো) আম (সাধারণ) খাস-এর (বিশেষের) বিরোধী নয়; বরং প্রত্যেকটির নিজস্ব দিক রয়েছে।

চতুর্থত: মূল বিধান হলো, উপকারী বিষয়গুলো মুবাহ; আর যার উপকার বড় এবং ক্ষতি কম, মুকাল্লাফদের জন্য তার দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; আর এর বিপরীতটিও তদ্রূপ।

পঞ্চমত: রুকইয়াহ ওষুধের প্রকারগুলোরই একটি প্রকার; আর ওষুধ ও চিকিৎসার অধ্যায় মূলত ইজতিহাদ ও অভিজ্ঞতানির্ভর।

তুমি যদি পূর্বে উল্লিখিত নসসমূহের সঙ্গে এগুলো নিয়ে চিন্তা করো, তবে তোমার কাছে স্পষ্ট হবে যে — রুকইয়াহ ও তার মাধ্যমসমূহ ইজতিহাদি, এ কথাই অধিক স্পষ্ট। তবে এর জন্য নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি নির্ধারণ করা এমন একটি বিষয় যা অপরিহার্য; এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে। আর নিষেধের পক্ষে যা দিয়ে দলিল দেওয়া হয়েছে, তার জবাব আসবে আপত্তিসমূহের আলোচনায়।

পাঁচটি স্বীকৃত ভূমিকা
  • সাব্যস্তকারী মত অস্বীকারকারীর উপর অগ্রগণ্য, কারণ অতিরিক্ত জ্ঞান আছে
  • নিষেধ ও অনুমোদন সংশয়ে মিশলে নিষেধের দিক প্রাধান্য পায়, দ্বীনের হেফাজতে
  • সাধারণ মূলনীতি ও বিশেষ নস: ‘আম খাসের বিরোধী নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব দিক আছে
  • উপকারী বিষয় মূলত মুবাহ; উপকার বড় ও ক্ষতি কম হলে দরজা উন্মুক্ত; বিপরীতটিও তদ্রূপ
  • রুকইয়াহ ওষুধের প্রকার; ওষুধ-চিকিৎসা মূলত ইজতিহাদ ও অভিজ্ঞতানির্ভর
লেখকের সিদ্ধান্ত: এগুলো ভেবে দেখলে ইজতিহাদি, এ কথাই অধিক স্পষ্ট; তবে নিয়ন্ত্রক শর্ত নির্ধারণ অপরিহার্য

আর আপত্তিসমূহ ও তার আলোচনা প্রসঙ্গে:

প্রথম আপত্তি: হাফিয ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: একদল লোক এই ব্যাপকতাকে আঁকড়ে ধরেছেন — অর্থাৎ জাবিরের প্রথম হাদীসটিকে — ফলে তাঁরা এমন প্রত্যেক রুকইয়াহ জায়েজ বলেছেন যার উপকার অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, যদিও তার অর্থ বোধগম্য না হয়। কিন্তু আওফের হাদীস — অর্থাৎ যেটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি — এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, রুকইয়ার মধ্যে যা-ই শিরকের দিকে নিয়ে যায় তা নিষিদ্ধ; আর যার অর্থ বোধগম্য নয়, তা শিরকের দিকে নিয়ে যাবে না — এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকা যায় না, তাই সতর্কতাস্বরূপ তা নিষিদ্ধ। (উদ্ধৃতি শেষ)(১৮)

সুতরাং এই আপত্তিটি সঠিক; কেননা যার অর্থ বোধগম্য নয়, তা থেকেই সবচেয়ে বেশি ত্রুটি ঢুকে পড়ে। তাই তা নিষিদ্ধ করা সাদ্দুয যারাঈ (অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা)-র অন্তর্ভুক্ত। আর হাফিযের কথার মধ্যে আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি তার প্রাধান্যের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে — সুতরাং চিন্তা করো।

দ্বিতীয় আপত্তি:

যদি বলা হয়: "لا بأس بالرقى ما لم يكن فيه شرك" ("রুকইয়াতে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে") — এ হাদীসটি নিরঙ্কুশ অনুমোদনের প্রমাণ বহন করে না। বরং তাঁর বাণী "لا بأس بالرقى"-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সুন্নাহতে যা শরীয়তসিদ্ধ করা হয়েছে, তা থেকে। ফলে এটি সেই আম (ব্যাপক), যা দিয়ে খাস (বিশেষ) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; এখানে ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয়, সমস্ত রুকইয়াহকে অন্তর্ভুক্ত করাও উদ্দেশ্য নয়। এর প্রমাণ এই যে, তিনি শিরককে ব্যতিক্রম করেছেন, কিন্তু হারাম বিষয়গুলোকে ব্যতিক্রম করেননি — অথচ সেগুলো নির্বিবাদেই ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং এর জবাব তিনটি দিক থেকে:

প্রথম: ব্যাপকতা অস্বীকার করা মেনে নেওয়ার মতো নয়; কেননা "ال"-এর মূল বিধান হলো, তা জাতিবাচক হবে — যা সর্বব্যাপকতা (ইস্তিগরাক) বোঝায়।

দ্বিতীয়: যে ব্যাপকতার বিপরীত দাবি করে, দলিল পেশ করার দায়িত্ব তারই। আর যা দলিল দিয়ে সাব্যস্ত হয়েছে, দলিল ছাড়া তা রহিত হয় না।

তৃতীয়: নবী ﷺ-এর বাণীতে জবাবটি এসেছে রুকইয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ প্রসঙ্গে — এবং তাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা (তাজরিবা) জায়েজ কি না, সে প্রসঙ্গে। তাই জবাবটি হয়েছে সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; বরং বিধানকে কোনো নির্দিষ্ট রুকইয়ার সঙ্গে বেঁধে দেওয়ার চেয়েও ব্যাপকতর। আর তিনি শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, কারণ তার সঙ্গে তাদের যুগের নৈকট্য ছিল — যেমনটি হাদীসের শুরুতেই সুস্পষ্ট। আর তিনি হারাম বিষয়গুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি; কারণ তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে হারাম কিছু ছিল না। আর যা বলা হয়েছে তা যদি আমরা মেনেও নিই, তবু কথা দুটি বিষয়ের একটির উপর গিয়েই দাঁড়াবে:

হয় এই নীরবতাপ্রাপ্ত বিষয়টি — অর্থাৎ রুকইয়াহ ইজতিহাদি হওয়া — শরীয়তে জায়েজ; আর এটিই আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

নয়তো এই নীরবতাপ্রাপ্ত বিষয়টি নিষিদ্ধ — তাহলে তার দলিল কোথায়? আর তুমি তো ভালোভাবেই জানো যে, প্রয়োজনের সময় থেকে বর্ণনাকে বিলম্বিত করা জায়েজ নয়।

বরং বলা হবে: তিনি কেন শিরককে ব্যতিক্রম করলেন এবং হারাম বিষয়গুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া ছেড়ে দিলেন, আর এমন কোনো শব্দরূপ আনলেন না যা উভয় বিষয়কে একত্র করে — যেমনটি হারাম বিষয়সমূহের ব্যাপকতার প্রতি সতর্ক করার ক্ষেত্রে শরীয়তের রীতি ও ধারা?

(এমনটি হয়নি) কেবল এ কারণে, যাতে তা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে — রুকইয়ার অধ্যায় হলো ওষুধ ও চিকিৎসার অধ্যায়, আর তা একটি উন্মুক্ত দরজা; তবে যদি তাতে নাপাকির মতো কোনো হারাম বিষয় ঢুকে পড়ে (তবে ভিন্ন কথা) — আর তা জানা যাবে কোনো স্বতন্ত্র বিশেষ নস থেকে। কিন্তু যেহেতু এর প্রভাব দৈহিক চিকিৎসার প্রভাবের চেয়ে বৃহত্তর, এবং এটি রব্বানী কালাম ও মানুষের কালামের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই এতে নানা রঙের শিরক প্রবেশ করা যে হারাম — সে ব্যাপারে সতর্ক করাই শোভন হয়েছে; মুকাল্লাফের অন্তর ও তার দ্বীন হেফাজতের জন্য, এবং চিকিৎসক ও চিকিৎসাগ্রহীতা উভয়েরই হেফাজতের জন্য।

প্রথম ও দ্বিতীয় আপত্তি
আপত্তিলেখকের জবাব
প্রথম (ইবনে হাজার): একদল অভিজ্ঞতায় উপকারী প্রত্যেক রুকইয়াহ জায়েজ বলেছেন, অর্থ বোধগম্য না হলেও; আওফের হাদীস: শিরকের দিকে নিয়ে যায় এমন নিষিদ্ধ, অবোধগম্য হলে নিরাপত্তা নেইলেখক: আপত্তিটি সঠিক; অবোধগম্য থেকেই ত্রুটি ঢোকে; নিষেধ সাদ্দুয যারাঈর অন্তর্ভুক্ত
দ্বিতীয়: ‘শিরক না থাকলে রুকইয়াতে দোষ নেই’ নিরঙ্কুশ অনুমোদন নয়; ‘আম দ্বারা খাস উদ্দেশ্য; শিরককে ব্যতিক্রম করেছেন, হারামকে করেননি, অথচ তা নির্বিবাদে ব্যতিক্রমভুক্তলেখক: প্রথম: জাতিবাচক ‘আল’ ব্যাপকতা বোঝায়; দ্বিতীয়: বিপরীত দাবিকারীর দলিল দেওয়ার দায়; তৃতীয়: জবাব প্রসঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শিরকের সতর্কতা তাদের যুগের নৈকট্যে; তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে হারাম কিছু ছিল না
এক নজরে
  • রুকইয়াহ আশ্রয়-বাক্য; এটি চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত এবং মূলত শরীয়তসম্মত
  • প্রশ্ন: রুকইয়াহ ও তার মাধ্যমসমূহ তাওকীফি, নাকি ইজতিহাদি
  • হারাম বা শিরক থাকলে নিষেধের ব্যাপারে সামগ্রিকভাবে ইজমা প্রতিষ্ঠিত
  • তাওকীফপন্থীদের তিন দলিল; ইজতিহাদপন্থীদের জাবির, আওফ, আবূ সাঈদ ও শিফার হাদীস
  • লেখকের মতে ইজতিহাদি, এ কথাই অধিক স্পষ্ট; নিয়ন্ত্রক শর্ত অপরিহার্য
  • অবোধগম্য অর্থের রুকইয়াহ সাদ্দুয যারাঈ অনুযায়ী নিষিদ্ধ, লেখক প্রথম আপত্তিকে সঠিক বলেছেন
যাচাই করুন
  1. পারিভাষিক অর্থে রুকইয়াহ কী?
  2. সত্তর হাজারের হাদীসের সর্বোত্তম জবাব হিসেবে কী বলা হয়েছে?
  3. কাফির কর্তৃক মুসলিমকে রুকইয়াহ সম্পর্কে মালিক কী বলেছেন?
  4. রুকইয়াহতে হারাম বা শিরক থাকলে কী বলা হয়েছে?
  5. লেখকের পাঁচ ভূমিকার প্রথমটি কী?
  6. প্রথম আপত্তি সম্পর্কে লেখক কী বলেন?
উত্তরমালা দেখুনউত্তর: ১–খ, ২–খ, ৩–খ, ৪–খ, ৫–খ, ৬–খ

আর হাফিয আবু হাতিম ইবনে হিব্বান রহিমাহুল্লাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন:

"ذكرُ الخبر المصرِّح بإباحة الرقية للعليل بغير كتاب الله ما لم يكن شركاً"

"সেই বর্ণনার উল্লেখ, যা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে — আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে রোগীকে রুকইয়াহ করা বৈধ, যতক্ষণ তা শিরক না হয়।"

অতঃপর তিনি জাবিরের প্রথম বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, তারপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন এক নারী তাঁর চিকিৎসা করছিল অথবা তাঁকে ঝাড়ফুঁক করছিল। তখন তিনি বললেন:

"عالجيها بكتاب الله"

"তুমি তাকে আল্লাহর কিতাব দিয়ে চিকিৎসা করো।"(১৯)

অধ্যায় ১ সমাপ্ত
ZZCH2ZZ
পর্ব ১ · অধ্যায় ২

আপত্তিসমূহের জবাব, নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি ও উপসংহার

এরপর তিনি (ইবনে হিব্বান রহিমাহুল্লাহ) বললেন: নবী ﷺ-এর বাণী —

"عالجيها بكتاب الله"

"তুমি তাকে আল্লাহর কিতাব দিয়ে চিকিৎসা করো"

— এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: আল্লাহর কিতাব যা বৈধ করে, তা দিয়ে তুমি তার চিকিৎসা করো। কারণ লোকেরা জাহিলিয়াতের যুগে এমন সব জিনিস দিয়ে রুকইয়াহ করত যাতে শিরক ছিল। তাই তিনি এই কথাটির দ্বারা তাদের ধমক দিলেন — আল্লাহর কিতাব যা বৈধ করে তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে রুকইয়াহ করা থেকে, শিরক হয়ে যায় এমন জিনিস বাদ দিয়ে। (উদ্ধৃতি শেষ)(২০)

হাফিয আবু বকর আল-বাইহাকী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "রুকইয়াহতে যতক্ষণ শিরক না থাকে ততক্ষণ তার অনুমতির অধ্যায়" — এরপর তিনি পূর্বে উল্লিখিত আওফ ইবনে মালিকের হাদীস ও অন্যান্য হাদীস উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: আওফের হাদীসটি রুকইয়াহর ব্যাপারে ব্যাপক (আম), যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে। অনুরূপ অর্থে আবু সুফইয়ান থেকে জাবির সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, এবং তিনি বলেছেন:

"من استطاع منكم أن ينفع أخاه فليفعل"

"তোমাদের মধ্যে যে তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম, সে যেন তা করে"

আর এতে এই দলিল রয়েছে যে, রুকইয়াহ সম্পর্কে কিংবা সেই অর্থের কোনো বিষয়ে যত নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা কেবল শিরকপন্থীদের সেসব রুকইয়াহ সম্পর্কে যেগুলোর অর্থ জানা যায় না; কারণ তা শিরক হয়ে যেতে পারে। (উদ্ধৃতি শেষ)(২১)

ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: জাবিরের হাদীসে এমন দলিল রয়েছে যা প্রমাণ করে, যে রুকইয়াহতে উপকার আছে তা-ই মুবাহ (বৈধ) — নবী ﷺ-এর এই বাণীর কারণে:

"من استطاع أن ينفع أخاه فليفعل"

"যে তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম, সে যেন তা করে"

তিনি আরও বলেছেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে সব রকম রুকইয়াহর বৈধতার ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে। এরপর তিনি পূর্বে উল্লিখিত আওফের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: এটি প্রমাণ করে যে, যে রুকইয়াহতে শিরক নেই তা মাকরূহ নয়। (উদ্ধৃতি শেষ)(২২)

ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ও তাহাবী
জায়েযের পক্ষে উদ্ধৃত তিন ইমাম
  • ইবনে হিব্বানআল্লাহর কিতাব যা বৈধ করে তা দিয়ে চিকিৎসা; জাহিলিয়াতের শিরকযুক্ত রুকইয়াহ থেকে ধমক
  • আল-বাইহাকীআওফের হাদীস ব্যাপক, যতক্ষণ শিরক না থাকে; নিষেধ কেবল শিরকপন্থীদের অজ্ঞাত-অর্থ রুকইয়াহ সম্পর্কে
  • আত-তাহাবীউপকারী রুকইয়াহ মুবাহ; শিরকহীন রুকইয়াহ মাকরূহ নয়

তৃতীয় আপত্তি

যদি বলা হয়: রুকইয়াহ ও তার মাধ্যম যদি ইজতিহাদি হয়, তবে তো দরজা খুলে যাবে এবং তা আর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। জাহিলিয়াতের যুগে এটাই ঘটেছিল — এমনকি তারা তাতে শিরক পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আর যা নিয়ন্ত্রণে আসে না, তা নিষেধেরই ক্ষেত্র।

জবাব: এই দুই বিষয়ের মধ্যে অপরিহার্য সম্পর্ক নেই। কেননা শরীয়তের এই যে বড় বড় অধ্যায়গুলো রয়েছে, সেগুলো ইজতিহাদি — তবু সেগুলো নিয়ন্ত্রিত। আর রুকইয়াহতে যদি এমন কিছু ঘটে যা নিয়ন্ত্রণে আসে না এবং তার দ্বারা সন্দেহ ও দ্বিধা তৈরি হয়, তবে তা সকলের কাছেই নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ।

চতুর্থ আপত্তি

রুকইয়াহর অধ্যায়ে শরীয়ত থেকে যা এসেছে, তা-ই এর বাইরের জিনিস ঢোকানোর প্রয়োজন মিটিয়ে দিয়েছে।

জবাব: যে শরীয়ত রুকইয়াহ নিয়ে এসেছে, সেই শরীয়তই এ ব্যাপারে দরজা খুলে দিয়েছে এবং তা অবাধ রেখেছে — যেমনটি নসসমূহের আলোচনায় আগে গত হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ আপত্তি
আপত্তিলেখকের জবাব
তৃতীয়: ইজতিহাদি হলে দরজা খুলবে ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না; জাহিলিয়াতে শিরকও ঢুকেছিলঅপরিহার্য সম্পর্ক নেই; শরীয়তের বড় অধ্যায় ইজতিহাদি, তবু নিয়ন্ত্রিত; নিয়ন্ত্রণে না এলে ও সন্দেহ-দ্বিধা তৈরি হলে সকলের কাছে নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ
চতুর্থ: শরীয়তে যা এসেছে তা-ই যথেষ্টযে শরীয়ত রুকইয়াহ এনেছে, সে-ই এ ব্যাপারে দরজা খুলে অবাধ রেখেছে

নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি

এটি স্পষ্ট হওয়ার পর জেনে রাখো — যদিও এই অধ্যায়ের মূল বিধান ইজতিহাদ, তবু কতিপয় নিয়ন্ত্রক শর্ত (দাওয়াবিত) নির্ধারণ করা অপরিহার্য, যেগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে অপছন্দনীয় জিনিস ঢোকানো প্রতিরোধ করবে। সেগুলো হলো:

  1. এই বিশ্বাস রাখা যে, রুকইয়াহ নিজ সত্তায় প্রভাব ফেলে না, বরং আল্লাহ তাআলার নির্ধারণেই প্রভাব ফেলে।
  2. তাতে এমন কিছু না থাকা, যার অর্থ জানা যায় না।
  3. রাকী যেন নিজের উপর হারামের দরজা খুলে না দেয় — মানুষের প্রতি মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করা, কিংবা হারাম ও নাপাক বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা।
  4. আল্লাহর যিকিরের উপর যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা (তাজরিবা) চালানো না হয়; কারণ যে ব্যক্তি তাতে শিফা আছে বলে বিশ্বাস করে না, সে তা দ্বারা উপকৃত হয় না।(২৩)
  5. তাতে যেন জিনদের কাজে লাগানো না হয়; কারণ এটি এমন এক অজানা দরজা, যা নিয়ন্ত্রণে আসে না। তাই রুকইয়াহতে মাধ্যম হিসেবে তাদের ব্যবহার নিষিদ্ধ — পথ বন্ধ করার (সাদ্দুয্‌ যারীআহ) খাতিরে। হ্যাঁ, প্রয়োজন ও নিরুপায় অবস্থায় এমন কিছু বিষয়ে তাদের ব্যবহার বৈধ হতে পারে, যেগুলো নিষ্ঠাবান আলিমগণ নির্ধারণ করবেন; কারণ "যা পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে হারাম করা হয়েছে, তা প্রবল কল্যাণের জন্য বৈধ হয়ে যায়"।(২৪)
  6. তাতে যেন কুফরের অনুসারী ও যাদুকরদের সঙ্গে এমন বিষয়ে সাদৃশ্য গ্রহণ করা না হয় যা কোনো উপকার করে না — অর্থাৎ নানা কল্পনা, কুসংস্কার ও অনুপকারী কর্মকাণ্ড; কারণ যে কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।(২৫)
ছয় নিয়ন্ত্রক শর্ত (দাওয়াবিত)
  • বিশ্বাস: রুকইয়াহ নিজ সত্তায় প্রভাব ফেলে না, আল্লাহর নির্ধারণেই ফেলে
  • যার অর্থ জানা যায় না, তা থাকবে না
  • রাকী হারামের দরজা খুলবে না: মিথ্যা অভিযোগ, হারাম ও নাপাক বস্তু
  • আল্লাহর যিকিরের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়; যে শিফা আছে বলে বিশ্বাস করে না, সে উপকৃত হয় না
  • জিনদের কাজে লাগানো নয়, মাধ্যম হিসেবে নিষিদ্ধ (সাদ্দুয যারীআহ); প্রয়োজন ও নিরুপায় অবস্থায় নিষ্ঠাবান আলিমগণের নির্ধারিত কিছু বিষয়ে বৈধ হতে পারে
  • কুফরের অনুসারী ও যাদুকরদের সাদৃশ্য নয়: কল্পনা, কুসংস্কার, অনুপকারী কর্মকাণ্ড
মূল বিধান ইজতিহাদ হলেও এগুলো নির্ধারণ অপরিহার্য, লেখকের মতে

যঈফ হাদীস অনুযায়ী আমল

এখানে একটি মাসআলা বাকি রয়ে গেল, তা হলো: যঈফ হাদীসসমূহে যা এসেছে, রুকইয়াহতে সে অনুযায়ী আমল করা কি বিধিসম্মত? স্পষ্ট মনে হয় — তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সালাফ ও ইমামগণের বহু দল এর উপর আমল করেছেন(২৬); কারণ তা ইজতিহাদ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধ্যায়ভুক্ত। তবে একে নিম্নোক্ত শর্তগুলো দিয়ে সীমাবদ্ধ করা উত্তম:

  1. এই বিশ্বাস না রাখা যে, রাসূল ﷺ তা বলেছেন।
  2. তাতে যেন কোনো শরঈ মূলনীতি বা নসের বিরোধিতা না থাকে।
  3. প্রাচীন বা আধুনিক অভিজ্ঞতায় তার উপকারিতা প্রকাশ পাওয়া; নতুবা তা নিয়ে ব্যস্ত থাকা মানে উত্তম ও উপকারী জিনিস থেকে বিমুখ থাকা — বিশেষত সেসব থেকে যা (নসে) বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী ও সর্বাধিক প্রজ্ঞাময়।
রুকইয়াহতে যঈফ হাদীসে আমলের শর্ত
  • এই বিশ্বাস না রাখা যে, রাসূল তা বলেছেন
  • কোনো শরঈ মূলনীতি বা নসের বিরোধিতা না থাকা
  • প্রাচীন বা আধুনিক অভিজ্ঞতায় তার উপকারিতা প্রকাশ পাওয়া
লেখকের কথা: রুকইয়াহতে যঈফ হাদীস অনুযায়ী আমলে স্পষ্ট মনে হয় কোনো অসুবিধা নেই; সালাফ ও ইমামগণের বহু দল আমল করেছেন; এ শর্তে সীমাবদ্ধ করা উত্তম
এক নজরে
  • বাইহাকী: শিরক না থাকলে রুকইয়াহর অনুমতি; তাহাবী: শিরকহীন রুকইয়াহ মাকরূহ নয়
  • তৃতীয় আপত্তির জবাব: ইজতিহাদি অধ্যায়ও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে
  • চতুর্থ আপত্তির জবাব: শরীয়ত নিজেই এ বিষয়ে দরজা অবাধ রেখেছে
  • ছয় নিয়ন্ত্রক শর্ত: আল্লাহর নির্ধারণে প্রভাব, বোধগম্য অর্থ, হারাম এড়ানো, যিকিরে পরীক্ষা নয়, জিন নয় (নিরুপায় অবস্থা ছাড়া), সাদৃশ্য নয়
  • রুকইয়াহতে যঈফ হাদীস অনুযায়ী আমলে লেখকের মতে অসুবিধা নেই; তিন শর্তে সীমাবদ্ধ করা উত্তম
যাচাই করুন
  1. ইবনে হিব্বানের ব্যাখ্যায় ‘আল্লাহর কিতাব দিয়ে চিকিৎসা করো’ বলার কারণ কী?
  2. আত-তাহাবীর মতে কোন রুকইয়াহ মাকরূহ নয়?
  3. তৃতীয় আপত্তির জবাবে লেখক কী বলেন?
  4. নিয়ন্ত্রক শর্তে জিনদের কাজে লাগানো সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
  5. রুকইয়াহতে যঈফ হাদীস অনুযায়ী আমলের একটি শর্ত কী?
  6. আল্লাহর যিকিরের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
উত্তরমালা দেখুনউত্তর: ১–খ, ২–ক, ৩–খ, ৪–খ, ৫–খ, ৬–খ
والحمد لله أولاً وآخراً وظاهراً وباطناً، وصلى الله على عبده ورسوله نبينا محمد وآله وصحبه ومن تبعهم بإحسان.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর — প্রথমে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদের উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা উত্তমরূপে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের সকলের উপর।


গ্রন্থপঞ্জি (المراجع)

  1. (الآداب) আল-আদাব — আল-বাইহাকী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ।
  2. (الإحسان في ترتيب صحيح ابن حبان) আল-ইহসান ফী তারতীবি সহীহি ইবনি হিব্বান — ইবনে বালাবান, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ।
  3. (إعلام الموقعين عند رب العالمين) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন — ইবনুল কাইয়িম, দারুল জীল।
  4. (تحفة الأحوذي بشرح الترمذي) তুহফাতুল আহওয়াযী বিশারহিত তিরমিযী — আল-কান্‌দাহাবী, মুআসসাসাতু কুরতুবা, কায়রো, ২য় সংস্করণ।
  5. (تقريب التهذيب) তাকরীবুত তাহযীব — ইবনে হাজার, দারুর রাশীদ, হালব, ১ম সংস্করণ।
  6. (تهذيب التهذيب) তাহযীবুত তাহযীব — ইবনে হাজার, আল-মাতবাআতুন নিযামিয়্যাহ, ভারত।
  7. (تهذيب السنن) তাহযীবুস সুনান — ইবনুল কাইয়িম, দারুল মারিফাহ।
  8. (الجامع من المقدمات) আল-জামি মিনাল মুকাদ্দিমাত — ইবনে রুশদ, দারুল ফুরকান, জর্ডান, ১ম সংস্করণ।
  9. (الدراري المضية بشرح الدرر البهية) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ বিশারহিদ দুরারিল বাহিয়্যাহ — আশ-শাওকানী, মাতবাআতু মিসরাল হুররাহ, ১ম সংস্করণ।
  10. (زاد المعاد في هدي خير العباد) যাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খাইরিল ইবাদ — ইবনুল কাইয়িম, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ।
  11. (سلسلة الأحاديث الصحيحة) সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ — আল-আলবানী, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ।
  12. (السنن) আস-সুনান — আবু দাউদ, দারুস সালাম, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ।
  13. (السنن الكبرى) আস-সুনানুল কুবরা — আন-নাসাঈ, দারুল ফিকর।
  14. (شرح صحيح مسلم) শারহু সহীহি মুসলিম — আন-নববী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ।
  15. (شرح معاني الآثار) শারহু মাআনিল আসার — আত-তাহাবী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।
  16. (صحيح البخاري) সহীহুল বুখারী — আল-বুখারী, দারুস সালাম, রিয়াদ।
  17. (صحيح مسلم) সহীহু মুসলিম — মুসলিম, দারুস সালাম, রিয়াদ।
  18. (طرح التثريب) তারহুত তাসরীব — ইবনুল ইরাকী, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবী।
  19. (عمدة القاري بشرح صحيح البخاري) উমদাতুল কারী বিশারহি সহীহিল বুখারী — আল-আইনী, দারুল ফিকর।
  20. (عمل يوم وليلة) আমালু ইয়াওমিন ওয়া লাইলাহ — ইবনুস সুন্নী, দারুল মারিফাহ।
  21. (فتح الباري بشرح صحيح البخاري) ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী — ইবনে হাজার, আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ, কায়রো।
  22. (فتح المجيد بشرح كتاب التوحيد) ফাতহুল মাজীদ বিশারহি কিতাবিত তাওহীদ — আবদুর রহমান ইবনে হাসান, দারুস সুমাইঈ, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ।
  23. (الفتوحات الربانية بشرح الأذكار النووية) আল-ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ বিশারহিল আযকারিন নববিয়্যাহ — ইবনে আল্লান, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবী।
  24. (لسان العرب) লিসানুল আরব — ইবনে মানযূর, দারুল মাআরিফ, কায়রো।
  25. (مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية) মাজমূউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ — সংকলন: আবদুর রহমান ইবনে কাসিম, দারুল মাআরিফ, মরক্কো।
  26. (المستدرك على الصحيحين) আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন — আল-হাকিম, দারুল কিতাবিল আরাবী।
  27. (مسند الإمام أحمد) মুসনাদুল ইমাম আহমদ — ইমাম আহমদ, আল-মাতবাআতুল ইয়ামানিয়্যাহ।
  28. (المصنف) আল-মুসান্নাফ — ইবনে আবী শাইবা, আল-মাতবাআতুন নিযামিয়্যাহ, ভারত।
  29. (المعجم الكبير) আল-মুজামুল কাবীর — আত-তাবারানী, আল-ইমদাদ, বাগদাদ।
  30. (معرفة السنن والآثار) মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার — আল-বাইহাকী, দারুল ওয়াঈ, হালব, ১ম সংস্করণ।
  31. (المنتقى شرح الموطأ) আল-মুনতাকা শারহুল মুওয়াত্তা — আল-বাজী, দারুল কিতাবিল আরাবী, ৩য় সংস্করণ।
  32. (الموطأ) আল-মুওয়াত্তা — ইমাম মালিক, ঈসা আল-বাবী, কায়রো।
  33. (ميزان الاعتدال في نقد الرجال) মীযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল — আয-যাহাবী, দারুল ফিকর।
  34. (النهاية في غريب الحديث) আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস — ইবনুল আসীর, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ।
  35. (نيل الأوطار بشرح منتقى الأخبار) নাইলুল আওতার বিশারহি মুনতাকাল আখবার — আশ-শাওকানী, আল-বাবী আল-হালাবী।

টীকা

  1. লিসানুল আরব ৩/১৭১১।
  2. আন-নিহায়া ২/২৫৪।
  3. দ্রষ্টব্য: আল-জামি মিনাল মুকাদ্দিমাত, পৃ. ৩১৩।
  4. সহীহ মুসলিম (২১৮৬)।
  5. সহীহ বুখারী (৫৬৭৮)।
  6. সহীহ মুসলিম (২২০৪)।
  7. সহীহ বুখারী (৫৭৫২) ও মুসলিম (২২০)।
  8. দ্রষ্টব্য: (ফাতহুল বারী ১০/২১২)। আর একটি উত্তম গবেষণা দেখো (ইবনুল কাইয়িমের আত-তাহযীব ৫/৩৬৬) ও (তারহুত তাসরীব ৮/১৯৩)-এ।
  9. আর ইবনুস সুন্নী তাঁর আমালু ইয়াওমিন ওয়া লাইলাহ (পৃ. ২৩১)-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ সূত্রে পাত্রের উপর লেখার ব্যাপারে যা বর্ণনা করেছেন, তার সনদ দুর্বল; কারণ তাতে রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবী লাইলা — আর তিনি অত্যন্ত দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী, যেমনটি (আত-তাকরীব, পৃ. ৪৯৩)-এ রয়েছে। আর তা এখানেই প্রকাশ পেয়েছে; কেননা ইবনে আবী শাইবা (৭/৩৮৫) তাঁরই সূত্রে হাদীসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং মতনের ক্ষেত্রেও তিনি বিরোধিতা করেছেন।
  10. মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ১৪/১২৩।
  11. আল-মুনতাকা ৭/২৬১।
  12. এর তাখরীজ গবেষণার শেষে আসবে।
  13. সহীহ মুসলিম (৫৭৩১)।
  14. সহীহ মুসলিম (৫৭৩২)।
  15. বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩৮৮৭), নাসাঈ (আস-সুনানুল কুবরা ৪/৩৬৬), ইবনে আবী শাইবা (৭/৩৯৫) ও আহমদ (৬/৩৭২) — আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবী হাসমা সূত্রে শিফা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে; শব্দগুলো আবু দাউদের। এ সনদটি সহীহ। ইবনুল কাইয়িম বলেছেন: "النملة হলো দুই পাঁজরে বের হওয়া ক্ষত; এটি একটি পরিচিত রোগ। একে নামলা (পিঁপড়া) নাম দেওয়া হয়েছে, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি সেই জায়গায় এমন অনুভব করে যেন একটি পিঁপড়া তার উপর হেঁটে বেড়াচ্ছে ও তাকে কামড়াচ্ছে।" (যাদুল মাআদ ৪/১৮৪)।
  16. সহীহ মুসলিম (৫৭২৭)।
  17. দ্রষ্টব্য: ইবনুস সুন্নীর আমালু ইয়াওমিন ওয়া লাইলাহ, পৃ. ২১৪ ও ২১৫।
  18. ফাতহুল বারী ১০/১৯৫।
  19. বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান ১৩/৪৬৪ — আবু আহমদ আয-যুবাইরী সূত্রে: আমাদের কাছে সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, আমরা থেকে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে — এভাবেই। অথচ আবু আহমদ সুফইয়ানের হাদীসে বহু ভুলকারী, যেমনটি ইমাম আহমদ ও অন্যরা বলেছেন (আত-তাহযীব ৯/২৫৫)। আমি বলি: তাঁর ভুল এখানেই প্রকাশ পেয়েছে; কেননা ইমামগণের একাধিক দল ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাকে মাওকূফ রেখেছেন, মারফূ করেননি — আর এটিই সঠিক। তাঁদের মধ্যে আছেন ইমাম মালিক তাঁর (মুওয়াত্তা ২/৯৪৩)-এ ইয়াহইয়া সূত্রে, এবং আছেন সিকা রাবীদের একজন আবদুর রহীম ইবনে সুলাইমান আল-কিনানী — তিনিও ইয়াহইয়া থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তা বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী শাইবা (৭/৪০৮)। এর দ্বারা তুমি জানতে পারলে যে, আল্লামা আলবানী রহিমাহুল্লাহ (সিলসিলাতুস সহীহা ১৯৩১)-এ ইবনে হিব্বানের বর্ণনাটি উল্লেখ করে যে বলেছেন "এর সনদ সহীহ" — তা সঠিক নয়; বরং মাহফূয হলো, এটি মাওকূফ সহীহ, যেমনটি তুমি জানলে।
  20. আল-ইহসান ১৩/৪৬৪।
  21. আল-আদাব, পৃ. ৪৪৯।
  22. শারহু মাআনিল আসার ৪/৩২৬।
  23. দ্রষ্টব্য: যাদুল মাআদ ৪/৯৮।
  24. দ্রষ্টব্য: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/১৬১।
  25. দ্রষ্টব্য: মাজমূউল ফাতাওয়া ১৯/৬৪।
  26. দ্রষ্টব্য: মাজমূউল ফাতাওয়া ৭/২৬১।
অধ্যায় ২ সমাপ্ত
ZZB1ZZ

গ্রন্থ ও লেখক পরিচিতি

শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-উবাইদ
الشيخ عبد الله بن صالح العبيد
مكتبة مشكاة الإسلامية
মূল গ্রন্থ: الرقى الشرعية ووسائلها توقيفية أم اجتهادية

ZZB2ZZ

অনুবাদক পরিচিতি

রাকী ফয়সাল আহমেদ সাবিত
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
alquranicruqyahhealing.com

এই গ্রন্থের সম্পূর্ণ বাংলা অনুবাদ, পরিভাষা-নির্ধারণ ও উপস্থাপনা তাঁরই।


স্বত্ব ও ব্যবহার

মূল আরবি গ্রন্থের সমস্ত স্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত। এই বাংলা রূপান্তর মূল গ্রন্থের প্রতিস্থাপন নয়।

বাংলা অনুবাদটির স্বত্ব অনুবাদকের। অনুবাদকের অনুমতি ছাড়া এই অনুবাদ পুনঃপ্রকাশ, বিক্রয় বা নিজের নামে চালানো থেকে বিরত থাকুন। কারও উপকারে এলে দুআয় স্মরণ রাখবেন।

ZZB3ZZ

শেষ কথা: হাদিয়া (ঐচ্ছিক)

এই কিতাব অনুবাদে আমাদের শত শত ঘণ্টা এবং হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কেউ চাইলে আমাদের কাজের জন্য হাদিয়া পাঠাতে পারেন।

বিকাশ / নগদ / রকেট

০১৮৮৬৬০৮৯৯৯

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

শরঈ রুকইয়াহ ও তার মাধ্যম — তাওকীফি না ইজতিহাদি?

শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-উবাইদ
আল কুরআন রুকইয়াহ হিলিং সেন্টার
alquranicruqyahhealing.com
WhatsApp: 01886608999